মো আব্দুল বারেক উপজেলা প্রতিনিধি
০৪:১৬ পি.এম
পুলিশ সদস্যদের উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে গত ০১/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ লালমনিরহাট জেলা পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে ঈদ আনন্দ উৎসব ও এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি মহোদয় ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আমিনুল ইসলাম, ডিআইজি, রংপুর রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ, রংপুর মহোদয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান মহোদয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব লায়লা হাবিব, সহধর্মিনী, মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী, জনাব শাহানা আক্তার, উপদেষ্টা, পুনাক, রংপুর রেঞ্জ, রংপুর।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আকবর আলী মুন্সী, কমান্ড্যান্ট, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, লালমনিরহাট ও জনাব মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান, জেলা প্রশাসক, লালমনিরহাট, জনাব এ কে এম মমিনুল হক, প্রশাসক, জেলা পরিষদ, লালমনিরহাট, জনাব ডা. আব্দুল হাকিম, সিভিল সার্জন, লালমনিরহাট, জনাব মেহেদী ইমাম, পিএসসি, লেফটেন্যান্ট কর্নেল, কমান্ডিং অফিসার, লালমনিরহাট। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোছাঃ জাকিয়া সুলতানা, সহধর্মিনী, জেলা প্রশাসক, লালমনিরহাট এবং জনাব লুবনা জাহান, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), লালমনিরহাট এর সভানেত্রী ও সহধর্মিনী পুলিশ সুপার, লালমনিরহাট।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুলিশ শিল্পীদের পাশাপাশি স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীবৃন্দের অসাধারণ পরিবেশনায় মনোরম ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সুপার মহোদয়ের এই উদ্দ্যোগ মূলত লালমনিরহাট জেলা পুলিশের অফিসার ও ফোর্সদের মধ্যে কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাহাদত হোসেন সুমা, বিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), লালমনিরহাট, জনাব এ কে এম ফজলুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এ-সার্কেল, লালমনিরহাট, জনাব জয়ন্ত কুমার সেন, সহকারী পুলিশ সুপার, বি-সার্কেল, লালমনিরহাট, জনাব জয়ন্ত কুমার সেন, সহকারী পুলিশ সুপার, বি-সার্কেল, লালমনিরহাট, পুনাক নেতৃবৃন্দ এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সেই লক্ষ্যেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ক্যারিবীয়রা।
দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরেছেন বাঁহাতি ব্যাটার শিমরন হেটমায়ার।
২০২৫ সালের জুনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবার ওয়ানডে খেলেছিলেন হেটমায়ার।
এরপর সাদা বলের এই সংস্করণে আর সুযোগ পাননি তিনি।
তবে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আবারও নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছেন এই মারকুটে ব্যাটার।
টুর্নামেন্টে তিনি ৪১.৩৩ গড়ে ২৪৮ রান করেন, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৬.৪৬।
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই হেটমায়ারকে ওয়ানডে দলে ফেরানো হয়েছে।
পাশাপাশি আগামী বছরের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দলে আরও ফিরেছেন পেসার আলজারি জোসেফ, যিনি চোট কাটিয়ে আবারও মাঠে নামতে প্রস্তুত।
নিউজিল্যান্ড সিরিজে জায়গা না পাওয়া স্পিনার গুডাকেশ মোতিকেও স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া পেস আক্রমণে থাকছেন শামার জোসেফ ও জেডন সিলস।
দুই তরুণ পেসারের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৩ জুন।
জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম ম্যাচ।
একই ভেন্যুতে ৬ ও ৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচও।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে স্কোয়াড:
শাই হোপ (অধিনায়ক), আকিম অগুস্তে, জন ক্যাম্পবেল, কেসি কার্টি, রোস্টন চেইস, ম্যাথু ফোর্ড, জাস্টিন গ্রিভস, শিমরন হেটমায়ার, আমির জাঙ্গু, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ, গুডাকেশ মোতি, শেরফান রাদারফোর্ড, জেডন সিলস ও শামার স্প্রিঙ্গার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী নদীর মাঝখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিএসআরএম গ্রুপের স্থাপন করা পানির পাম্পের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতভিটা এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন, যা নদী থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত, সে স্থানটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে সেতুর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা গুলজার হোসেন জানান, এক সময় ফেনী নদী তাদের গ্রাম থেকে অনেক দূরে প্রবাহিত হতো। কিন্তু নদীর মাঝখানে পানির পাম্প বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙন গ্রামের দিকে ধাবিত হয়ে বহু একর ফসলি জমি গ্রাস করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে সরকার প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে যে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল, তার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের ব্যাপক অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে গ্রামের অসংখ্য পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, নদীভাঙনের কারণে আরও অনেক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় সেগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তারা ফেনীর জেলা প্রশাসক এবং ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন।
নিজকুঞ্জরা গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, “নদীভাঙন এভাবে চলতে থাকলে পুরো গ্রামই একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। আমরা আমাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবিকা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। সরকার যেন দ্রুত তদন্ত করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসী অবিলম্বে নদীভাঙনের কারণ অনুসন্ধান, পানির পাম্প স্থাপনের প্রভাব মূল্যায়ন এবং নিজকুঞ্জরা গ্রাম রক্ষায় জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু নিজকুঞ্জরা গ্রাম নয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রেললাইন, রেলওয়ে সেতু এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই বছরের বিরতির পর এবারের ঈদুল আজহায় নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। সাইফ চন্দন পরিচালিত অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘মালিক’-এ তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং দীর্ঘ বিরতি নিয়ে এক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি।
মিম বলেন, ‘দুই বছরের এই বিরতি আমার কাছে অনেক দীর্ঘ সময় মনে হয়েছে। এই সময়ে দর্শকরা বারবার জানতে চেয়েছেন, নতুন সিনেমা কবে আসবে। আমি আসলে তাদের জন্য কাজ করতে চেয়েছি, কিন্তু নানা কারণে হয়ে ওঠেনি। তাই এবার ঈদে ‘মালিক’ নিয়ে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। দর্শকদের ভালোবাসা ও আগ্রহ দেখে মনে হচ্ছে অপেক্ষাটা সার্থক হয়েছে।’
দীর্ঘদিন নতুন সিনেমায় দেখা না যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কাজের প্রস্তাবের অভাব ছিল না। তবে তিনি গল্প, চরিত্র এবং পুরো প্রজেক্ট বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর ভাষায়, ‘শুধু পর্দায় উপস্থিত থাকার জন্য কাজ করা উচিত নয়; এমন কিছু করা উচিত, যা দর্শকের মনে থাকে।’
‘মালিক’ সিনেমায় কাজ করার বিষয়টি সম্পর্কে মিম জানান, এটি ঈদকে সামনে রেখে পরিকল্পিত একটি বড় প্রজেক্ট ছিল। গল্প এবং অ্যাকশনধর্মী উপস্থাপনাও তাঁর কাছে আলাদা লেগেছে। পাশাপাশি আরিফিন শুভর উপস্থিতিও তাঁকে আগ্রহী করেছে।
সিনেমায় মিম অভিনয় করেছেন ‘মায়া’ চরিত্রে। চরিত্রটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দর্শক আমাকে এখানে দুই রূপে দেখতে পাবেন। একদিকে সে খুব চঞ্চল ও প্রাণবন্ত, অন্যদিকে তার আরেকটি ভিন্ন দিকও রয়েছে। চরিত্রটির বিভিন্ন স্তর আছে, যা অভিনয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।’
চরিত্রটিকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে মিম বলেন, ‘আমি তো দশে দশই দেব। তবে স্বীকৃতি দিতে হবে দর্শকদের। যদি চরিত্রটি দর্শকদের ভালো লাগে, তাহলেই আমার কাছে এটা বড় প্রাপ্তি।’
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী মিম। তিনি মনে করেন, দর্শক এখন হলে গিয়ে বাংলা সিনেমা দেখছেন, নতুন গল্প গ্রহণ করছেন এবং ভালো কনটেন্টকে সমর্থন দিচ্ছেন, যা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মিম জানান, তিনি সব সময় ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করতে চান। সংখ্যার চেয়ে মানসম্পন্ন কাজকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
সবশেষে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মিম বলেন, দীর্ঘ বিরতির পরও তারা আমাকে এত ভালোবাসা দিয়েছেন, এটা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। আশা করি সবাই পরিবার নিয়ে ‘মালিক’ উপভোগ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নরওয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি-সহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ১৯৭২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে নরওয়ের প্রারম্ভিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান যে, নরওয়ে এখন চিরাচরিত উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে সরে এসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে। মন্ত্রী নরওয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নরওয়েতে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন।
তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো উচ্চ-মূল্যের পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বড় আকারের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা অন্যতম প্রধান দেশ। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এবং নরফান্ড-এর ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব ও কম-কার্বন প্রযুক্তির প্রকল্পগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, তিনি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে নরওয়ের শিক্ষাবৃত্তির আওতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
বৈঠকে নরওয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি জনগণের চমৎকার ভূমিকার প্রশংসা করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করছে।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) প্রতি নরওয়ের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সক্রিয় কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে আশ্বস্ত করেন যে, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের একাত্মতা ও সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় পাশে থাকবে।
সভায় নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-৩ শাখার উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ