প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোয়াপাড়া গ্রামে জমি-সংক্রান্ত একটি বিরোধের শালিস বৈঠকে গ্রামের বাইরে থেকে লোক আনার অভিযোগ নিয়ে একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সমাজপতিদের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায়েও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি হলো মৃত আব্দুর রফিক শেখের তিন ছেলে, তারা হলেন তারেক শেখ, ওবায়দুর শেখ ও খালিদ শেখের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিক শেখের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ওসমান গনির একটি দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য ২৪ জুলাই শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর, বিরোধের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৩০ জুলাই পুনরায় জমি মাপার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় রফিক শেখের পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামের বাইরে থেকে কয়েকজন লোক উপস্থিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই স্থানীয়ভাবে একটি বৈঠক আয়োজন করা হয়। পরে ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় চর নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আবারও সভা অনুষ্ঠিত হয় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই সভায় পরিবারটিকে সামাজিকভাবে বর্জনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তাদের সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করতে না দেওয়া, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া এবং স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তেও নিষেধ করার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী খালিদ শেখ বলেন, "জমির শালিসে আমাদের পক্ষের কথা বলার জন্য গ্রামের বাইরে থেকে আত্মীয়-স্বজন এসেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। আমাদের সামাজিক সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করা হয়েছে এবং মসজিদে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হচ্ছে।"
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সমাজপতি আবুল সরকার বলেন, "গ্রামের বিষয় নিয়ে শালিস হলেও তারা বাইরে থেকে অনেক লোক নিয়ে এসেছিল। এ কারণে গ্রামের লোকজন মিলে তাদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে তারা আমার কাছে এসেছিল। আমি গ্রামের মানুষের কাছে ভুল স্বীকার করার কথা বলেছি।"
স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল তালুকদার বলেন, "দুই দফা জমি মাপার সময় আমি শালিসে উপস্থিত ছিলাম। তবে পরবর্তীতে পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করার বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি।"
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, "কাউকে সামাজিকভাবে বর্জন করা মানবিক ও আইনসম্মত নয়। বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
আলফাডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, "ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে কারও বিচার করার সুযোগ নেই।"
এদিকে, ২৩ আগস্ট গভীর রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। জমি-বিরোধের কারণে কোনো পরিবারকে সামাজিকভাবে বর্জন এবং মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও তাদের স্বাভাবিক সামাজিক জীবন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন