০৯:৪৭ এম
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের (গণধর্ষণের) অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান মাইকেল কটলিকফ মুখ খুলেছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও ভালো করতে হবে এবং কীভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করা হয়েছিল, তার জবাব খুঁজে বের করা হবে।
৩ অক্টোবর দেওয়া প্রায় আট মিনিটের ভিডিও বক্তব্যে কটলিকফ জানান, জেন ডোকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যৌন নিপীড়ন, মানুষকে অমানবিকভাবে দেখা এবং পার্টিতে মদ ও মাদক ব্যবহারের সংস্কৃতি নিয়ে হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক প্রশ্ন তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে জেন ডোর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং এর প্রভাব কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘকাল থাকবে। কটলিকফ স্বীকার করেন, ঘটনাটি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সব উত্তর নেই। তাই বিষয়টি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ আগামী সপ্তাহে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার ঘোষণা দেবে বলে কটলিকফ জানিয়েছেন। বাইরের একটি আইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে সামাল দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এছাড়াও নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন কটলিকফ। অভিযোগের ফৌজদারি তদন্তের দায়িত্ব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয়ের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এই তদন্তে সহযোগিতা করবে।
যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত নিউইয়র্কের আইন পরিবর্তনের উদ্যোগকেও সমর্থন জানিয়েছেন কর্নেল প্রধান। বর্তমান আইনে কেউ স্বেচ্ছায় মাদক বা মদ গ্রহণ করলে শুধুমাত্র সেই কারণে তাকে যৌন সম্পর্কে সম্মতি দেওয়ার আইনগত অক্ষম ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয় না—এ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। কটলিকফ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এসব বিষয়ে আরও পরিষ্কারভাবে জানানো হবে। আইন ও নীতিমালার সীমার মধ্যে স্বচ্ছতাও বাড়ানো হবে।
আরও পড়ুন: বর্জন ভেঙে কেন নির্বাচনে ভোট দিলাম: ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকের অভিজ্ঞতা
২০২৪ সালের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ওই শিক্ষার্থী কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। এর আগে একই বছরের ১৯ অক্টোবর কর্নেলের ‘চি ফাই’ ভ্রাতৃসংঘের ভবনে তাকে কয়েকজন সদস্য যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে সেপ্টেম্বরে করা মামলায় অভিযোগ করেন জেন ডো। ওই সময় তার বয়স ছিল ২০ বছর।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ জেন ডোর ছয় পৃষ্ঠার একটি বক্তব্য স্থানীয় সরকারি জজদের কাছে পাঠায়। পরে আরও কিছু প্রমাণ ও সাক্ষাৎকারের তথ্য নিয়ে পুলিশ স্থানীয় জজদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও অভিযোগের বিষয়ে ফৌজদারি মামলা না করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সেসব অতিরিক্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
স্থানীয় সরকারি জজ ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন আগে অভিযোগে মামলা না করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে ২ অক্টোবর তিনি বলেন, ঘটনাটির পুরো চিত্র হয়তো তার কাছে পৌঁছায়নি।
আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প
ভ্রাতৃসংঘের কার্যক্রমও পর্যালোচনা
কটলিকফ জানিয়েছেন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভ্রাতৃসংঘের ভূমিকা ও কার্যক্রমও নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্রাতৃসংঘগুলোর ইতিবাচক দিকগুলো কীভাবে ধরে রাখা যায় এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও অন্যের নিরাপত্তার প্রতি দায়িত্ববোধ কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা দেখা হবে।
সমালোচনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষিতে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহান্তের সব সামাজিক ভ্রাতৃসংঘের অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভেরও পরিকল্পনা করেছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে
এছাড়া যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ ও সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মাদক ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিগুলো আরও শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছেন কটলিকফ।
তিনি বলেন, পরিবর্তনের শুরু কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের নিজেদের মধ্য থেকেই হতে হবে।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন