০৯:৫১ এম
জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ সংকট প্রতিরোধে একটি বিশেষ কমিটি ১২ দফা সুপারিশ করেছে। কমিটি জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ কমপক্ষে তিন মাসে উন্নীত করতে, আমদানির উৎসগুলোর বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছে। এছাড়াও সরবরাহ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল মনিটরিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেছেন। প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণভাবে প্যানিক বায়িং, অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।’
কমিটি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছে। সেই সাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্প এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এছাড়া, রুফটপ সোলার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শ প্রদত্ত করা হয়েছে। কমিটি তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করা যায় কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনা করা প্রয়োজন।’ একই সাথে জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সংকটকালীন সময়ে অযৌক্তিক মজুদ বা প্যানিক বায়িং কমানো যায়।
ফিরে তাকিয়ে প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে বলছে, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি, অবকাঠামো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো স্থিতিশীল, বহুমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা সময়ের দাবি।’ বিশেষ কমিটি মনে করে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়া ১০টি সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিরোধী দল বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা নির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে সমীক্ষা পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, চাহিদার অতিরঞ্জিত পূর্বাভাস এড়িয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এর সাথে সাথে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, অপরিশোধিত তেল অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা এবং এসপিএম ও ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। বিরোধী দলের সুপারিশে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক সম্প্রসারণ, পার্বত্য অঞ্চলে মাইক্রো-হাইড্রোর সম্ভাব্যতা যাচাই, নদীপ্রবাহভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা অনুসন্ধান এবং জ্বালানি সংকটকালে সরকারি যানবাহনের ব্যবহার কমানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তাছাড়া, হাইড্রোজেন ফুয়েল প্রযুক্তি, বায়োগ্যাস এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলের মতে, কোনো একক জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বহুমুখীকরণ করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন