০৩:৩৫ এম
শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ চীনের উপকূলে আঘাত হেনেছে। এটি দেশের উপকূলে আঘাত হানা দ্বিতীয় টাইফুন, যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঘটে। তবে টাইফুনটি আঘাত হানার আগেই প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত টাইফুনটি শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় শুরুতে চীনের উপকূলীয় শহর তাইজৌতে আঘাত হানে। পরে মধ্যরাতের দিকে এটি ওয়েনঝৌ শহরে দ্বিতীয়বারের মতো স্থলভাগে প্রবেশ করে।
জাপানের কিছু দূরবর্তী দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তরাংশ ঘেঁষে অতিক্রম করে, ফলে সেখানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। টাইফুনের প্রভাবে ফিলিপাইনে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে : সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী
বর্তমানে টাইফুন বাভির শক্তি কিছুটা কমে প্রবল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে রূপান্তরিত হলেও, এর মধ্যে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্পের কারণে এখনও ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি রয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকবে।
रোববার সকালে টাইফুনটির কেন্দ্র ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংজৌ শহরে পৌঁছায়। পূর্বাভাস বলছে, সোমবার এটি আনহুই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে এবং মঙ্গলবার শানডং উপদ্বীপ হয়ে উত্তর পীত সাগরের দিকে অগ্রসর হবে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। পাশের প্রদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষও সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঝুঁকির কারণে ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, অফিস ও প্রতিটি ধরনের বহিরঙ্গন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৪০০টির বেশি ফ্লাইট এবং ডজনখানেক ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত নিজেদের কর্মীদের ছাড়া একজন ফকিরকেও ভিক্ষা দেয় না: মীর শাহে আলম
২০ লাখের বেশি মানুষের শহর ওয়েনঝৌ টাইফুনের গতিপথের নিকটে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে কয়েক লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে।
ওয়েনঝৌর বাসিন্দা লি লিয়াংশিং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ‘আমরা ছাদের টালি আর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম।’
এদিকে, রাজধানী বেইজিং থেকেও প্রায় এক লাখ মানুষকে ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
টাইফুন বাভি প্রথমে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে জন্ম নেয়। গত সোমবার এটি গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপশান্তে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। পরে প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রমের সময় এর গতি কমে ১৪৪ কিলোমিটার হয় এবং এটি জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত করতে সক্ষম হয়। সেখানে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে
তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে হাজার হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয় এবং ভূমিধসের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তবে এখন পর্যন্ত জাপান ও তাইওয়ান—দুই দেশে কোন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন