কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০৮:৪৭ পি.এম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোয়াপাড়া গ্রামে জমি-সংক্রান্ত একটি বিরোধের শালিস বৈঠকে গ্রামের বাইরে থেকে লোক আনার অভিযোগ নিয়ে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সমাজপতিদের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায়েও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি হলো মৃত আব্দুর রফিক শেখের তিন ছেলে, তারা হলেন তারেক শেখ, ওবায়দুর শেখ ও খালিদ শেখের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গনির একটি দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য ২৪ জুলাই শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর, বিরোধের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৩০ জুলাই পুনরায় জমি মাপার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় রফিক শেখের পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামের বাইরে থেকে কয়েকজন লোক উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই স্থানীয়ভাবে একটি বৈঠক আয়োজন করা হয়। পরে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আবারও সভা অনুষ্ঠিত হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই সভায় পরিবারটিকে সামাজিকভাবে বর্জনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তাদের সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করতে না দেওয়া, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া এবং স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তেও নিষেধ করার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী খালিদ শেখ বলেন, "জমির শালিসে আমাদের পক্ষের কথা বলার জন্য গ্রামের বাইরে থেকে আত্মীয়-স্বজন এসেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। আমাদের সামাজিক সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করা হয়েছে এবং মসজিদে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হচ্ছে।"
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সমাজপতি আবুল সরকার বলেন, "গ্রামের বিষয় নিয়ে শালিস হলেও তারা বাইরে থেকে অনেক লোক নিয়ে এসেছিল। এ কারণে গ্রামের লোকজন মিলে তাদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে তারা আমার কাছে এসেছিল। আমি গ্রামের মানুষের কাছে ভুল স্বীকার করার কথা বলেছি।"
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল তালুকদার বলেন, "দুই দফা জমি মাপার সময় আমি শালিসে উপস্থিত ছিলাম। তবে পরবর্তীতে পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করার বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি।"
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, "কাউকে সামাজিকভাবে বর্জন করা মানবিক ও আইনসম্মত নয়। বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
আলফাডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, "ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে কারও বিচার করার সুযোগ নেই।"
এদিকে, ২৩ আগস্ট গভীর রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। জমি-বিরোধের কারণে কোনো পরিবারকে সামাজিকভাবে বর্জন এবং মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও তাদের স্বাভাবিক সামাজিক জীবন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান জানিয়েছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী সিলেকশন করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দলের মধ্য থেকে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারবে না।
রাশেদ খান বলেন, বিএনপি করার জন্য দলের কেন্দ্রীয় কমান্ডের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। এই বক্তব্য তিনি রবিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, মুক্তিযোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা যদি সেবা প্রদানের সময় সাধারণ মানুষের সাথে অসদাচরণ বা ঘুষ দাবির অভিযোগে জড়িত হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া, কালীগঞ্জ উপজেলার সকল সরকারি দপ্তরের গেটে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করার জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেন রাশেদ খান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কেউ হিংসার কারণে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাশেদ খান জানান, এলাকার উন্নয়নে বিরোধীদল স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে সকল দল একজোট হয়ে কাজ করা উচিত। তিনি আরও জানান, এই আসনে তাকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও গ্রুপিং বিভেদে তিনি পরাজিত হন।
এ কারণে স্থানীয় বিএনপি সাংগঠনিক অবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যারা ভুল করেছেন তারা ফিরে এসে দলের জন্য কাজ করবেন এবং দল গোছাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
মতবিনিময়ের সভায় কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান এবং কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : যশোর জেলার আটজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর ভুক্তভোগী যশোর জেলা কৃষক দলের সাবেক সহ-সভাপতি নূরনবী আজ রোববার নিজ থেকে বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তহিদুর রহমান ফন্টু চাকলাদার, সাবেক পৌর মেয়র রেন্টু চাকলাদার, শফি যিনি পাইপ শফি নামে পরিচিত, কালাম, রুবেল এবং রিন্টু।
যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল এই বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড এলাকার বাসিন্দা নূরনবীকে অস্ত্রের মুখে ডেকে নিয়ে মারধরের পর মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরে তাকে একটি নির্জনস্থানে নিয়ে ছুরি দিয়ে পায়ের রগ কেটে দুই হাত ও পায়ের হাড় ভেঙে ফেলা হয় এবং সেই সময় টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আসামিদের ভয়ে এতদিন মামলা করতে পারেননি বলেও জানান নূরনবী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি জেলা শহরের পূর্ব কৃষ্ণকাঠি এলাকায় অবস্থিত তৈয়বিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও পল্লী বিদ্যুৎ মসজিদকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার অডিটর মো. আবু মুসা ও সহকারী শিক্ষক কারী ইব্রাহিম ও ক্বারী নুরুল্লাহর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন ও বলাৎকারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কারী নুরুল্লাহর বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনা ও অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়গুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কারী নুরুল্লাহকে স্থানীয়রা আটক করেছিলেন। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান এবং বর্তমানে এলাকায় নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিতে পল্লী বিদ্যুতের সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মো. জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে।
তবে এ বিষয়ে জেনারেল ম্যানেজার মো. জুলফিকার রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইমামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করায় নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি গাড়িতে করে তাকে বরিশালে পাঠানো হয়েছিল। সরকারি গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ
তৈয়বিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আবু মুসা ও সহকারী শিক্ষক কারী ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন ও বলাৎকারের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আলোচনা থাকলেও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া আবু মুসার মাদ্রাসার অডিট-সংশ্লিষ্ট কাজে যাতায়াত এবং কামদেবপুর সিনিয়র মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। নলছিটি উপজেলার মানপাশা এলাকার একটি গার্লস স্কুলের এক ছাত্রীকে ঘিরে অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের কথাও স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তথ্য অনুসন্ধানে স্থানীয়দের কাছ থেকে মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব কৃষ্ণকাঠি তৈয়বিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নারী-পুরুষসহ পাঁচজনের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
এ অভিযোগের সঙ্গে মাদ্রাসার সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা, প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব গোলাম মর্তুজা, মাওলানা মো. খলিলুর রহমান, অধ্যক্ষ মো. নজরুল তালুকদার ও সাবেক কমিশনার মজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নূরানী মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বই যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়নি। এমনকি সরকারি বই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বইয়ের সংখ্যা, বিতরণ, সংরক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মাদ্রাসা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নামে বিদেশি সহায়তা সংগ্রহ এবং সেই অর্থের যথাযথ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন অনুদানের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে বিদেশি সহায়তার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদ্রাসা ও মসজিদকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া, সরকারি বই বিতরণ, পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম এবং শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে পূর্ব কৃষ্ণকাঠি তৈয়বিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব গোলাম মর্তুজার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার মো. জুলফিকার রহমান অডিটর আবু মুসাকে সরকারি গাড়িতে করে বরিশালে পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মাদ্রাসার শিক্ষক, অডিট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পরিচালনা কমিটি এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। বিশেষ করে শিশুদের যৌন নিপীড়ন এবং একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো পক্ষের প্রভাব ছাড়াই তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে অভিযোগগুলোর সত্যতা, দায়ী ব্যক্তি এবং ঘটনাগুলোর পেছনে কারও সহযোগিতা বা গাফিলতি ছিল কি না—তা পরিষ্কার হবে।
তবে এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর কোনোটিই আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত নয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফলই চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর, ২৩ আগস্ট ২০২৬ : জেলা প্রশাসনের মাসিক রাজস্ব সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইফুল ইসলাম কমল, জেলার পাঁচটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাসিক ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের অগ্রগতি, খাস জমি বন্দোবস্ত ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা নিশ্চিতকরণসহ ভূমি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পাশাপাশি জেলা প্রশাসক সরকারি ভূমি সংরক্ষণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ