বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:০১ এম
ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
একটি বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব আবু হুসেইন আল-হামিদাভি উল্লেখ করেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে আমরা ইরানি জনগণের পাশে থাকবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি সহজ হবে না এবং এতে তাদেরকে বড় মূল্য দিতে হবে।’
আল-হামিদাভি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অঞ্চলজুড়ে ‘সত্য ও মিথ্যার শক্তির’ মধ্যে নতুন সংঘাতের সূচনা করেছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতের নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরান ও তার জনগণের সঙ্গে থাকবে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প।
কাতাইব হিজবুল্লাহকে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এটি ইরাকে ইরানঘনিষ্ঠ শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, ইরানের চলমান বিক্ষোভ দমন কার্যক্রমে তেহরান লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ব্যবহার করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে সব সেনা সরিয়ে নেবে। সেনা প্রত্যাহারের ফলে দেশটিতে ২৩ বছরের মার্কিন উপস্থিতির অবসান ঘটছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ওয়াশিংটন সফরে যাওয়া ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান। এ খবরটি প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।
২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরু করে। সাদ্দামের পতন ঘটলেও মার্কিন সেনারা ইরাকে রয়ে গিয়েছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা আইএসবিরোধী অভিযান শেষ করার জন্য ইরাকের সঙ্গে ২০২৪ সালে সই হওয়া চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। চুক্তির সময়কালের মধ্যে ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।
এ দিকে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তিনি হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রাম্প ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের জানান, আমরা মনে করি না সেখানে (ইরাক) আমাদের সামরিক বাহিনী রাখার আর প্রয়োজন আছে। তিনি ইরাকের সঙ্গে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরাক ছেড়ে আসবে, তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসেও বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমি সরকারকে বলছি, মুজিববাদী সংবিধানের পাহারাদার হবেন না। আপনাদের জনগণের সংবিধানের পাহারাদার হতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এই বক্তব্যগুলো বুধবার রাতে জয়পুরহাট শহরের শহীদ ডাক্তার আবুল কাশেম ময়দানে আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’য় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন।
এ সময় বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন, সদস্য সচিব ফিরোজ আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন হাদি, তাছাড়া এনসিপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সন্ধ্যার পর সরকারি আর.বি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পদযাত্রাটি সমাবেশস্থলে মিলিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যবহৃত তেল ও গ্যাস রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ রুট লক্ষ্যবস্তু হবে, যদি ম্যারকিন আগ্রাসন চলতে থাকে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সতর্ক করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি ‘হয় সবার জন্য হবে, নয়তো কারও জন্যই হবে না।’
এই মন্তব্যকে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের রুট, তেল-গ্যাস পরিবহন ব্যবস্থা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেবে। যদিও আইআরজিসি নির্দিষ্ট কোনো দেশ, স্থাপনা বা রুটের নাম উল্লেখ করেনি।
তবে এমন হুঁশিয়ারি কার্যকর হলে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান।
আইআরজিসির এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট কোনও মিত্র দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিল (এনডিএএ) নিয়ে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তারা এই অবস্থান গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটে, বিলটি নিয়ে বিতর্ক শুরু করার প্রস্তাব ৫০-৪৬ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। ১০০ সদস্যের সিনেটে বিতর্ক শুরু করার জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন ছিল। তাই, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রায় ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের বড় অংশের অনুমোদনের পথ আপাতত আটকে রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ রয়েছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করছে। একই সাথে, বিলটিতে এমন কিছু ধারা রেখেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও গভীর করবে। এ ছাড়া, প্রস্তাবিত পেন্টাগনের বাজেটের আকার নিয়ে তাদের আপত্তি তুলেছেন।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক স্কামার ভোটের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, এই বিল পাশ হলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কংগ্রেসের তদারকি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর একটি ‘অনুমতিপত্র’ হয়ে দাঁড়াবে।
বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় পেন্টাগনে একজন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ অস্ত্র গবেষণা, উৎপাদন এবং সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় তদারকি করবেন। এর সাথে, দুই দেশের গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয়ের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করতে পারে যা ইসরাইলের ব্যাপক নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমেও সংগৃহীত হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি নাগরিক অধিকার, পররাষ্ট্রনীতি এবং যুদ্ধবিরোধী সংগঠনও বিলটির বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অর্থায়ন নিষিদ্ধ করার সংশোধনীতে ভোটের সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিলটি এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, দলটির সমর্থকদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
জুন মাসে প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ২০১৮ সালের ৫৯ শতাংশ থেকে কমে বর্তমান বছরের মে মাসে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ