ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেখ হাসিনাসহ তিনজনের সাজা নিয়ে আপিল নিষ্পত্তি হয়নি সাত মাসেও


শেখ হাসিনাসহ তিনজনের সাজা নিয়ে আপিল নিষ্পত্তি হয়নি সাত মাসেও

রায়ের ৭ মাস অতিবাহিত হলেও জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের সাজার আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। একই রকম অবস্থা আরও কয়েকটি মামলার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। যদিও আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে আপিলের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে এবং আপিল করার পর তা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আপিল শুনানির জন্য এখনও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়নি প্রসিকিউশনের প্রস্তুতির অভাবে।

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমাতে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে এবং ৫ আগস্ট ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশকে মৃত্যুর মুখে ফেলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ একের পর এক পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতাগণ।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মামলায় একটি অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আরেকটি অভিযোগে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ডের শাস্তি দেয়া হয়। একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের সাজা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল

গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও কামালের সাজা বাড়ানোর জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করে প্রসিকিউশন। কিন্তু ওই আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা বলা হলেও এর বাস্তবায়ন হয়নি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৬০ দিনের ডাইরেক্টরি বিধান রয়েছে। যদি ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না হয়, তবে আপিলটি এনফ্রেকচুয়াস হয়ে যাবে না। মানে আপিলটি বহাল থাকবে। আর মেন্ডেটরি হয় সেই বিষয়টিতে, যেখানে কনসিকোয়েন্সটি বহাল থাকে।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, প্রস্তুতির অভাবের কারণে আপিল শুনানি আটকে আছে। একই অবস্থায় রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে চাঁনখারপুলে হত্যাযজ্ঞ এবং আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ পোড়ানোর মামলা।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, আমরা এখন পর্যন্ত শুনানির জন্য কোনো উদ্যোগ নেইনি। আমরা উদ্যোগ নিইনি কারণ, আমাদের প্রস্তুতি নিতে পারেনি আপিলটির জন্য।

আরও পড়ুন: মনপুরায় কোস্টগার্ডের হাতে ১৩ মণ মা ইলিশ জব্দ

এদিকে, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় অপেক্ষাধীন রয়েছে। এগুলোর রায় মাসের মধ্যে আসতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘোষণা, স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৮ এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘোষণা, স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান অবশেষে একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে’ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান প্রথমে এই ঘোষণা দেয়। এরপর ওয়াশিংটন এবং তেহরানও বিষয়টি নিশ্চিত করে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

রোববার নিজের ৮০তম জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘আমি হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের টোল বা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বের সব জাহাজ আবার চলাচল শুরু করুক। তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।’ এর কিছুক্ষণ পরে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ‘তাৎক্ষণিক অবসান’ ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত সমাঝোতায় পৌঁছাতে দুই মাসের মধ্যে উভয় পক্ষ নতুন করে আলোচনা শুরু করবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে বৈরুতের উপকণ্ঠে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলের হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তেহরান। এতে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তবে পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ঘোষণা দেন, ‘উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য তিনি কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কালের কণ্ঠে জ্বলেছিল ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’

সেই আগুনেই পুড়ে ছারখার হলো সাম্রাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


সেই আগুনেই পুড়ে ছারখার হলো সাম্রাজ্য

গোপালগঞ্জের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর। এমন এক সময়ে এই পদকে ভূষিত হন, যখন তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন রাজধানীতে।

এ রকম খবর শোনার পর একজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীর কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার অর্জনের কাহিনী সম্পর্কে জানা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। পড়াশোনার ফাঁকে বিভিন্ন জীবনের গল্প আমাদের জানা। কিন্তু এই ফারহিন কী ধরনের কৃষিকাজ করছেন? কোথায় তাঁর খামার? এসব প্রশ্ন নিয়ে শুরু হয় আমাদের অনুসন্ধান।

২০২৪ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে এক দিন।

ঢাকায় ভোরের আলো তখনো ফোটেনি। গুলিস্তানে একটি নন-এসি বাসে চেপে বের হয়ে গেলাম আমরা। আমাদের গন্তব্য গোপালগঞ্জ। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ছুটতে ছুটতে মাথায় বহুসংখ্যক প্রশ্ন—আমরা কি শুধুই একটি কৃষিখামারের খোঁজে বের হয়েছি, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরো অনেক অজানা গল্প!

যার খোঁজে আমরা বের হয়েছি, তিনি যে আর কেউ নন, সেই তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তাঁর পরিবার।

বেনজীর আহমেদ নামটি তখন ক্ষমতার আরেক নাম হয়ে উঠেছিল। চরম পরাক্রমশালী এবং দোর্দণ্ড প্রতাপশালী—এসব শব্দ বোধহয় কিছুই কম।

আমরা পৌঁছালাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামে। এখানে একটি নিভৃত পল্লী। কোনো যান্ত্রিকতা নেই।

শহরের তুলনায় যান-জনের ও জটলার অভাব এখানে। এমন এক গ্রামের বুক ফুঁটে দাঁড়িয়ে রয়েছে অবিশ্বাস্য একটি স্থাপনা। নাম—সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক। ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীরের কৃষিতে স্বর্ণপদক লাভের সঙ্গে এই রিসোর্টের সম্পর্কের বিষয়টি আমাদের কাছে ছিল।

রিসোর্টে প্রবেশ করতেই চক্ষু যেন চড়কে যায়। গাছপালা, পুকুর, শান-বাঁধানো ঘাট, কৃত্রিম ঝরনা—কী নেই এখানে? রিসোর্টজুড়ে স্বচ্ছলতার ভাষা। জমির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৪০০ বিঘা। সঠিক সংখ্যা গুনে দেখা যায় ১৫টি পুকুর রয়েছে। প্রতিটি পুকুরই পরিপূর্ণ গার্ডওয়াল দ্বারা ঘেরা। রিসোর্টের পার্শ্বে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স কটেজ রয়েছে। এগুলোর ভাড়া প্রতি রাতের জন্য ১৫ হাজার টাকা।

মাটি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম টিলা-পাহাড়। একইসঙ্গে এখানে সাগরের কৃত্রিম ঢেউ ওঠার সুইমিংপুলের ব্যবস্থা রয়েছে। হাজারের অধিক ভিয়েতনামি নারকেলগাছ এবং বিভিন্ন প্রকার ফলফলাদির গাছও এখানে রয়েছে। উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেমসহ বিশাল আকারের কনসার্ট হলও দেখতে পাওয়া যায়। পুরো রিসোর্টই আলোতে ঝলমল করছে।

রিসোর্টের ম্যানেজারের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আলোচনা শুরু করলাম। তখনই নিশ্চিত হলাম, এটি সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন। এখানে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের গোপালগঞ্জেই জন্মভিটা বেনজীর আহমেদের। এত বড় রিসোর্ট তৈরি হওয়ার পর ওই এলাকার নামই হয়ে গিয়েছে 'বেনজীরের চক'।

কিন্তু আসল গল্প তখনো জানা হয়নি। রিসোর্টের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকান রয়েছে। রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে সেখানে ঢুকতেই দেখি, একটি বৃদ্ধ চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসে আছেন। বয়স সত্তরের কাছে। চায়ের চুমুক দিতে দিতে আলাপকালে জানতে চাইলাম, 'এত বড় রিসোর্টের সামনে দোকান বসিয়েছেন, কেউ কিছু বলে না?'

জানতে পেরে বৃদ্ধের চোখমুখ লাল হয়ে ওঠে। শুরু করেন ক্ষোভের সুরে মন্তব্য, 'রিসোর্ট যত বড়, সেখানে আমাদের জমিজমা সব; সেই বেনজীর জোর খাটিয়ে সব দখল করে রেখেছে।'

এই একটি বাক্য পুরো অনুসন্ধানের গতিপথ বদলে দেয়। অমীমাংসিত প্রশ্নের দরজা খুলে দেয়।

দোকানি বৃদ্ধের সঙ্গে কথোপকথন করতে করতে আরেও বেশ কিছু লোক এসে জড়ো হয়ে যায়। তাঁদের সবার গল্পই প্রায় এক। কারো জমি গেছে, কারো পুকুর গেছে, কারো বাপ-দাদার ভিটামাটি চলে গেছে ওই রিসোর্টের কারণে। তবে ভয় পেয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

সেদিন সন্ধ্যায় আমরা গোপালগঞ্জে থেকে গেলাম। পরদিন সকালেই আবার বেরিয়ে পড়লাম। কয়েক দিন এলাকায় ঘুরে বেড়ালাম। অনেকের সঙ্গে কথা বললাম। আমরা সবার অভিযোগ-বক্তব্য শুনলাম। ধীরে ধীরে নানা সত্য তথ্য প্রকাশিত হতে শুরু করল।

দেখা গেল, সাভানা ইকো রিসোর্টের ভেতরের অধিকাংশ জমি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের। বিশেষ করে 'বল' সম্প্রদায়ের বহু পরিবার নিজেদের জমি হারানোর অভিযোগ করছে।

আরো নানা বিস্ময়কর তথ্য মাথাতে নিয়ে আমরা ঢাকায় ফিরে এলাম। পরবর্তী অনুসন্ধানের কাজ শুরু হলো। অনুসন্ধানী সেলের সবাই একসাথে কাজ করা শুরু করলেন।

এর মধ্যে সামনে আসল আরেকটি বিস্ময়কর তথ্য। যিনি কৃষি পদক লাভের জন্য আলোচনায় এসেছেন, সেই ফারহিনের জন্য নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে কেনা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। শুধুমাত্র ক্লাসের ফাঁকে মেয়ের বিশ্রামের সুবিধায় বাবা বেনজীর এই ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন। এর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

এরপর জানলাম, তিনি কৃষি নয়, বরং জাতীয় মৎস্য পদক-২০২২ লাভ করেছেন। তখন তাঁর বাবা বেনজীর আহমেদ ছিলেন পুলিশপ্রধান এবং মা জীশান মীর্জা বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী।

আমাদের অনুসন্ধানের কাজ চলতে লাগল।

আমরা বেনজীরের আরেকটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পেলাম গুলশান ১ নম্বরে। ১৩০ নম্বর সড়কের 'র‌্যাংকন আইকন টাওয়ার লেক ভিউ' প্রাঙ্গণে ১২ ও ১৩তম তলায় বেনজীরের আট হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এক বিকেলে আমরা সেই বাড়িতে হাজির হয় নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী মো. সবুজ নিশ্চিত করেন, ওই বাড়ির দুই ফ্লোরের মালিক বেনজীর। তবে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ভেতরের অবস্থা সরাসরি জানার সুযোগ হয়নি।

তখন আমরা ভবনটির নির্মাতা র‌্যাংকন ডেভেলপমেন্টের ওয়েব সাইটে গিয়ে থ্রিডি ভিজ্যুয়াল দেখে ভবনের ভেতরের সম্ভাব্য অবকাঠামো, নকশা এবং বিলাসিতা সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাই। আট হাজার ৬০০ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

নানা তথ্যের ভান্ডারে আমরা চমকে উঠছিলাম। এর মধ্যে আমরা রেজিস্ট্রার অব জয়েন স্টক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় তালাশ দিয়ে বেনজীরের সাম্রাজ্যের অসংখ্য নথিপত্র জোগাড় করি। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলছিল আমাদের অনুসন্ধান।

বেনজীরের বিশাল সাম্রাজ্যের মূল্য কত কোটি টাকা, এই হিসাব করা তখনো সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ, একের পর এক এলাকায় পরিবারটির সম্পদের তথ্য বের হচ্ছিল। তবে গোপালগঞ্জ জেলা সদরের সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল এলাকায় বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা তৈরি হয়।

তখন আমরা শনাক্ত করি, ৩৪ বছর সাত মাসের চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা মিলিয়ে দুই কোটি টাকার মতো আয় করেছেন বেনজীর আহমেদ। সেখান থেকে আবার পরিবারের ভরণ-পোষণ হয়েছে। তাহলে কীভাবে তিনি এই বিস্ময়কর সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। তাদের স্বৈরাচারী আচরণের শিকার হচ্ছিল গণমাধ্যম। কিছুই লেখার সুযোগ নেই। দুঃসাহস দেখালেই হয়তো জেলে या গুমের আশঙ্কা—এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কালের কণ্ঠ সিদ্ধান্ত নেয়, বেনজীরের এই নজিরবিহীন দুর্নীতির গল্পটি প্রকাশ করা হবে। কারণ দেশের মানুষ তাঁর ক্ষমতার প্রকৃতি দেখে হলেও অবৈধ সাম্রাজ্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে কিছুই জানে না।

অনুসন্ধান শেষ হলো মার্চের শেষ সপ্তাহে। ৩১ মার্চ ২০২৪ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হলো 'বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ'। প্রথম কভারে ছয় কলামের মধ্যে পাঁচ কলামে চারটি স্টোরি ছাপা হয়। 'মেয়ের বিশ্রামের জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকার ফ্ল্যাট' এবং 'বেনজীরের বৈধ আয় কত ছিল' শিরোনামে দুটি সাইড স্টোরি ছিল সেই নিউজ-ব্যাচে।

৩১ মার্চ সকালের আলো ফোটার আগে দেশজুড়ে সংকট তৈরি হলো। পরিচিত বেনজীরকে দেশে নতুন করে চিনতে হলো। মাঝে একদিনে বিরতি দিয়ে ২ এপ্রিল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হলো অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্ব। এবার মূল শিরোনাম 'বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট'। এটিতে 'সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজারেও ভূ-সম্পত্তি' শিরোনাম সাইড স্টোরি।

দেশের অংশে বেনজীরের দখলবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় জনতা রুখে দাঁড়ানোর মধ্যেই ২১ এপ্রিল বেনজীরের দুর্নীতি তদন্তে দুদকে আবেদন করেন হিতকারী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। নিরস্ত্র হতে বাধ্য হয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ নিয়ে সরকারের অন্যান্য গণমাধ্যমেরও অনুপ্রাণিত হয়। একইসাথে শুরু হয় বেনজীরের অপকর্মের বর্ণনা। পাশাপাশি গণমাধ্যমে উঠে আসে সরকারি চাকরি কমিশনের প্রশ্ন ফাঁসের হোতা ড্রাইভার আবেদ আলীর কাহিনী। ওই বছরের জুনে সামনে চলে আসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মতিউর রহমানের বিলাসী দুর্নীতির কাহিনীর সংবাদ—ছাগলকাণ্ড। এভাবে সাংবাদিকতার ভেতরের বরফখণ্ড ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে।

কিন্তু তার আগে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের নাটকীয় প্রতিক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদ একটি ফেসবুক পোস্টে জানান, 'কুৎসার কিসসা আভি ভি বাকি হ্যায়।' পাশাপাশি দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে সে সম্পদ বিনামূল্যে লেখার চ্যালেঞ্জও রাখেন, আরেক ফেসবুক পোস্টে।

কিন্তু বেনজীরের হুমকির পরেও অনুসন্ধানী সেলের সাংবাদিকরা কাজ বন্ধ করেননি। তারা পরপর আরো প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন। '২৪০ বিঘা জমির মালিক বেনজীরের স্ত্রী', 'মাদারীপুরেও বেনজীরের স্ত্রীর সাম্রাজ্য', '১৯ কোম্পানির মালিক বেনজীর পরিবার', 'চাকরির শেষ ৩ বছরে কেনেন ৪৬৬ বিঘা', 'বেনজীরের কালো ৩ হাত', 'পুলিশ টেলিকমেও বেনজীরের ভূত', 'ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ইটভাটা দখলে নেন বেনজীরের শ্যালক', 'বেনজীর পরিবারের ৫০ বিঘা জমি গাজীপুরেও'—এইসব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ধারাবাহিকভাবে কালের কণ্ঠে প্রকাশ হতে থাকে।

একের পর এক নিউজাঘাতে শেষ পর্যন্ত আর নিজের চ্যালেঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি বেনজীর। ২০২৪ সালের ৪ মে বিমানবন্দর দিয়েই দেশের বাইরে পালিয়ে যান তিনি।

দুর্নীতির অকাট্য তথ্য-প্রমাণ কালের কণ্ঠে একের পর এক প্রতিবেদনে প্রকাশের পরেও সরকার তাঁর সম্পর্কে নীরব থাকার কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে যেতে থাকে।

এসব পরিস্থিতি নিয়ে দেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের ক্ষোভ একটুও অগ্নিতে রূপ নেয়। সেই আগুনে পুড়ে যায় আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের আত্মবিশ্বাস। সাধারণ একটি কোটা সংস্কার আন্দোলন নাটকীয়ভাবে সরকারের পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। এর পরের ইতিহাস সবার জানা।

যাইহোক, কালের কণ্ঠের সেই ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং তাদের ফলোআপ রিপোর্ট প্রকাশের পর দুদকের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে বেনজীরকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সাহায্য নেয় সরকার। শেষ পর্যন্ত গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্সফোর্ডে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন হাসনাত-সাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


অক্সফোর্ডে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন হাসনাত-সাদিক

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসানাত আবদুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন।

গতকাল রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আয়োজিত ‘

ছাত্র-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান এবং বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎশীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় তারা অংশগ্রহণ করেন।

এসময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতাকর্মীরা বাইরে অবস্থান নেন। তাদের হাতে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সাদিক কায়েমকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে ‘পালাইছেরে পালাইছে, হাসনাত পালাইছে’ ‘রাজাকার রাজাকার বলে স্লোগান’ দিয়েছেন।

এ সময় যুক্তরাজ্য পুলিশ তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজারের বেশি হাজি, আরও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ এম


দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজারের বেশি হাজি, আরও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজারেরও বেশি হাজি। মোট ১৩৪টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন তাঁরা। অন্যদিকে চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে মোট ৫২ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিন থেকে সোমবার এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরবের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দিবাগত রাত ৩টা নাগাদ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৫৬ হাজার ৮৬৮ জন হাজি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ৬৩টি ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি থেকে ফিরেছেন ২৩ হাজার ৯৪৫ জন বাংলাদেশি।

অন্যদিকে সৌদি এয়ারলাইনসের ৫০টি ফ্লাইটে আরও ১৯ হাজার ৮২৭ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২১টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৮ হাজার ৩৮০ জন হাজি। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজির সংখ্যা ৪ হাজার ৩১৩ জন এবং পাশাপাশি বেসরকারি মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৫২ হাজার ৫৫৫ জন বাংলাদেশি পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন।

এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজ পালনে গিয়ে মোট ৫২ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। এই ৫২ জনের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৪ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। এছাড়া এ বছর হজ মৌসুমে সৌদি আরবের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪১৫ জন বাংলাদেশি।

চলতি বছর গত ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৭ লাখের বেশি মুসল্লি পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে জমায়েত হয়েছিলেন। যার মধ্যে ৭৮ হাজারেরও বেশি ছিলেন বাংলাদেশি। পবিত্র হজ পালন শেষে গত ৩০ মে থেকে হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে, এবং এ বছর হজযাত্রীদের শেষ ফিরতি ফ্লাইট দেশে পৌঁছাবে আগামী ৩০ জুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%