০৫:১৩ পি.এম
আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে ডিজিটাল ভূমি জরিপের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবী, অনিয়ম এবং কর্মকর্তাদের দুর্নীতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় আরপাঙ্গাশিয়া বাজারে ঘন্টাব্যাপী একটি মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।
মানববন্ধন কর্মসূচীতে শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৩৩ নম্বর তারিকাটা মৌজায় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর ডিজিটাল জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই সেটেলমেন্ট অফিসের নিযুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভূমি মালিকরা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ নিয়ে এক জনের জমি অন্য জনের নামে নাম জারি করে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। বর্তমানে এই অভিযোগ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং তা বন্ধ করার দাবীতে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় তারিকাটা গ্রামের শতাধিক কৃষক আরপাঙ্গাশিয়া বাজারে ঘন্টাব্যাপী একটি মানববন্ধন কর্মসূচী আয়োজন করেছেন।
স্থানীয় কৃষক মো. জাকির হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য দেন সমাজসেবক মো. সরোয়ার হোসেন হাওলাদার, মো. জাফর হোসেন বিশ^াস, মো. কামাল মৃধা, মো. হযরত আলী এবং মো. রব শরীফ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ডিজিটাল ভূমি জরিপের সাথে নিযুক্তরা ব্যাপক দুর্নীতির সাথে জড়িত। ঘুষের বিনিময়ে তারা এক জনের জমি অন্যের নামে রেকর্ড করে দেয়। আবার তারা ১টি খাতিয়ান ভেঙে ১শ’ খাতিয়ান নম্বর তৈরি করে। সংশোধনের জন্য গেলে মোটা অংকের টাকা দাবী করা হয়। এ অফিসে টাকা ছাড়া কোন কাজ করা যায় না।
আরও পড়ুন: ৯৬ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় ভাগ নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম গ্রেপ্তার
তারিকাটা গ্রামের ভূক্তভোগী কৃষক মো. জাফর বিশ^াস জানান, তাঁর ৮টি খতিয়ান ভেঙে ৪শ’ ২০টি খতিয়ান খুলেছে। সংশোধনের জন্য অফিসে গেলে তারা তাঁর কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। তারিকাটা গ্রামের জাকির হোসেন হাওলাদার জানান, তাঁর ৫টি দাগের জমি অন্য জনের নামে রেকর্ড করে দেওয়া হয়েছে। অফিসের শফিকুর রহমান নামের একজনকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা প্রদান করলে তিনি সমস্যাটি সমাধান করে দেন।
তারিকাটা গ্রামের আরেক ভূক্তভোগী কৃষক কামাল মৃধা বলেন, তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি প্রতিবেশী রেহেনা নামের এক জনের নামে রেকর্ড করে দেওয়া হয়েছে। পরে অফিসে মোটা অংকের বিনিময়ে তা ফিরিয়ে আনতে হয়।
এদিকে, আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম এবং দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অফিসের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী এসব কাজের সাথে জড়িত নয়। আমতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলা হবে।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার দিতে বাধার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন