ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি: রাজতন্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য কি নতুন আরব বসন্তের বার্তা?


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি: রাজতন্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য কি নতুন আরব বসন্তের বার্তা?
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের অবৈধ সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাস্তবতা যে আমূল বদলে গেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার প্রদর্শন এবং সংঘাতকে আঞ্চলিক মাত্রায় বিস্তৃত করার সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি রাষ্ট্রকে নতুন হিসাব-নিকাশে বাধ্য করেছে। এখন প্রশ্ন আর শুধু ইরান-ইসরাইল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নয়; বরং প্রশ্ন হচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি অনুযায়ী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রে থাকা মার্কিন এই ঘাঁটিগুলো যতদিন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে, ততদিন রাষ্ট্রগুলো এমন আরব বসন্তের ঝুঁকির মুখে থাকবে। এমনকি শুধু সেই ঘাঁটি গুলোই নয়; বরং সেগুলোকে আশ্রয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। কারণ যুদ্ধের প্রতিটি নতুন ধাপ মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্নকে আরও জোরালো করছে—কেন তাদের ভূখণ্ড অন্য একটি মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হবে?

ইরান ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত রাষ্ট্রগুলোর জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তাদের দেশ বিদেশি সামরিক আগ্রাসনের ঘাঁটিতে পরিণত না হয়। এই আহ্বান কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু স্পষ্ট যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জনমতের ওপর এর প্রভাবও বাড়বে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে রাষ্ট্রের ভেতরের ক্ষোভ আর আগের মতো সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে আঞ্চলিক জনমতে রূপ নিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বহু রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে। এমন বাস্তবতায় যদি জনগণের একটি অংশ এই ধারণায় পৌঁছে যে, তাদের রাষ্ট্র বিদেশি শক্তির সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে গেছে, তাহলে সেই অসন্তোষ নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন।

আরব বসন্তের ইতিহাস দেখিয়েছে, কখন কোন ক্ষোভ বিস্ফোরণে রূপ নেবে, তা অনেক সময় শাসকরাও বুঝে উঠতে পারেন না। অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক বঞ্চনা, মানবাধিকার প্রশ্ন এবং বহিরাগত সামরিক জোট—এই কয়েকটি উপাদান একসঙ্গে মিললে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বর্তমান সংঘাত সেই উপাদানগুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব রাষ্ট্রে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কি নিজেদের ভূখণ্ডকে আঞ্চলিক যুদ্ধের সামনের সারিতে রাখবে, নাকি নিজেদের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মুসলিম দেশ এবং ইরানের সাথে অংশগ্রহণমূলক ভাবে সম্মিলিতভাবে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণ করবে। কারণ যুদ্ধের আগুন একবার রাষ্ট্রের ভেতরের জনঅসন্তোষের সঙ্গে মিশে গেলে তা শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা শাসনব্যবস্থার ভিতও কাঁপিয়ে দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় তাই এমন আশঙ্কা করা অমূলক নয়—যদি এসব রাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের সুযোগ অব্যাহত রাখে, তাহলে নতুন করে একটি আরব বসন্তের মতো আন্দোলনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেটি কখন, কোথায় বা কীভাবে ঘটবে—তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা হলো, যখন জনগণের ক্ষোভ, আঞ্চলিক যুদ্ধ এবং বহিরাগত সামরিক উপস্থিতি একই বিন্দুতে এসে মিলিত হয়, তখন রাজনৈতিক বিস্ফোরণ আর কেবল তাত্ত্বিক আশঙ্কা হয়ে থাকে না; তা বাস্তব সম্ভাবনায় পরিণত হতে পারে এমন আশঙ্কা করা আজকের দিনে অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর (মিক্সড ফ্লিট) গড়ে তুলতে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সরকার দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়নে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায়।

আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি, প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের সৌজন্য সাক্ষাতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা, জার্মানির ভারপ্রাপ্ত মিশনপ্রধান (শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) আনইয়া টার্সটেন এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের উপপ্রধান বাইবা জেরিনা।

আলোচনায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভবিষ্যৎ বহর উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

তারা এ বিষয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য একটি টেকসই মিশ্র বিমান বহর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান। তারা এয়ারবাসের প্রস্তাবিত বিমান সংগ্রহের পাশাপাশি সামগ্রিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা জোরদারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়া এবং বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এ সময় দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচি।

সরকারের বিমান বহর আধুনিকায়ন এবং দেশের বিমান পরিবহন অবকাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জায়গা সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধান-চাল সংগ্রহে ধীরগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


জায়গা সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধান-চাল সংগ্রহে ধীরগতি

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাদ্য গুদামগুলোতে জায়গা সংকট কারণে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে।

ফলে বর্তমানে নির্ধারিত সময়ে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খাদ্য গুদামগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। যদিও খাদ্য বিভাগের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ধান-চাল সংগ্রহ সম্পন্ন হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করে থাকে। চলতি বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ২০৮ টন ধান, ৪৯ টাকা কেজিতে ৭১ হাজর ৪২৫ টন সিদ্ধ চাল এবং ৪৮ টাকা কেজি দরে ৪ হাজার ৯৯৩ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জেলাসম্পর্কিত খাদ্য বিভাগ। গত ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ হবে আগামী ৩১ আগস্ট।

তবে শুরু থেকেই জেলার খাদ্য গুদামগুলোতে জায়গা সংকটের কারণে ধীরগতি দেখা দেয় সংগ্রহ অভিযানে। খাদ্য গুদামগুলোর স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৫০০ টন হলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে ৩০ হাজার ৮৫৯ টন খাদ্যশস্য। এছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারসহ আশপাশের জেলার গুদামগুলোতেও জায়গা সংকট রয়েছে। ফলে সেখানেও খাদ্যশস্য পাঠানো যাচ্ছে না। এতে করে গুদামে জায়গা না থাকায় ধান-চাল সংগ্রহ চলছে ধীরগতিতে।

এখন পর্যন্ত জেলায় ধান সংগ্রহ হয়েছে ১০ হাজার ৩৪৩ টন, সিদ্ধ চাল ৪৭ হাজার ৫২৫ টন এবং আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ১৪৮ টন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কানিজ জাহান বিন্দু বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গুদাম থেকে খাদ্যশস্য পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে সপ্তাহখানেক ধরে সংগ্রহ অভিযান কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। তবে ইতোমধ্যে ৬৮ শতাংশ ধান ও চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ধান ও চাল সংগ্রহ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩ বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু না হলে নকশার অনুমোদন বাতিল: মউক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


৩ বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু না হলে নকশার অনুমোদন বাতিল: মউক

 

ময়মনসিংহ নগরীতে ভবনের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণকাজে কঠোর নজরদারির ঘোষণা দিয়েছে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মউক)।

এক্ষেত্রে, নকশা অনুমোদনের আগে সরেজমিনে জমি পরিদর্শন করা হবে। এরপর, অনুমোদনের পর তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু না হলে নকশার অনুমোদন বাতিল করা হবে।

এছাড়াও, নির্মাণকাজ চলাকালেও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আজ বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ গণপূর্ত ভবনে মউকের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মউকের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার।

তিনি জানান, "ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন কার্যকর হওয়ার পর নগরীর সব ভবনের নকশা বিসি কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে পাস হবে।" নয় সদস্যের কমিটির সভাপতি হিসেবে চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন।

সভা শেষে, মউকের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরুর বার্তা দিয়ে চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ইতোমধ্যে নকশা অনুমোদনের জন্য কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে। অনুমোদনের আগে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিদর্শকরা জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।

রাস্তার সংযোগ, নির্ধারিত সেটব্যাক, খোলা জায়গা এবং অন্যান্য বিধিমালা প্রতিপালন করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পরেই নকশা অনুমোদন দেওয়া হবে।

এরপর ভবন নির্মাণের সময়ও নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মউক চেয়ারম্যান আরো জানান, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পর নগরীর আগে থেকে নির্মিত ভবনগুলোও পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হবে। যেখানে সম্ভব ভবন সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা করা হবে।

জরিমানার অর্থ মউকের তহবিলে জমা হয়ে নগর উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে, সব ভবনে পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, "আবাসন সংকট নিরসনে ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড়ে পরিকল্পিত নতুন নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" সেখানে, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আবাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস ও পার্কসহ আধুনিক নাগরিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে অধিগ্রহণ করা ৯৪৫ একর জমির একটি অংশ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এ সময় নগরীর যানজট নিরসনে ময়মনসিংহকে মেট্রোপলিটন এলাকা ঘোষণা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মউক চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, "নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিকল্পিত নগর গঠনে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে।"

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মউক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্রের ওপারে পরিকল্পিত একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।" সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পিত নগরায়ন করার জন্য প্ল্যান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিসি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মউক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে কমিটির ৯ জন সদস্যের সবাই উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দুইজন সদস্য ভার্চুয়ালী অংশগ্রহণ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মউকের বিসি কমিটির সদস্য সচিব গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সিগ্ধা দাস, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাইকা বিনতে আলম, মউকের অথরাইজড কর্মকর্তা ইফতেখার আলম, পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইশরাত জাহান।

মউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, অতীতে যারা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে ছিলেন তারা অতিরিক্ত যানবাহনের লাইসেন্স দিয়ে যানজট সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান সিটি প্রশাসক যানজট নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

তিনি যোগ করেন, "সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিতে কাজ করবো।" এ সময় তিনি নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে বলেন, "সিটিকরপোরেশনের খাল পুনঃ খনন করা হলে সামান্য বৃষ্টিতে আর জলাবদ্ধতা হবে না।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে প্রধানমন্ত্রী

‘বে টার্মিনাল’ চালু হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শুভসূচনা হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


‘বে টার্মিনাল’ চালু হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শুভসূচনা হবে

চট্টগ্রামে ‘বে টার্মিনাল’ চালু হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শুভসূচনা হবে।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কথা জানিয়েছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ছিল- বিগত সরকার ‘বে টার্মিনাল’ নামে সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার নামে কোটি কোটি টাকা অপচয় করে অসমাপ্ত অবস্থায় এটি ফেলে গেছে। এই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে বলেছেন, “এই বে টার্মিনাল এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকরণ করার জন্য বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার কি কি পদক্ষেপ নেবে?” প্রধানমন্ত্রী জবাবে বলেন, “এই প্রশ্নের ডিটেইলটা এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। আপনি নোটিশ দিলে আমি আপনাকে ডিটেইলটা জানাতে সক্ষম হব। তবে বে টার্মিনাল- এর বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আপনাকে আমি বলতে পারি যে, বে টার্মিনালটা চালু হলে পরে অবশ্যই এটার একটা উপকারিতা আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং দেশের জন্য হবে।” প্রধানমন্ত্রী যুক্ত করেন, “বে টার্মিনাল চালু হলে বড় আকারে আমাদের মাদার ভেসেল সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে ভিরতে পারবে। এখন নাব্যতার কারণে অনেক সময় বড় জাহাজ আসতে পারে না। যখন বড় জাহাজগুলো মাদার ভেসেলগুলো আসবে, তখন স্বাভাবিকভাবে ট্রান্স ব্যয় বা খরচ অনেক কমে আসবে।” “একই সঙ্গে বড় জাহাজগুলো আসার পরে এবং বে টার্মিনাল চালু হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্যের বা আমদানি রপ্তানির গতি বৃদ্ধি পাবে, এটি জাতীয় অর্থনীতিতে একটি বড় ইতিবাচক ভূমিকাও রাখবে।” ‘এখানে দুর্নীতি হলে ব্যবস্থা’ এই শিরোনামে সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাকে জানাতে চাই যে, চট্টগ্রাম বন্দরটি দেশের সম্পদ এবং এটি একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জনগণের সম্পদ। এখানে কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি দুর্নীতি ঘটে থাকে, সেটি যখনই ঘটুক, অবশ্যই দেশের আইন অনুযায়ী যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিচার হবে।” তিনি আরও বলেন, “একই সঙ্গে আমাদের সরকারের প্রচেষ্টা থাকবে যেন যেকোনো জায়গায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় না হয় এবং আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যে, দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিবেশ পর্যায়ক্রমিকভাবে গড়ে তোলা।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%