নীলফামারী স্টাফ রিপোর্টার রায়হান আলী
০১:৩২ পি.এম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ‘জুলাই ম্যারাথন ও অদম্য জুলাই-২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৫ জুলাই (শনিবার) সকাল ৮টায় নীলফামারী শহর শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে নীলফামারীর ডালপট্টি এলাকা থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়। ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ম্যারাথনটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
ম্যারাথন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল। শহর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সেলিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি সোহাগের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাবেক শিবির সভাপতি আহমদ রায়হানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ম্যারাথন ও অদম্য জুলাই শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বক্তব্য রাখেন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল বলেন, “সরকার নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তা নিয়ে চরম টালবাহানা করছে। তারা এই ঐতিহাসিক সনদ বাস্তবায়নকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যদি জুলাই সনদের দাবি ও রায় বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এই দেশের ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে নেমে তা বাস্তবায়ন করে ছাড়বে।”
নীলফামারী শিবিরের শহর শাখার সভাপতি সেলিমুদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “যেভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি, তেমনি বর্তমান সরকারও যদি পুনরায় ফ্যাসিস্ট হতে চায়, তবে আমরা রাজপথে নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকব না। আবারো রাজপথে নেমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে একটি বৈষম্যহীন নতুন দেশ গঠন করব।”
সাবেক শিবির সভাপতি আহমদ রায়হান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদেরকে যারা গুপ্ত বলে অপপ্রচার চালান, মূলত তারাই ১৭ বছর ধরে বিদেশে পালিয়ে থেকে প্রকৃত ‘গুপ্ত’ হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমান সরকারকে যেন ভূতে ধরেছে; তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ও রায়কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও শহিদদের রক্তে অর্জিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। রাজপথে নামার আগেই সরকারকে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে দ্রুত শহিদদের ত্যাগকে মর্যাদা দিতে হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।”
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট বার্তা দেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের ত্যাগ বিফলে যেতে দেওয়া হবে না এবং সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ছাত্র-জনতার আন্দোলন সার্থক হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অব্যাহত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন একটি সমীকরণ তুলে ধরেছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কমাণ্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় নিহত প্রতিটি ইরানি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য প্রতিশোধ নেওয়া হবে, এবং প্রতিটি নিহতের বদলা একজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর মাধ্যমে নেওয়া হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া হেডকোয়ার্টার্স'-এর অধীনে কাজ করা এই কমাণ্ডার বলেছেন, এই নীতিটি এখন আর শুধুমাত্র একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি একটি কার্যকর সামরিক কৌশল বা 'অপারেশনাল ডকট্রিন'।
তিনি উল্লেখ করেছেন, তেহরান আগে যে নীতি নির্ধারণ করেছিল, সেটি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি নিহত ইরানি নাগরিকের পরিবর্তে প্রতিশোধ হিসেবে একজন মার্কিন সেনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেছেন, আমরা আপনাদের জন্য নরকে যাওয়ার 'ফ্রি' এবং সরাসরি টিকিট প্রস্তুত করে রেখেছি।
এটি ঘটে যখন ইরানজুড়ে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসন চলছে ১৩তম রাত পর্যন্ত। এসব হামলায় সেতু ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় ৫৫ জন নিহত এবং ৬৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর জবাবে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
শুক্রবার, 'ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর' (আইআরজিসি) এবং ইরানি সেনাবাহিনী কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরবিলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান নিয়ে পৃথক হামলার ঘোষণা দেয়। আইআরজিসি যেসব দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, সেসব দেশের বাসিন্দাদের উপদেশ দিয়েছে যেন তারা মার্কিন বাহিনীর অবস্থানস্থল থেকে অন্তত ৫০০ মিটার দূরে চলে যান। একইসঙ্গে, তারা আরও হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
ওয়াশিংটন স্বীকার করেছে, জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন এবং ইরাকের একটি স্থানে আরও একজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এটা দেখা যাচ্ছে যে, মার্কিন হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারিভাবে ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী শহরের নবাবপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মাজেদ আল খতিব (৭৩) নামে এক সিরীয় নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত মাজেদ আল খতিব সিরিয়ার নাগরিক হলেও তিনি বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী ছিলেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ওই বাসার একটি কক্ষের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী শহরের নবাবপাড়া এলাকায় ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মাজেদ আল খতিবের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান তাকে খাবার দিতে আসা ব্যক্তি। বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হলে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় খাটের ওপর তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে শারীরিক পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তিনি মারা গেছেন।
বাড়ির মালিক কে এম শাহাদাত খান বলেন, ‘মাজেদ আল খতিব দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি খুবই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেন এবং ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাঝে মাঝে তার পরিবারের সদস্যরাও তার কাছে আসতেন। শুক্রবার তাকে খাবার দিতে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। পরে আমি এসে দরজা বন্ধ দেখে পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে।’
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মৃত ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। তার বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে এবং পরিবারও বাংলাদেশে রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে রাখা হয়েছে। তার ছেলে পটুয়াখালীতে এসেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্ধ্যার সময় দেশের ৬টি অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।অনলাইন ডেস্ক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই সকল অঞ্চলের নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উপরে উল্লেখিত তথ্য জানিয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, नোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই পূর্বাভাসে এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ শহরের ডিগ্রি কলেজ এলাকার ‘জননী’ নামক একটি ছাত্রাবাস থেকে ইমন হোসেন (২৫) নামক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টার সময় নওগাঁ সদর মডেল থানা-পুলিশ ওই ছাত্রাবাসের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ঐ মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ইমন মান্দা উপজেলার মাগুরা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি নওগাঁ সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও মেসের সূত্র থেকে জানা গেছে যে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ইমন গ্রামের বাড়ি থেকে মেসে ফিরে আসেন। রাতের খাবার শেষে অন্যান্য সহপাঠীর সঙ্গে তিনি নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান। পরের দিন শনিবার সকালে, কক্ষের দরজা না খোলায় সহপাঠীদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তারা ডাকাডাকির মাধ্যমে দরজায় সাড়া না পেয়ে পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে দেন। খবর পাওয়ার পর, নওগাঁ সদর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ইমনের মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুনিরাজ্জামান বলেন, ৯৯৯-এ সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মরদেহটি উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে খবর দেওয়া হলে তারা হাসপাতালে পৌঁছেছেন।
ওসি আরও জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ