প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিল (এনডিএএ) নিয়ে বিতর্ক শুরুর প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তারা এই অবস্থান গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটে, বিলটি নিয়ে বিতর্ক শুরু করার প্রস্তাব ৫০-৪৬ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। ১০০ সদস্যের সিনেটে বিতর্ক শুরু করার জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন ছিল। তাই, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রায় ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের বড় অংশের অনুমোদনের পথ আপাতত আটকে রয়েছে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ রয়েছে যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করছে। একই সাথে, বিলটিতে এমন কিছু ধারা রেখেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও গভীর করবে। এ ছাড়া, প্রস্তাবিত পেন্টাগনের বাজেটের আকার নিয়ে তাদের আপত্তি তুলেছেন।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক স্কামার ভোটের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, এই বিল পাশ হলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কংগ্রেসের তদারকি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর একটি ‘অনুমতিপত্র’ হয়ে দাঁড়াবে।
বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় পেন্টাগনে একজন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ অস্ত্র গবেষণা, উৎপাদন এবং সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় তদারকি করবেন। এর সাথে, দুই দেশের গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয়ের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করতে পারে যা ইসরাইলের ব্যাপক নজরদারি কর্মসূচির মাধ্যমেও সংগৃহীত হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি নাগরিক অধিকার, পররাষ্ট্রনীতি এবং যুদ্ধবিরোধী সংগঠনও বিলটির বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অর্থায়ন নিষিদ্ধ করার সংশোধনীতে ভোটের সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিলটি এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, দলটির সমর্থকদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
জুন মাসে প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ২০১৮ সালের ৫৯ শতাংশ থেকে কমে বর্তমান বছরের মে মাসে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন