প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুদ্ধবিরতির সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন থেমে নেই। সরাসরি সংঘাত এড়ালেও ড্রোনের মাধ্যমে বোমাবর্ষণ, ফ্লেয়ার নিক্ষেপ ও ড্রোনের সাহায্যে আগুন লাগানো হচ্ছে বনভূমি, ফসলি জমি এবং শতবর্ষী জলপাই বাগানে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকলকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে যে, পরিকল্পিতভাবে এসব আগুন লাগানো হচ্ছে। এর ফলে শত শত বছরের স্মৃতিবিজড়িত বাগান ও সবুজ বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের জীবিকা নষ্ট হচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, এই ক্ষতি শুধু প্রকৃতির ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন, সংস্কৃতি এবং জীবিকা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে জমিতে মানুষ চাষ করেছে, সেই জমি এখন তাদের কাছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতির পর, প্রায় দুই মাসের মধ্যে দক্ষিণ লেবানের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানান, ‘ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনো আমাদের হাতে নেই, তবে চোখের সামনে বিশাল বনাঞ্চল পুড়ে যাচ্ছে। সীমান্তসংলগ্ন লড়াইয়ের যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভূখণ্ড আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।’
গত মঙ্গলবার খিয়ামের একটি বনাঞ্চলে ফ্লেয়ার নিক্ষেপের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। দমকলকর্মীরা যখন আগুন নেভাতে যান, তখন তাদের উপর কাছাকাছি ড্রোন হামলা হয়। ফাকিহ বলেন, এতে তাদের পিছু হটতে হয়। তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, আগুন নেভানো এখন দমকলকর্মীদের নিয়মিত কাজের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ফ্লেয়ার, অগ্নিসংযোগকারী অস্ত্র ও অন্যান্য হামলার কারণে বন ও কৃষিজমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।
দক্ষিণ লেবাননের মানুষের কাছে জলপাই গাছ শুধুই একটি গাছ নয়। এটি তাদের জীবিকা, ইতিহাস এবং পারিবারিক স্মৃতির অংশ। সীমান্তবর্তী ইয়ারুন গ্রামের অনেক মানুষের সেই স্মৃতিও এখন আগুনে পুড়ছে। গ্রামের মেয়র হাফেজ ঘাশাম বলেন, ৯০০টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ২০টি ছাড়া বাকি সবই বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রাচীন জলপাই বাগানগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই গাছগুলো তাদের দাদা-দাদি এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলিরা তাদের জমিকে বসবাসের অযোগ্য করে তাদের সমগ্র ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীদের জন্য এটি সহজ কাজ নয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবেশের আগে লেবানিজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে একটি ‘ডিকনফ্লিকশন’ বা সংঘাত এড়ানোর সমন্বয় ব্যবস্থার অনুমতি নিতে হয়। তারপরও সব এলাকায় প্রবেশের অনুমতি মেলে না।
পরিবেশবাদীদের মতে, এই আগুনের ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হবে না। দক্ষিণ লেবনের বনাঞ্চলে রয়েছে ওক এবং স্টোন পাইনসহ বহু পুরোনো গাছ। এসব বনগুলি পরিযায়ী পাখি ও অন্যান্য প্রাণীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন 'গ্রিন সাউদার্নার্স'-এর প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনেস এই ঘটনাকে ‘ইকোসাইড’ বা পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, এটি কোনো একক আগুনের ঘটনা নয়। ধারাবাহিকভাবে বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হলে একটি বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকা ও পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সাম্প্রতিক আগুনের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে তারা বলেছে, তাদের সামরিক অভিযান বেসামরিক মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন