১০:১৯ এম
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল নোটিফিকেশন অনুযায়ী সব গ্রেডের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ হওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান, জীবনধারণ এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। তাছাড়া, একজন কর্মচারী যদি বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে উন্নীত হয়, তবে পরবর্তী পদোন্নতি না হলে তার বেতন বৃদ্ধির আর কোনো সুযোগ থাকে না।
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাবিত বিধান নিয়ে আলোচনা
গত একযুগে ৫০ শতাংশের অধিক মূল্যস্ফীতি হওয়ায় একজন সরকারি কর্মচারীর মৌলিক চাহিদার খাদ্যসামগ্রীর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এছাড়াও শিক্ষা ব্যয়, স্বাস্থ্য ব্যয় শিক্ষিত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন কর্মচারী রাষ্ট্রের কাজে নিয়োজিত আছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে।
বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৮৪টি সভা ও ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত সুপারিশ গত ২১ জানুয়ারি সরকারের নিকট দাখিল করা হয়। তবে অদ্যাবধি বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় কর্মচারীদের মাঝে হতাশা ও ক্রমাগত ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচনের জন্য তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ ইসির
সরকারি কর্মচারীরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছেন যে, সম্প্রতি 'নবম জাতীয় পে-স্কেল' বাস্তবায়নের যৌক্তিক দাবির বিপক্ষে কিছু বিভ্রান্তিকর এবং নেতিবাচক মন্তব্য বিভিন্ন যোগাযোগ ও সামাজিক মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির এক যুগ পর সিপিডি উল্লেখ করেছে যে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে তা বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তুলবে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমাবে এবং তাদের উপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি ম. নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কার্যকর করতে খুবই আন্তরিক। তার আন্তরিকতার ফলে বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ পর্যায়ে এসে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন।
কর্মচারীদের দাবিকে অযৌক্তিক বা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা মোটেও কাম্য নয়; এতে কর্মচারীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১১ বছর, ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত নতুন কোনো পে-স্কেল বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রাস্ফীতি চরমভাবে বেড়েছে। ফলে নির্দিষ্ট বেতনের সরকারি কর্মচারীরা তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য, সন্তানের শিক্ষা, জীবনধারণ, জীবনমান, বাসস্থান, যাতায়াতসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন, যা পূর্ববর্তী এবং বর্তমান বাজারের সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।
আরও পড়ুন: চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী লিউ হাইশিং এর জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন