ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ প্রণালি এড়াতে যৌথ পাইপলাইন পরিকল্পনা সিরিয়া-ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের


হরমুজ প্রণালি এড়াতে যৌথ পাইপলাইন পরিকল্পনা সিরিয়া-ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য তেলের রপ্তানির বিকল্প পথ তৈরি করতে সিরিয়া, ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র ৫০০ মাইল দীর্ঘ একটি পুরোনো তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার কথা সম্পূর্ণ বিশেষভাবে ইরাকের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নেতাদের বরাতে মিডল ইস্ট আই প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাইপলাইনটি ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কিরকুক থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের শহর বানিয়াস পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৮০-এর দশকে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই পাইপলাইনটি যদি পুনরায় চালু করা হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে ইরাকের তেল সরাসরি ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর সুযোগ হবে। এতে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির মধ্যে এই প্রকল্প সংক্রান্ত একটি চুক্তি ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকের পূর্বে, প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত টম বারাক, যিনি তুরস্কে নিযুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন: জুলাইকে অস্বীকার করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই: তথ্যমন্ত্রী

একজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টম বারাক এই পাইপলাইনটিকে শুধুমাত্র একটি জ্বালানি প্রকল্প মনে করছেন না, বরং তিনি এটিকে লেভান্ট অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য লাভজনক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।

পাইপলাইনটি ১৯৫২ সালে ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি নির্মাণ করেছিল এবং এটি প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা রাখত। তবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সিরিয়া ইরানের পক্ষ নিয়ে বাগদাদের পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। ২০০৩ সালের মার্কিন আগ্রাসনের পর এটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো অবস্থায় রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, পাইপলাইনটি পুনরায় চালুর জন্য শুধুমাত্র সংস্কার করা নয়, অনেক অংশ নতুন করে নির্মাণেরও প্রয়োজন হতে পারে। নতুন স্টোরেজ ট্যাংক, পাম্পিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পাশাপাশি পুরো প্রকল্প শেষ করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এ কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কোম্পানিকে নিয়ে একটি কনসোর্টিয়াম গঠনের প্রস্তুতি চলছে।

২০২৪ সালের শেষের দিকে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, সিরিয়া এবং ইরাক প্রথমবারের জন্য পাইপলাইনটি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করে, যদিও তখন তা অধিক অগ্রসর হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে এই বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন: স্ত্রী পবিত্র আমানত, মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি : রাশেদ খান

যুদ্ধের সময় ইরাক সীমিত পরিসরে সিরিয়ার মধ্য দিয়ে ট্যাংকার ট্রাকে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করলেও এটি বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না, ফলে স্থায়ী বিকল্প রুট তৈরির প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক সারহাং হামাসাইদ মনে করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ইরাককে বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা সিরিয়াকে এড়িয়ে চলতে পারবে না। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে।

মিডল ইস্ট আই আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরে অংশ নিতে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও ইরাক সরকারের ওপর ইরানপন্থী শিয়া রাজনৈতিক দল ও মিলিশিয়াদের প্রভাব রয়েছে, তবে বর্তমান সিরীয় প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বাগদাদ আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার ওপর থেকে একাধিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন কোম্পানির জন্য সিরিয়ায় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করার পথ সহজ হতে পারে।

আরও পড়ুন: উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা পিচ্চি সানি গ্রেপ্তার

ইরাক সরকার ইতিমধ্যে হাদিসা ও কিরকুক থেকে বানিয়াস পর্যন্ত পাইপলাইন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল টিআই, শেভরন এবং কাতারের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি অনুমোদন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু ইরাক নয়, পুরো অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির ভূরাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। বর্তমানে ইরাকের প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল; দেশের বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে তেল বিক্রির আয় থেকে। ভোরটেক্সার তথ্যমতে, গত মে মাসে সমুদ্রপথে ইরাকের তেল রপ্তানি আগের বছরের গড়ের মাত্র ৮ শতাংশে নেমে এসেছিল। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প রপ্তানি পথ তৈরি করা বাগদাদ জন্য অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

আরও পড়ুন: জার্মানিতে রাশিয়ার সন্দেহভাজন গুপ্তচর ইউক্রেনীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ এম


আজ বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশাল সফরে আসছেন। সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল বিভাগে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী গৌরনদীতে খননকৃত বাটাজোর-সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ করবেন। এছাড়া বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমিসংলগ্ন সাগরদীঘি খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগদান করবেন এবং বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিশেষ সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন। এই সফর ঘিরে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্সাহ-উদ্দীপনা চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে গত কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে বরিশালে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কোনো ফেস্টুন, ব্যানার কিংবা বিলবোর্ড স্থাপন করা হয় নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বরিশাল সফর। বরিশালবাসী তাঁকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত।’ বরিশালের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প, ছয় লেন সড়ক, রেললাইন ও ভোলা-বরিশাল সেতুর বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ‘খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতেই প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সফরে আসছেন। বরিশাল বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তিনি সাংগঠনিক সভা করবেন।’ তাঁকে বরণ করে নিতে গৌরনদী থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ব্যাপকভাবে করা হয়েছে। নগরজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের পাশাপাশি সার্কিট হাউস ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। সফরস্থল নিয়মিত পরিদর্শন করছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ৮

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে শনিবার (১১ জুলাই) রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং গাইডেড বোমা দিয়ে ব্যাপকভাবে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এ হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছে এবং ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন।

এদিকে, রাজধানী কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দুই শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন বলে শহরের মেয়র জানিয়েছেন। কিয়েভে অবস্থানরত সাংবাদিকরা মনে হয়, ভোররাতে পরপর দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রথম বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট পরেই শহরের মধ্যে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, অতি দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একের পর এক হামলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে।

এ ছাড়া, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়া ১২০টির বেশি ড্রোন এবং ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারির আগেই বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে।’

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপে কাজ করার ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কিয়েভে আবাসিক ভবন, অফিস এবং একটি ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে, দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

এদিকে, উত্তরাঞ্চলের সুমি শহরে রাশিয়ার গাইডেড বিমান বোমার হামলায় একটি ছোট মেয়েসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে শহরের মেয়র আরতেম কোবজার জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি, পূর্বাঞ্চলের স্লোভিয়ানস্ক শহরে রুশ হামলায় একজন নিহত এবং দক্ষিণাঞ্চলের ওডেসা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন বলেও ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় চীনের দাপট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০০ এম


বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় চীনের দাপট

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংকগুলোর তালিকায় চীন আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সম্পদের পরিমাণ ও মূলধনের ভিত্তিতে, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে ৭টি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ব্যাংকার-এর প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের চারটি বৃহত্তম ব্যাংকই চীনের—ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি), চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক, অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়না। এই ব্যাংকগুলোর পরে পঞ্চম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জেপিমরগান চেজ। এবারের তালিকায় প্রথমবারের মতো পোস্টাল সেভিংস ব্যাংক অব চায়না শীর্ষ ১০-এর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকা ও সিটিগ্রুপ যথাক্রমে ষষ্ঠ ও অষ্টম স্থানে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত চীনা ব্যাংকগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৪ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেটি একই তালিকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর মোট ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের দ্বিগুণেরও বেশি। তবে, সম্পদের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও মুনাফার ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যাংকগুলো এখনো এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার ব্যাংকের মধ্যে চীনা ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত কর-পূর্ব মুনাফা ৩৯২ বিলিয়ন ডলার হলেও, লাভজনকতা ও আয়ের দক্ষতার দিক থেকে মার্কিন ব্যাংকগুলো এখনো এগিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ব্যাংকিং খাতের এই সম্প্রসারণ হচ্ছে দেশটির বৃহত্তর আর্থিক কৌশলের অংশ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানো, বিকল্প আন্তসীমান্ত অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় নিজেদের প্রভাব বাড়াতে কাজ করছে বেইজিং। দ্য ব্যাংকার-এর প্রধান সম্পাদক সিলভিয়া পাভোনি মন্তব্য করেছেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে চীনা ব্যাংকগুলোর সম্প্রসারণ ও ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণ ভবিষ্যতে তাদের প্রবৃদ্ধি ও মুনাফা বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়াবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চীনের ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সূত্র: দ্যা স্টার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রানওয়ে বাড়াতে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের মসজিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ এম


রানওয়ে বাড়াতে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের মসজিদ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত গৌরীপুর জামে মসজিদ, যা ১৩৬ বছরের পুরোনো এবং স্থানীয়দের কাছে বাঁকড়া মসজিদ নামে পরিচিত, সেটির স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে শনিবার থেকে মসজিদে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিয়মিত নামাজ আদায়ও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান অবস্থানে মসজিদটি থাকায় দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্য এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান রানওয়ে সংস্কারের সময় বিকল্প রানওয়ে ব্যবহার করতে গিয়ে নানান ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির মধ্যে একাধিক দফা বৈঠকের পর বিষয়টি নতুন গতি পেয়েছে।

এতদিন বিরাটি মোড়ের দিক থেকে বিমানবন্দরের তিন নম্বর ফটক দিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষ মসজিদে প্রবেশ করতে পারতেন। এরপর বিমানবন্দরের ভেতরে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মসজিদে পৌঁছাতে হতো। শনিবার থেকে সেই বিশেষ প্রবেশের অনুমতি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ফটকের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কেউ অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিশেষ দল মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করে। এরপর বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে।

তাদের বক্তব্য, বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো বাধা সৃষ্টি করার ইচ্ছা তাদের নেই। তবে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ধর্মীয় মর্যাদা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় ও আধুনিক একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সেই প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। নতুন স্থানে সব ধরনের ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে গৌরীপুর জামে মসজিদ শুধুমাত্র একটি উপাসনালয় নয়, এটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। বহু বছর ধরে আশপাশের মানুষ এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছেন। ফলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে অনেকের মধ্যে আবেগ কাজ করলেও অধিকাংশই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রানওয়ের চারপাশে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যাত্রী সংখ্যা এবং উড়োজাহাজ চলাচল আরও বাড়বে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নতুন মসজিদ নির্মাণ, স্থানান্তরের সময়সূচি এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে তা প্রকাশ করা হবে। আপাতত মসজিদে প্রবেশের অনুমতি বন্ধ থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%