১০:৩৯ এম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাগতিক মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকা যখন মুখোমুখি হবে, তখন মাঠে কেবল ৮০ হাজারেরও বেশি উন্মাতাল দর্শক মেক্সিকোর শক্তির উৎস হিসেবে থাকবে তা নয়। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারনা অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটির আকাশছোঁয়া উচ্চতা এবং পাতলা বাতাস এই ম্যাচে স্বাগতিকদের জন্য হতে পারে সবচেয়ে বড় গোপন অস্ত্র।
এই ম্যাচটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হবে, ফলে কঠোর দুপুরের রোদ দুই দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক সহনশীলতার চরম পরীক্ষা নেবে। তবে প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩০০ ফুটেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এস্তাদিও আসতেকার ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে খুব কম স্টেডিয়াম এ ধরনের চরম উচ্চতায় অবস্থিত। এই ধরনের পরিবেশে অভ্যস্ত না হলে ফুটবলাররা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন, হৃদস্পন্দন একটি অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যায় এবং আধুনিক ফুটবলের গতিময়তা ধরে রাখা অনেকটা অসম্ভব হয়ে যায়।
মেক্সিকান ফুটবল কমিশনার মিকেল আররিওলা এটি এক মহান প্লাস পয়েন্ট হিসেবে মনে করছেন। তিনি টুর্নামেন্টের শুরুতেই আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছিলেন যে, নিজেদের মাঠ, ঘরের দর্শক এবং উচ্চতা মেক্সিকোকে একটি বিশাল সুবিধা প্রদান করবে। ইতিহাসও মেক্সিকোর বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলে। ঘরের মাঠে তাদের আগের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সগুলো ছিল অসাধারণ, যার মধ্যে ১৯৮৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্মৃতিও অন্যতম।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘বনসাই বিশ্ববিদ্যালয়’কে ‘বটবৃক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে’ রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য: উপাচার্য তাহ্মিনা আখতার
ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে মানবশরীরের অন্তত দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন, যাতে শরীরে লোহিত রক্তকণিকার বৃদ্ধি ঘটে এবং অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। এই সময়ের অভাব খেলোয়াড়দের দ্রুত মাঠে ক্লান্ত করে তোলে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা এই চ্যালেঞ্জকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে এবং তারা তাদের অনুশীলন ক্যাম্প গড়ে তুলেছে মেক্সিকোরই আরেক শহর পাচুকাতে, যেখানে উঁচু প্রায় ৮ হাজার ফুট।
এটা কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, গ্রুপ পর্বের অন্যান্য দল যেমন দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটিতে উচ্চতার প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে কলম্বিয়া নিজেদের ম্যাচগুলোর আগে বোগোতার পাহাড়ি অঞ্চলেই অবস্থান করছে। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কুবেক স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপের মতো ঠাসা সূচিতে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই তাদের হাতে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মেক্সিকোর এই প্রাকৃতিক সুবিধার কি প্রভাব পড়ে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন