ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত ২


ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত ২

ক্যারিবিয়ান সাগরে একটি নৌযানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় তারা এই খবর প্রকাশ করেছে।

এই ঘটনায় নৌকায় থাকা দুইজন নিহত হয়েছেন।

তাদের দাবি, জাহাজটি কিছু নির্দিষ্ট ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ পরিচালনা করছিল, তবে ওই গোষ্ঠীগুলোর নাম তারা প্রকাশ করেননি। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানে কোনো মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য আহত হননি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

নিহতদের সম্পর্কে তারা ‘পুরুষ মাদক-সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই হামলাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ বলে নিন্দা করেছে। এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব অভিযান ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ (নার্কো-টেররিস্টদের) লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে।

মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড জানিয়েছে, অভিযানের পর ছয়জন পুরুষ জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য মার্কিন কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

সামরিক বাহিনী এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নৌযানটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে পরিচিত মাদক পাচার রুট ব্যবহার করে চলাচল করছিল এবং মাদক পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে সরাসরি হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন প্রচলিত নীতির তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন। অতীতে এ ধরনের নৌযান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অভিযান ও আটক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হয়ে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ভারতকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ এম


সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ভারতকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

সিন্ধু নদী ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ভারতের নেওয়া পদক্ষেপ যদি Pakistan-এর পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে পরিগণিত হয়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। রবিবার, স্থগিত হয়ে থাকা সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান তিক্ত বিরোধের প্রেক্ষিতে এই কঠোর মন্তব্য করেন তিনি।

পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বক্তব্য দেন। কার্যত, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার মাঝে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার উন্মেষ ঘটিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ উল্লেখ করেন, পানি শুধুমাত্র একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও। তিনি আরও বলেন, যদি পাকিস্তান মনে করে যে সিন্ধু নদী অববাহিকার পানিতে তাদের ন্যায্য প্রবেশাধিকার হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, তাহলে তারা নিশ্চুপ থাকার সুযোগ নেবে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যেই মুহূর্তে পাকিস্তান বুঝতে পারবে যে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে, তখন তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ায় দ্বিধা করবে না। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া গ্রহণের একটি সুস্পষ্ট ম্যাপনামূলক ইঙ্গিত পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি, ভারতের জল শক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানি প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। ভারতের সিন্ধু নদীর পানির প্রবাহ কমানোর বা অন্যদিকে সরানোর এ ধরনের পরিকল্পনার সূচনা হওয়ার পর, দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

মূলত, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। নয়াদিল্লি ওই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে, এবং সেখান থেকেই ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারত জানায়, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান যদি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই চুক্তি কার্যকর করা হবে না।

সিন্ধু পানি চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন চুক্তিগুলোর অন্তर्गत পড়ে। এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানি কীভাবে দুই দেশের মধ্যে বণ্টন হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। এর ফলে দেশটির কৃষি, সেচ ব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন এবং অর্থনীতির বড় অংশ এই পানির উপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান বারবার উল্লেখ করেছে, পানি প্রবাহে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি হলে তা কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সিন্ধু পানি চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ আবেদন করেন।

এছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তান অভিযোগ করে, ভারত চেনাব নদীর পানিকে অন্যদিকে সরানোর জন্য একটি নদী সংযোগ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ সিন্ধু পানি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হবে। বিশেষজ্ঞরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, খরা এবং ক্রমবর্ধমান পানি সংকটের প্রেক্ষাপটের কারণে পাকিস্তান অতীতেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হলে, সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশটির জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া, এই ইস্যু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনাও সৃষ্টি করেছে। দুই দেশই পরমাণু অস্ত্রধারী হওয়ায়, পানি নিয়ে এই বিরোধ এখন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৪৪৩২ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৪৪৩২ টাকা

টানা ২ দফা কমার পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ফের দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এবার ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (২২ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন মূল্য আজ সকালে ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য পড়বে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এছাড়াও ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। গ্রাহকদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাটের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে ২০ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সাথে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এ নিয়ে চলতি বছর পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ৪০ দফা বাড়ানো হয়েছে, ৩৮ দফা কমানো হয়েছে ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; সেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, দেশে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ৪৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; বাকি ২৩ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার ও কমেছিল মাত্র ৩ বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে আশুরার রোজা গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


যে কারণে আশুরার রোজা গুরুত্বপূর্ণ

হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। এই দিনটিকে বিশেষভাবে স্মরণ করার জন্য এই নামটি প্রদান করা হয়েছে। এদিনের অন্যতম আমল হচ্ছে রোজা রাখা।

যেসব নফল রোজার গুরুত্ব অপরিসীম, আশুরার রোজা এর মধ্যে অন্যতম। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রোজার ব্যাপারে খুব আগ্রহী থাকতেন এবং তার জন্য অপেক্ষা করতেন।

এই রোজাকে হাদিসে সর্বোত্তম রোজা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এক হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর মাস মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (মুসলিম ২/৩৬৮)

এ হাদিস থেকে মহররমের বিষয়ে দুটি কথা জানা যায়। প্রথমত, মহররম মাস আল্লাহর মাস, এটি সম্মানিত ও মহিমান্বিত মাস। দ্বিতীয়ত, এর সম্মান রক্ষা এবং এ থেকে যথাযথ উপকৃত হওয়ার একটি মাধ্যম হলো, এ মাসে রোজা রাখার প্রতি যত্নবান হওয়া।

সুতরাং মহররম মাসে রোজা রাখার প্রতি মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দশ মহররম আশুরার রোজার কথা হাদিসে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়েও বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত।

আশুরার রোজার গুরুত্ব নিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান ও আশুরায় যেভাবে গুরুত্বের সাথে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (বুখারি ১/২১৮)

আশুরার রোজা মূলত ১০ই মহররমের রোজা। তবে, এই রোজার সাথে আরও একটি রোজা মিলিয়ে রাখার ব্যাপারে হাদিসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখ এবং তাতে ইহুদিদের বিরোধিতা কর, আশুরার আগে একদিন বা পরে একদিন রোজা রাখ।’ (ইবনে খুজাইমা ২০৯৫)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবানন যুদ্ধ শেষের দিকে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ দেখা গেছে: আরাঘচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


লেবানন যুদ্ধ শেষের দিকে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ দেখা গেছে: আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেছেন, ‘লেবানন যুদ্ধ’ শেষ করার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শেষে পাকিস্তান ও কাতারের দেয়া যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ক্লান্তিহীন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ শেষ করতে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে, অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।’ তবে তিনি শেষ করেন এই বলে যে, প্রথম ‘আসল পরীক্ষা’ হবে ‘লেবানন ডি-কনফ্লিকশন সেল’ যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ ও উত্তেজনা কমানোর বিষয় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে গত শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও, লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে তা স্থগিত করে ইরান। সেই সঙ্গে আবারও বন্ধ করে দেয় হরমুজ প্রণালী।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চালু হয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার। আর ইরানের পক্ষ থেকে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আসেন।

আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত, তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সুইজারল্যান্ডে চলছে ওয়াশিংটন-তেহরানের দরকষাকষি। প্রথম ৮০ মিনিটের উদ্বোধনী সেশনের পরই ট্রাম্পের হুমকির জেরে টেবিল ছাড়েন ইরানি প্রতিনিধিদল। এতে আলোচনার গতি অনেকটাই থমকে গেছে। হরমুজ প্রণালী ও লেবানন সংকটসহ ইসরাইল ইস্যু এই শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্রমশ জটিল করে তুলেছে।

তবে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান ও কাতারের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনা একটি ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদল গঠন করা হয়েছে। এসব দল সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে কাজ করবে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও কঠোর বক্তব্যের মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা সংলাপ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। আলোচনার পর উভয় পক্ষের কারিগরি দল সুইজারল্যান্ডে থেকে পরবর্তী ধাপের আলোচনা চালিয়ে যাবে বলেও জানা গেছে।

সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে উভয় পক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে, যা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক তদারকি করবে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিতভাবে এই কমিটিকে অগ্রগতির প্রতিবেদন দেবেন এবং পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত কার্যকরী দলের নেতৃত্ব দেবেন।

এছাড়া সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপও কাজ করবে, যা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ও দেখভাল করবে। উচ্চপর্যায়ের কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে, যার ফলে অবিলম্বে আরও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।

পাশাপাশি ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মধ্যস্থতাকারীদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের পাশাপাশি লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং পাকিস্তান ও কাতার এই ব্যবস্থাকে সহায়তা করবে।

এই সেলের মূল উদ্দেশ্য হবে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি যেন যথাযথভাবে মেনে চলা হয় তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সম্ভাব্য উত্তেজনা, ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।

এই পদক্ষেপকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট প্রশমনে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%