বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:৫২ এম
যুদ্ধবিরতির সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন থেমে নেই। সরাসরি সংঘাত এড়ালেও ড্রোনের মাধ্যমে বোমাবর্ষণ, ফ্লেয়ার নিক্ষেপ ও ড্রোনের সাহায্যে আগুন লাগানো হচ্ছে বনভূমি, ফসলি জমি এবং শতবর্ষী জলপাই বাগানে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকলকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে যে, পরিকল্পিতভাবে এসব আগুন লাগানো হচ্ছে। এর ফলে শত শত বছরের স্মৃতিবিজড়িত বাগান ও সবুজ বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের জীবিকা নষ্ট হচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, এই ক্ষতি শুধু প্রকৃতির ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন, সংস্কৃতি এবং জীবিকা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে জমিতে মানুষ চাষ করেছে, সেই জমি এখন তাদের কাছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতির পর, প্রায় দুই মাসের মধ্যে দক্ষিণ লেবানের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানান, ‘ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনো আমাদের হাতে নেই, তবে চোখের সামনে বিশাল বনাঞ্চল পুড়ে যাচ্ছে। সীমান্তসংলগ্ন লড়াইয়ের যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভূখণ্ড আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।’
গত মঙ্গলবার খিয়ামের একটি বনাঞ্চলে ফ্লেয়ার নিক্ষেপের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। দমকলকর্মীরা যখন আগুন নেভাতে যান, তখন তাদের উপর কাছাকাছি ড্রোন হামলা হয়। ফাকিহ বলেন, এতে তাদের পিছু হটতে হয়। তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, আগুন নেভানো এখন দমকলকর্মীদের নিয়মিত কাজের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ফ্লেয়ার, অগ্নিসংযোগকারী অস্ত্র ও অন্যান্য হামলার কারণে বন ও কৃষিজমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।
দক্ষিণ লেবাননের মানুষের কাছে জলপাই গাছ শুধুই একটি গাছ নয়। এটি তাদের জীবিকা, ইতিহাস এবং পারিবারিক স্মৃতির অংশ। সীমান্তবর্তী ইয়ারুন গ্রামের অনেক মানুষের সেই স্মৃতিও এখন আগুনে পুড়ছে। গ্রামের মেয়র হাফেজ ঘাশাম বলেন, ৯০০টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ২০টি ছাড়া বাকি সবই বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রাচীন জলপাই বাগানগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই গাছগুলো তাদের দাদা-দাদি এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলিরা তাদের জমিকে বসবাসের অযোগ্য করে তাদের সমগ্র ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীদের জন্য এটি সহজ কাজ নয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবেশের আগে লেবানিজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে একটি ‘ডিকনফ্লিকশন’ বা সংঘাত এড়ানোর সমন্বয় ব্যবস্থার অনুমতি নিতে হয়। তারপরও সব এলাকায় প্রবেশের অনুমতি মেলে না।
পরিবেশবাদীদের মতে, এই আগুনের ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হবে না। দক্ষিণ লেবনের বনাঞ্চলে রয়েছে ওক এবং স্টোন পাইনসহ বহু পুরোনো গাছ। এসব বনগুলি পরিযায়ী পাখি ও অন্যান্য প্রাণীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন 'গ্রিন সাউদার্নার্স'-এর প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনেস এই ঘটনাকে ‘ইকোসাইড’ বা পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, এটি কোনো একক আগুনের ঘটনা নয়। ধারাবাহিকভাবে বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হলে একটি বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকা ও পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সাম্প্রতিক আগুনের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে তারা বলেছে, তাদের সামরিক অভিযান বেসামরিক মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর দেশের পাঁচটি অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সাথে বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে। এই সব অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেখানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সাথে হতে পারে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি। এই কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আগামী ৫ দিন দেশের সকল স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিত অংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপরে মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এই অবস্থায় বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার (১৩-১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই তিন দিনে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃহস্পতিবার সারা দেশে দিন-রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও শুক্রবার রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। এছাড়া শনিবারেও সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। পিচে ঘাসের আস্তরণ ও কিছুটা আর্দ্রতা থাকায় ধারণা করা হয়েছিল, সকালের সেশনে আগে বোলিং করাটাই সুবিধাজনক হবে। ফলে টস হেরেও বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে খুব একটা হতাশ মনে হয়নি।
স্বাগতিক দল, ম্যাচের আগের দিনেই, তাদের একাদশ ঘোষণা করেছে। একটি দীর্ঘ ও কঠিন মৌসুমের কথা মাথায় রেখে তারা তাদের চার প্রধান বোলার কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউডকে নিয়ে মাঠে নামছে। ইনিংস উদ্বোধনে থাকবেন জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেড। এছাড়া দলের ভালো শুরুর লক্ষ্যে অলরাউন্ডার হিসেবে ক্যামেরন গ্রিন ও বো ওয়েবস্টারকে একাদশে রাখা হয়েছে।
এই ম্যাচে ফর্মে থাকা দুই পেসার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামকে ছাড়া মাঠে নামতে হচ্ছে টাইগারদের। তবে শরিফুল ম্যাকাইতে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য ফিট বলে বিবেচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলো উইকেটকিপার লিটন দাসের ফেরা। তিনি কাফ মাসলের চোটের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের টেস্টটি খেলতে পারেননি।
অন্যদিকে খালেদ আহমেদের পরিবর্তে তৃতীয় পেসার হিসেবে এবাদত হোসেনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর নতুন বল হাতে থাকছেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। ২৩ বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা এখানেও নিজেদের ছাপ ফেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুই ওভারে ১১ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। জেক ওয়েদারাল্ড ৪ রান এবং ট্রাভিস হেড ৫ রানে ব্যাট করছে।
অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড: ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার), বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড।
বাংলাদেশ স্কোয়াড: তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওমানের উপকূলে আংশিক ডুবে যাওয়া একটি তেল ট্যাংকার থেকে রাসায়নিক তেল চুইয়ে বিস্তীর্ণ সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রবল বাতাস ও স্রোতের টানে এই দূষণ ইতোমধ্যে ২০০ কিলোমিটার দূরের মূল ভূখণ্ডের সৈকতে পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে ৬০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি সামুদ্রিক এলাকা গ্রাস করে চরম পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়েছে।
এ নিয়ে সন্দেহ করা হচ্ছে, ট্যাংকারটি রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’-এর অংশ এবং এর মালিক চীনা এক প্রতিষ্ঠান। এটি গত জুন মাসে এক রহস্যজনক বিস্ফোরণ ও আক্রমণের শিকার হয়ে ডুবে যেতে থাকে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ট্যাংকারটি কাবিলিয়াহ দ্বীপের কাছে আটকে আছে। ওই স্থান থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ওমানের মূল ভূখণ্ডের ‘রাস মাদরাকাহ’ সৈকতেও তেল পোঁছে গেছে। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি উত্তরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলেও আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই তেল পৌঁছে যেতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।
মালিক মেলেনি। ‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের এই ট্যাংকারটির সুনির্দিষ্ট ও একক মালিকানা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভূ-স্থানিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিনম্যাক্স মেরিটাইম ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ধারণা, এর মালিক চীনা একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া রাশিয়ার ছায়া নৌবহরের অংশ হিসেবে কাজ করছিল। যাতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিশ্ববাজারে রুশ তেল পরিবহন করা যায়। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগেই এই ট্যাংকারটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এটি গত মে মাসে রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে রওয়ানা হয়।
গত জুন মাসে ওমান উপসাগরের কাছে পৌঁছালে এই ট্যাংকারটি আক্রমণের শিকার হয়। আক্রমণের সুনির্দিষ্ট উৎস কিংবা কোনো পক্ষই আজ পর্যন্ত এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। বিস্ফোরণে ট্যাংকারটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা ১০ লাখ ব্যারেল তেল থেকে বর্তমানে এই অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণ শুরু হয়েছে।
বর্তমানে ওমান সরকার ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে, তবে বাতাসের গতিবেগ ও বিস্তৃত অঞ্চলের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ট্যাংকারটি থেকে চুইয়ে পড়া তেলে ওই এলাকার সংবেদনশীল সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল চরম পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
জাহাজটির নাবিকদের বা ক্রু সদস্যদের বর্তমান অবস্থান বা উদ্ধার সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৫ সালে ইয়েমেনের হুথিদের লক্ষ্য করে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ১৫৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও, ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একটি পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই পর্যালোচনার তথ্য প্রকাশ করেন। ওই পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ২০১৫ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নথিবদ্ধ বেসামরিক হতাহতের সব ঘটনাই ঘটে ছিল এপ্রিল মাসে ইয়েমেনে চালানো তিনটি হামলার কারণে। বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে পেন্টাগনের বার্ষিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে ওই অননুমোদিত (শ্রেণীবদ্ধ নয় এমন) প্রতিবেদনটি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছিল।
এনবিসি নিউজ এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এটি হাতে পায়। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এপির সঙ্গে কথা বলেন, কারণ তিনি রিপোর্টটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করার জন্য অনুমোদিত ছিলেন না। ওই কর্মকর্তা জানান, বিভাগটি আগামী মাসগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি জমা দেবে।
এই সংখ্যাটি ২০১৪ সালের তুলনায় অনেক বেশি, কারণ ওই সময় পেন্টাগনের হিসাবে মার্কিন সামরিক অভিযানে দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও দুজন আহত হয়েছিলেন। হামলাগুলো বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা ও এর আশপাশের এলাকায় হুথি বাহিনী এবং রাস ইসা জ্বালানি বন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
রাস ইসা বন্দরে চালানো হামলাটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এতে ৮০ জন নিহত ও ১৭১ জন আহত হন। ওই হামলায় আকাশে বিশাল অগ্নিকুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে এবং বন্দরে থাকা ট্যাঙ্কার ট্রাকগুলোও জ্বলতে থাকে। হুথিরা পরবর্তীতে তাদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেলে হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির দৃশ্য প্রচার করে, যেখানে ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মৃতদেহ দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের তদারককারী সংস্থা ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড’ (সেন্টকম) ওই সময় জানিয়েছিল যে, হুথিদের জ্বালানি ও আয়ের উৎস বিচ্ছিন্ন করাই ছিল হামলার লক্ষ্য। ২০১৫ সালের এপ্রিলে এই হামলার পর সেন্টকম বলেছিল, এই হামলার উদ্দেশ্য ইয়েমেনের জনগণের ক্ষতি করা ছিল না।
সংস্থাটি আরও জানায় যে, ইরান-সমর্থিত হুথি সন্ত্রাসীদের জ্বালানির উৎস ধ্বংস করতে এবং তাদের ওই অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ করার জন্য মার্কিন বাহিনী এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। ওই অর্থ ব্যবহার করে হুথিরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পুরো অঞ্চলে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে।
তবে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য, বিভিন্ন ছবি ও উন্মুক্ত উৎসের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পেন্টাগনের পর্যালোচনা শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, ওই তিনটি হামলার ফলে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির শিকার হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল প্রবল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বা সান্ত্বনা-সূচক অর্থ প্রদানের বিষয়টি যথাযথ ছিল না; যদিও এর কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। মার্কিন আইন অনুযায়ী এ ধরনের অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি কোনো অপরাধ স্বীকারের শামিলও নয়। তবে, অতীতে বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র এমন অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে। যেমন, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় ভুলবশত সাত শিশুসহ ১০ জন নিহত হওয়ার পর পেন্টাগন জানিয়েছিল যে তারা নিহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইয়েমেনে মার্কিন অভিযানের ফলে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে বেসামরিক হতাহতের খবর পাওয়ার পর সেন্টকম আরও ১৫টি ঘটনা পর্যালোচনা করছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে বেসামরিক নাগরিক নিহতের বিষয়টি নতুন করে কঠোর পর্যালোচনার মুখে পড়ার মধ্যেই এই তথ্যগুলো সামনে এল।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঘাত হানে, এতে ১৬৮ জন পর্যন্ত মানুষ নিহত হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসামরিক মানুষের ক্ষতি কমানোর দায়িত্বে থাকা পেন্টাগনের একটি দপ্তরের আকারও কমিয়ে এনেছেন।
লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুথি গোষ্ঠী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করার পর, ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রথমবার ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে। হুথিরা জানিয়েছিল, গাজায় যুদ্ধের জেরে ইস্রাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ফিলিস্তিনিদের সমর্থন জানানোর লক্ষ্যেই ওই হামলাগুলো চালানো হয়েছিল।
২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই অভিযান আরও জোরদার হয়। ওয়াশিংটন জানায় যে, হুথিদের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং লোহিত সাগর দিয়ে নৌচলাচল সুরক্ষিত রাখা ছিল এসব হামলার লক্ষ্য।
ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারের অভিযোগে যেসব নৌকায় হামলা চালানো হয়েছিল, সেগুলোতে হতাহতের ঘটনা পেন্টাগনের এই মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত নয়। প্রতিটি হামলার পর ঘোষিত মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ওই সব হামলায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন যাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তাদের ‘নারকো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেছে; অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলাগুলোকে বেআইনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নও যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসনের দাবিগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ