মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
০১:২৭ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের লনাবাইদ গ্রামের বাসিন্দা, উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং ষোলরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মরহুম মো. জিল্লুর রহমান মাস্টার-এঁর স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা ও পৌরসভা প্রবাসী জিয়া পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান।
এসময় ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন মোর্শেদ নিজামী বাবুল-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম আলী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আরশ মিয়া, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক জসীম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটন, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বিপ্লব, ছয়সূতী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলী হায়দার ভূঁইয়া ও উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সোহেল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মরহুম মো. জিল্লুর রহমান মাস্টার শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সৎ, আদর্শবান ও জনকল্যাণে নিবেদিত মানুষ। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন।
একই সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সততা, সৌহার্দ্য ও মানবিকতা তাঁকে সর্বমহলে শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে কুলিয়ারচরে একজন গুণী শিক্ষক, অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে হারিয়েছে, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
আলোচনা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তওফিক কামনা করা হয়।
দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ছয়সূতী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলী হায়দার ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শুরু হয় এবং শেষে মরহুমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এপেক্স ক্লাব অব রাঙ্গামাটি জেলা পর্যায়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করেছে। সংগঠনটির ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্সের হলরুমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট-৩ ট্রেজারার, সাবেক সভাপতি আলী বাবর, এপেক্স ক্লাব অব রাঙ্গামাটি।
এপেক্স ক্লাবের সভাপতি শাব্বির আহমদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী এন্ড ডিনার নোটিশ এডিটর এপে. বদিউল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় এই ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এপেক্স ক্লাব অব রাঙ্গামাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এপে. নিজাম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি এপে. আবুল মনসুর ওবায়দুল্লাহ, এপে. শামীম জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এপে. শাশ্বত চাকমা রিংকু, সহসভাপতি শাহিদা আক্তার এবং সহসভাপতি এপে. নেছার আহমেদ সহ আরও অনেকেই।
এই অনুষ্ঠানে জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে চাল, ডাল, আলু, পিয়াজসহ নানা রকমের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই নারী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের পূর্ব খলেয়া রথবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা বাবুপাড়া গ্রামের দুলাল সরকারের স্ত্রী রাধা রানী সরকার (৪০) এবং অন্যজন হলেন দ্বিজেন্দ্র নাথ সরকারের স্ত্রী অঞ্জনা রানী সরকার (৫০)। আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলচালক অজিত চন্দ্র সরকারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে জলঢাকা থেকে একটি বালুবাহী ট্রাক পাগলাপীরের দিকে যাচ্ছিল। রথবাড়ী এলাকায় পৌঁছানোর পর বিপরীত দিকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী প্রাণ হারান এবং মোটরসাইকেলচালক গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক এবং তার সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশের সূত্রে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। একই সময় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক এবং মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ‘জুলাই ম্যারাথন ও অদম্য জুলাই-২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৫ জুলাই (শনিবার) সকাল ৮টায় নীলফামারী শহর শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে নীলফামারীর ডালপট্টি এলাকা থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়। ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ম্যারাথনটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
ম্যারাথন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল। শহর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সেলিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি সোহাগের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাবেক শিবির সভাপতি আহমদ রায়হানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ম্যারাথন ও অদম্য জুলাই শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বক্তব্য রাখেন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল বলেন, “সরকার নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তা নিয়ে চরম টালবাহানা করছে। তারা এই ঐতিহাসিক সনদ বাস্তবায়নকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যদি জুলাই সনদের দাবি ও রায় বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এই দেশের ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নেমে তা বাস্তবায়ন করে ছাড়বে।”
নীলফামারী শিবিরের শহর শাখার সভাপতি সেলিমুদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “যেভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি, তেমনি বর্তমান সরকারও যদি পুনরায় ফ্যাসিস্ট হতে চায়, তবে আমরা রাজপথে নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকব না। আবারো রাজপথে নেমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে একটি বৈষম্যহীন নতুন দেশ গঠন করব।”
সাবেক শিবির সভাপতি আহমদ রায়হান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদেরকে যারা গুপ্ত বলে অপপ্রচার চালান, মূলত তারাই ১৭ বছর ধরে বিদেশে পালিয়ে থেকে প্রকৃত ‘গুপ্ত’ হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমান সরকারকে যেন ভূতে ধরেছে; তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ও রায়কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও শহিদদের রক্তে অর্জিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। রাজপথে নামার আগেই সরকারকে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে দ্রুত শহিদদের ত্যাগকে মর্যাদা দিতে হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।”
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট বার্তা দেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের ত্যাগ বিফলে যেতে দেওয়া হবে না এবং সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ছাত্র-জনতার আন্দোলন সার্থক হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অব্যাহত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন একটি সমীকরণ তুলে ধরেছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কমাণ্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় নিহত প্রতিটি ইরানি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য প্রতিশোধ নেওয়া হবে, এবং প্রতিটি নিহতের বদলা একজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর মাধ্যমে নেওয়া হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া হেডকোয়ার্টার্স'-এর অধীনে কাজ করা এই কমাণ্ডার বলেছেন, এই নীতিটি এখন আর শুধুমাত্র একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি একটি কার্যকর সামরিক কৌশল বা 'অপারেশনাল ডকট্রিন'।
তিনি উল্লেখ করেছেন, তেহরান আগে যে নীতি নির্ধারণ করেছিল, সেটি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি নিহত ইরানি নাগরিকের পরিবর্তে প্রতিশোধ হিসেবে একজন মার্কিন সেনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেছেন, আমরা আপনাদের জন্য নরকে যাওয়ার 'ফ্রি' এবং সরাসরি টিকিট প্রস্তুত করে রেখেছি।
এটি ঘটে যখন ইরানজুড়ে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসন চলছে ১৩তম রাত পর্যন্ত। এসব হামলায় সেতু ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় ৫৫ জন নিহত এবং ৬৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর জবাবে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
শুক্রবার, 'ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর' (আইআরজিসি) এবং ইরানি সেনাবাহিনী কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরবিলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নিয়ে পৃথক হামলার ঘোষণা দেয়। আইআরজিসি যেসব দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেসব দেশের বাসিন্দাদের উপদেশ দিয়েছে যেন তারা মার্কিন বাহিনীর অবস্থানস্থল থেকে অন্তত ৫০০ মিটার দূরে চলে যান। একইসঙ্গে, তারা আরও হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
ওয়াশিংটন স্বীকার করেছে, জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন এবং ইরাকের একটি স্থানে আরও একজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটা দেখা যাচ্ছে যে, মার্কিন হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারিভাবে ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ