ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যে কারণে আশুরার রোজা গুরুত্বপূর্ণ


যে কারণে আশুরার রোজা গুরুত্বপূর্ণ

হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। এই দিনটিকে বিশেষভাবে স্মরণ করার জন্য এই নামটি প্রদান করা হয়েছে। এদিনের অন্যতম আমল হচ্ছে রোজা রাখা।

যেসব নফল রোজার গুরুত্ব অপরিসীম, আশুরার রোজা এর মধ্যে অন্যতম। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রোজার ব্যাপারে খুব আগ্রহী থাকতেন এবং তার জন্য অপেক্ষা করতেন।

এই রোজাকে হাদিসে সর্বোত্তম রোজা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এক হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর মাস মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (মুসলিম ২/৩৬৮)

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এ হাদিস থেকে মহররমের বিষয়ে দুটি কথা জানা যায়। প্রথমত, মহররম মাস আল্লাহর মাস, এটি সম্মানিত ও মহিমান্বিত মাস। দ্বিতীয়ত, এর সম্মান রক্ষা এবং এ থেকে যথাযথ উপকৃত হওয়ার একটি মাধ্যম হলো, এ মাসে রোজা রাখার প্রতি যত্নবান হওয়া।

সুতরাং মহররম মাসে রোজা রাখার প্রতি মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দশ মহররম আশুরার রোজার কথা হাদিসে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়েও বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত।

আশুরার রোজার গুরুত্ব নিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান ও আশুরায় যেভাবে গুরুত্বের সাথে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (বুখারি ১/২১৮)

আশুরার রোজা মূলত ১০ই মহররমের রোজা। তবে, এই রোজার সাথে আরও একটি রোজা মিলিয়ে রাখার ব্যাপারে হাদিসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখ এবং তাতে ইহুদিদের বিরোধিতা কর, আশুরার আগে একদিন বা পরে একদিন রোজা রাখ।’ (ইবনে খুজাইমা ২০৯৫)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবানন যুদ্ধ শেষের দিকে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ দেখা গেছে: আরাঘচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


লেবানন যুদ্ধ শেষের দিকে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ দেখা গেছে: আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেছেন, ‘লেবানন যুদ্ধ’ শেষ করার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শেষে পাকিস্তান ও কাতারের দেয়া যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ক্লান্তিহীন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ শেষ করতে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে, অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।’ তবে তিনি শেষ করেন এই বলে যে, প্রথম ‘আসল পরীক্ষা’ হবে ‘লেবানন ডি-কনফ্লিকশন সেল’ যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ ও উত্তেজনা কমানোর বিষয় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে গত শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও, লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে তা স্থগিত করে ইরান। সেই সঙ্গে আবারও বন্ধ করে দেয় হরমুজ প্রণালী।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চালু হয়েছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার। আর ইরানের পক্ষ থেকে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আসেন।

আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত, তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সুইজারল্যান্ডে চলছে ওয়াশিংটন-তেহরানের দরকষাকষি। প্রথম ৮০ মিনিটের উদ্বোধনী সেশনের পরই ট্রাম্পের হুমকির জেরে টেবিল ছাড়েন ইরানি প্রতিনিধিদল। এতে আলোচনার গতি অনেকটাই থমকে গেছে। হরমুজ প্রণালী ও লেবানন সংকটসহ ইসরাইল ইস্যু এই শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্রমশ জটিল করে তুলেছে।

তবে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান ও কাতারের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনা একটি ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা এগিয়ে নিতে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদল গঠন করা হয়েছে। এসব দল সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে কাজ করবে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও কঠোর বক্তব্যের মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা সংলাপ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। আলোচনার পর উভয় পক্ষের কারিগরি দল সুইজারল্যান্ডে থেকে পরবর্তী ধাপের আলোচনা চালিয়ে যাবে বলেও জানা গেছে।

সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে উভয় পক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে, যা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক তদারকি করবে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিতভাবে এই কমিটিকে অগ্রগতির প্রতিবেদন দেবেন এবং পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত কার্যকরী দলের নেতৃত্ব দেবেন।

এছাড়া সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপও কাজ করবে, যা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ও দেখভাল করবে। উচ্চপর্যায়ের কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে, যার ফলে অবিলম্বে আরও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।

পাশাপাশি ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মধ্যস্থতাকারীদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের পাশাপাশি লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং পাকিস্তান ও কাতার এই ব্যবস্থাকে সহায়তা করবে।

এই সেলের মূল উদ্দেশ্য হবে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি যেন যথাযথভাবে মেনে চলা হয় তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সম্ভাব্য উত্তেজনা, ভুল বোঝাবুঝি বা সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।

এই পদক্ষেপকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট প্রশমনে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ায় বিপুল পরিমান চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ, তিনজনকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


ভাণ্ডারিয়ায় বিপুল পরিমান চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ, তিনজনকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া অবৈধভাবে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা পাচারকালে ১ লাখ ৩০ হাজার রেণু পোনা জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তিনজনকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, বরগুনা, পাথরঘাটা ও মঠবাড়িয়াসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সিন্ডিকেটটি বছরের পর বছর ধরে ভাণ্ডারিয়া রুট ব্যবহার করে রেণু পোনা পরিবহন ও পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ওই সিন্ডিকেটের তৎপরতা রোধে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের নেতৃত্বে রবিবার রাতভর ভাণ্ডারিয়া ওভারব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে পরিবহন করা বিপুল পরিমাণ গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ করা হয়।

অভিযানের এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে একটি মোটরসাইকেল আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফলেজা এলাকার সাহেব আলীর ছেলে মো. ফিরোজ এবং একই এলাকার আব্দুল হক ফরাজীর ছেলে মো. হানিফ ফরাজীর কাছ থেকে চারটি প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা ৩০ হাজার গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা জব্দ করা হয়।

পরে সকাল ৭টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে পাথরঘাটা উপজেলার চরদোয়ানী তালুকের চর এলাকার আ. মান্নান হাওলাদারের ছেলে মো. নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় মাইক্রোবাসে থাকা ১৪টি ছোট-বড় প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে আরও ১ লাখ রেণু পোনা জব্দ করা হয়।

অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের দায়ে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৮৫-এর ৮(১)(এ) ধারার অপরাধে এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর ৫(১) ধারার বিধান অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত মো. নজরুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা এবং মো. ফিরোজ ও মো. হানিফ ফরাজীকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

অভিযান শেষে জব্দকৃত ১ লাখ ৩০ হাজার রেণু পোনা ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পোনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়, যাতে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, চিংড়ির রেণু পোনা নির্বিচারে আহরণ ও পাচারের ফলে নদ-নদীর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরব আমিরাতে ১৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


আরব আমিরাতে ১৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এ ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের উপরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং ডিজিটাল আসক্তি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্য নিয়ে দেশটির মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং এটি অনুমোদিত হয়েছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন নীতিমালা অনুসারে ১৫ বছরের নিচে কোনও শিশু ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার) অথবা স্ন্যাপচ্যাটে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট গ্রহণ বা ব্যবহার করতে পারবে না। তাদের পোস্ট করা, মন্তব্য করা, পাবলিক গ্রুপে অংশ নেওয়া বা অনলাইন আলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগও থাকবে না। এর সঙ্গে, অভিভাবকের অনুমতিও এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম হিসেবে অগ্রহণযোগ্য হবে।

তবে ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সীমিত আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বয়সের ব্যবহারকারীদের জন্য বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ ফিচার নিষ্ক্রিয় করাসহ এবং বাধ্যতামূলক প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবস্থার মতো কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

সরকার জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাই পদ্ধতি স্থাপন করতে হবে। এই জন্য ডিজিটাল আইডি, পরিচয়পত্র যাচাই, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বয়স নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু ব্যবহারকারীর দেওয়া বয়স বা তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেওয়া হবে না।

নতুন নীতিমালায় শিশুদের অনলাইন কার্যকলাপ বা আগ্রহ অনুযায়ী লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য নিয়মবহির্ভূত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা এবং বয়সসীমা এড়ানোর চেষ্টা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়ন ও এর তদারকির বিস্তারিত নির্দেশনা আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। সরকারি গেজেটে এ আইনটি প্রকাশিত হওয়ার পর তা কার্যকর হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোকে নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাসের সময় দেওয়া হবে।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুদের জন্য নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ ও বয়সোপযোগী ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ হচ্ছে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে অভিভাবকদের নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহার, স্ক্রিন টাইম ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করা হবে।

এছাড়াও, স্কুলগুলোতে ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিরাপদ অনলাইন আচরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম নতুন নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয় তবে প্রশাসনিক জরিমানা, আংশিক নিষেধাজ্ঞা অথবা গুরুতর ক্ষেত্রে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

ইউএই সরকারের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য সারা বিশ্বে স্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। শিশুদের বিভিন্ন পরিপক্বতা ও অভিজ্ঞতার পার্থক্যকে বিবেচনায় নিয়ে ১৫ বছর বয়সের সীমাকে একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটির দাবি, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার জন্য বিশ্বজুড়ে যে উদ্যোগ চলছে, তাদের নতুন কাঠামোও তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ বছর হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়ে কী প্রতিদান দেন শিক্ষার্থীরা, চালকের প্রশ্ন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫০ এম


২০ বছর হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়ে কী প্রতিদান দেন শিক্ষার্থীরা, চালকের প্রশ্ন?

ভাই, বছরের পর বছর ধরে হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করার পর শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরিবহন শ্রমিকদের ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্য ছাড়া’ আর কী করেন? রাজধানীর এক বাসচালকের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার মন্তব্যে অনেকে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি রাষ্ট্রের নীতির অংশ, যা ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়।

রোববার (২১ জুন) ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি থেকে ওই বাসচালকের নাম কিংবা পরিচয় জানা যায়নি।

বাসচালক বলেন, সর্বনিম্ন ২০ বছর ধরে পিঠে কইরা বা গাড়িতে কইরা এসব শিক্ষার্থীদের বহন করি। এই স্টুডেন্টরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমাদের সাধারণ শ্রমিকদের জন্য কী করছে?

পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে নানান তাত্ত্বিক আলোচনা চললেও একজন শ্রমিকের মুখে এ ধরনের প্রশ্ন অনেকের কাছে নতুন মনে হয়েছে। ভিডিওটির নিচে উপস্থিত হাজারো মন্তব্যে নেটিজেনরা লিখেছেন, ছাত্রজীবনে তারা দীর্ঘ সময় ধরে হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন, কিন্তু এর পেছনে শ্রমিকদের ত্যাগ বা আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি কখনো এভাবে ভাবেননি।

চালকের বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ও তার জন্য শিক্ষার্থীদের কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন।

তার ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই দশক পর্যন্ত হাফ ভাড়ার সুবিধা ভোগ করে। এই সময়ে পরিবহন শ্রমিকরা তাদের শিক্ষাজীবন সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু যখন সেই শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন শ্রমিকদের জন্য তাদের অবদান বা সাহায্যের কোনো চিহ্ন চোখে পড়ে না।

তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থী একসময় হাফ ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করতো, সে পরে ডাক্তার, প্রকৌশলী, পুলিশ কর্মকর্তা অথবা বিচারক হয়ে যায়। কিন্তু কখনো কি তারা পরিবহন শ্রমিকদের জন্য তাদের সেবার মূল্য কমিয়েছে? চালকের ভাষায়, অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকেও অন্যদের মতো পূর্ণ ফি দিতে হয়, যদিও সেই চিকিৎসক একসময় তার কাছ থেকে হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, উনি ১০ জনের থেকে যে ভিজিট নিছেন, আমার কাছ থেকেও একই ভিজিট উঠিয়েছেন; তবে আমার কাছে তো ২০ বছর উনি হাফ ভাড়ার সুবিধা নিয়েছেন।

ভিডিওটিতে পরিবহন শ্রমিকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও উঠে এসেছে। চালকের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের নিজের ভাতিজা, ভাগিনা, ছোট ভাই কিংবা সন্তান হিসেবে দেখেন। তাদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অনেকেই সেই শ্রমিকদের প্রতি অবজ্ঞার মনোভাব প্রকাশ করেন।

চালকের অভিযোগ, যখন ভাড়া বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে সামান্য বিরোধ তৈরি হয়, তখন অনেক সময় শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে বাস আটকে দেন, শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং মালিকপক্ষের কাছে অভিযোগ তুলে শাস্তির ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, যখন সামান্য কিছু সমস্যা ঘটে, তখন তারা ভাবেন না যে এটা আমার বাবা হতে পারে বা বড় ভাই হতে পারে।

তবে ভিডিওটির মন্তব্যঘরে সবাই তার সঙ্গে একমত হয়েছেন, তা নয়। অখিল মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, এটি সরকারি নীতি। দেশে চলতে হলে আইন মানতেই হবে। স্টুডেন্টদের প্রতিদিন চলতে হয়। তাদের বড় হয়ে দেশের কাজে লাগে। দেশের স্বার্থে এতটুকু করতেই হবে।

অখিল মাহমুদকে আরেকজন আবার রিপ্লাই দিয়েছেন, এসব বাধ্যকর আইন কি শুধু গরিব শ্রমিকদের জন্যই?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%