ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা সরকারি কর্মচারীদের


পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা সরকারি কর্মচারীদের

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল নোটিফিকেশন অনুযায়ী সব গ্রেডের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ হওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান, জীবনধারণ এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যৌক্তিক হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। তাছাড়া, একজন কর্মচারী যদি বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে উন্নীত হয়, তবে পরবর্তী পদোন্নতি না হলে তার বেতন বৃদ্ধির আর কোনো সুযোগ থাকে না।

আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাবিত বিধান নিয়ে আলোচনা

গত একযুগে ৫০ শতাংশের অধিক মূল্যস্ফীতি হওয়ায় একজন সরকারি কর্মচারীর মৌলিক চাহিদার খাদ্যসামগ্রীর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এছাড়াও শিক্ষা ব্যয়, স্বাস্থ্য ব্যয় শিক্ষিত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন কর্মচারী রাষ্ট্রের কাজে নিয়োজিত আছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে।

বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ১৮৪টি সভা ও ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত সুপারিশ গত ২১ জানুয়ারি সরকারের নিকট দাখিল করা হয়। তবে অদ্যাবধি বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় কর্মচারীদের মাঝে হতাশা ও ক্রমাগত ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচনের জন্য তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ ইসির

সরকারি কর্মচারীরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছেন যে, সম্প্রতি 'নবম জাতীয় পে-স্কেল' বাস্তবায়নের যৌক্তিক দাবির বিপক্ষে কিছু বিভ্রান্তিকর এবং নেতিবাচক মন্তব্য বিভিন্ন যোগাযোগ ও সামাজিক মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির এক যুগ পর সিপিডি উল্লেখ করেছে যে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে তা বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তুলবে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমাবে এবং তাদের উপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি ম. নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কার্যকর করতে খুবই আন্তরিক। তার আন্তরিকতার ফলে বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ পর্যায়ে এসে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন।

কর্মচারীদের দাবিকে অযৌক্তিক বা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা মোটেও কাম্য নয়; এতে কর্মচারীদের মনোবল ভেঙে পড়েছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১১ বছর, ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত নতুন কোনো পে-স্কেল বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রাস্ফীতি চরমভাবে বেড়েছে। ফলে নির্দিষ্ট বেতনের সরকারি কর্মচারীরা তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য, সন্তানের শিক্ষা, জীবনধারণ, জীবনমান, বাসস্থান, যাতায়াতসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন, যা পূর্ববর্তী এবং বর্তমান বাজারের সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।

আরও পড়ুন: চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী লিউ হাইশিং এর জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৩ এম


১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক

বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক আবারও টাকার সংকটে পড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে।

চেয়ারম্যান নিয়োগের পর ব্যাংকের নানা বিতর্ক এবং চলমান আন্দোলনের কারণে গ্রাহকেরা এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংকটি থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন।

এ পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকের চাহিদা সামাল দিতে ব্যাংকটি মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে টাকা ধার চাওয়ার আবেদন করেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানান, ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চেয়েছে। তবে এখনও টাকা দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৬ এম


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, ফের বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের মূল্য। ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেলের দাম বিশ্ব বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার, ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম প্রায় এক শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

র‌য়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড ৮৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আহ্বানে ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের ওপর সরাসরি হামলা বন্ধ করায়, গতকাল মঙ্গলবার, ব্রেন্ট তেলের দাম ১৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম ২৯ মে'র পর সর্বনিম্ন অবস্থানে আসে।

মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিতের জেরে, ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালীর কাশম দ্বীপে হামলা করে মার্কিন সেনাবাহিনী। জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরানও।

উভয় দেশে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে তেলের বাজারে এসেছে দুসংবাদ। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সামনে এই তেলের বাজারে আরো অস্থিরতা হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এল নিনোর প্রভাব: দেশে নতুন মহামারি ও অচেনা ভাইরাসের শঙ্কা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ এম


এল নিনোর প্রভাব: দেশে নতুন মহামারি ও অচেনা ভাইরাসের শঙ্কা!

রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং আকস্মিক অতিবৃষ্টির আবহে, বিশ্বজুড়ে এখন আতঙ্কের নাম ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি কেবল বৈশ্বিক আবহাওয়াকে ওলটপালট করছে না, বরং ভৌগোলিক অবস্থান ও ঘনবসতির কারণে বাংলাদেশসহ দুর্যোগপ্রবণ বদ্বীপে এক নীরব স্বাস্থ্য বিপর্যয় ডেকে আনছে। এই এল নিনো দেশের ঋতুচক্রের চিরাচরিত রূপ বদলে দেয়ার পাশাপাশি, এটি কেবল ডেঙ্গু অথবা ডায়রিয়ার মতো পরিচিত রোগ তিনিই বাড়াচ্ছে না, বরং জলবায়ুর এই চরম খামখেয়ালিপনা সম্পূর্ণ নতুন ও অচেনা কোনো ভাইরাসের জন্ম দেয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে; যা ভবিষ্যতে আরও একটি বৈশ্বিক মহামারির সৃষ্টি করতে পারে।

বৈশ্বিক গবেষণা অনুযায়ী, এল নিনোর সরাসরি প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দাপদাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর কারণে হিটস্ট্রোক, তীব্র পানিশূন্যতা এবং প্রাণঘাতী শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, এল নিনোর প্রভাব থেকে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। জমে থাকা এই পানি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো ‘ভেক্টর-বর্ন ডিজিজ’ বা মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যা এবং দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া ও কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে, যা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ মো. শামসুদ্দোহা বলেছেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে ডায়রিয়া এবং ভেক্টর-বর্ন ডিজিজ (ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া) বর্তমানে সাধারণ রোগে পরিণত হচ্ছে। এমনকি হামের মতো জটিল রোগ, যা আগে একটি নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে ছিল, এখন তা বয়সের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের এই পরিবর্তনের সঙ্গে স্বাস্থ্যের কী সম্পর্ক, তা নিয়ে আমাদের নতুন করে গভীর গবেষণার প্রয়োজন।’

এল নিনোর কারণে জলবায়ুর এই দ্রুত পরিবর্তনের ফলে রোগজীবাণুর চিরাচরিত আচরণ এবং বিস্তারের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যখন আবহাওয়া চরমভাবে পরিবর্তিত হয়, তখন আমাদের চিরচেনা ইনফ্লুয়েঞ্জা অথবা নিউমোনিয়ার মতো রোগগুলো আরও মারাত্মক এবং সংক্রামক হয়ে উঠতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেছেন, ‘নিউমোনিয়া এবং ভাইরাল রোগের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। যেমন করোনা ভাইরাস আগে ছিল না, কিন্তু প্রকৃতির পরিবর্তনে তা হঠাৎ দেখা দিল—ঠিক সেইভাবে চরম আবহাওয়ার কারণে নতুন কোনো ভাইরাসের উৎপত্তি হতে পারে। তার মধ্যে শিশুদের ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়ায় রোটাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আগামীতে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।’

করোনা মহামারি বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে যে একটি নতুন রোগ কত দ্রুত বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হতে পারে। পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং এল নিনোর মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো প্রকৃতি এমন এক প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে নতুন এবং অজানা ভাইরাসের জন্ম গ্রহণ এবং তা থেকে নতুন মহামারির সৃষ্টি হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

এজন্য এল নিনোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই তাপপ্রবাহকে ‘দুর্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া, আগাম সতর্কতা জারি করা এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রস্তুতি জোরদার করার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যে গোপন অস্ত্র ব্যবহার করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যে গোপন অস্ত্র ব্যবহার করবে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাগতিক মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকা যখন মুখোমুখি হবে, তখন মাঠে কেবল ৮০ হাজারেরও বেশি উন্মাতাল দর্শক মেক্সিকোর শক্তির উৎস হিসেবে থাকবে তা নয়। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারনা অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটির আকাশছোঁয়া উচ্চতা এবং পাতলা বাতাস এই ম্যাচে স্বাগতিকদের জন্য হতে পারে সবচেয়ে বড় গোপন অস্ত্র।

এই ম্যাচটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হবে, ফলে কঠোর দুপুরের রোদ দুই দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক সহনশীলতার চরম পরীক্ষা নেবে। তবে প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩০০ ফুটেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এস্তাদিও আসতেকার ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে খুব কম স্টেডিয়াম এ ধরনের চরম উচ্চতায় অবস্থিত। এই ধরনের পরিবেশে অভ্যস্ত না হলে ফুটবলাররা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন, হৃদস্পন্দন একটি অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যায় এবং আধুনিক ফুটবলের গতিময়তা ধরে রাখা অনেকটা অসম্ভব হয়ে যায়।

মেক্সিকান ফুটবল কমিশনার মিকেল আররিওলা এটি এক মহান প্লাস পয়েন্ট হিসেবে মনে করছেন। তিনি টুর্নামেন্টের শুরুতেই আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছিলেন যে, নিজেদের মাঠ, ঘরের দর্শক এবং উচ্চতা মেক্সিকোকে একটি বিশাল সুবিধা প্রদান করবে। ইতিহাসও মেক্সিকোর বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলে। ঘরের মাঠে তাদের আগের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সগুলো ছিল অসাধারণ, যার মধ্যে ১৯৮৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্মৃতিও অন্যতম।

ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে মানবশরীরের অন্তত দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন, যাতে শরীরে লোহিত রক্তকণিকার বৃদ্ধি ঘটে এবং অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। এই সময়ের অভাব খেলোয়াড়দের দ্রুত মাঠে ক্লান্ত করে তোলে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা এই চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে এবং তারা তাদের অনুশীলন ক্যাম্প গড়ে তুলেছে মেক্সিকোরই আরেক শহর পাচুকাতে, যেখানে উঁচু প্রায় ৮ হাজার ফুট।

এটা কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, গ্রুপ পর্বের অন্যান্য দল যেমন দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটিতে উচ্চতার প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে কলম্বিয়া নিজেদের ম্যাচগুলোর আগে বোগোতার পাহাড়ি অঞ্চলেই অবস্থান করছে। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কুবেক স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপের মতো ঠাসা সূচিতে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই তাদের হাতে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মেক্সিকোর এই প্রাকৃতিক সুবিধার কি প্রভাব পড়ে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%