প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং আকস্মিক অতিবৃষ্টির আবহে, বিশ্বজুড়ে এখন আতঙ্কের নাম ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি কেবল বৈশ্বিক আবহাওয়াকে ওলটপালট করছে না, বরং ভৌগোলিক অবস্থান ও ঘনবসতির কারণে বাংলাদেশসহ দুর্যোগপ্রবণ বদ্বীপে এক নীরব স্বাস্থ্য বিপর্যয় ডেকে আনছে। এই এল নিনো দেশের ঋতুচক্রের চিরাচরিত রূপ বদলে দেয়ার পাশাপাশি, এটি কেবল ডেঙ্গু অথবা ডায়রিয়ার মতো পরিচিত রোগ তিনিই বাড়াচ্ছে না, বরং জলবায়ুর এই চরম খামখেয়ালিপনা সম্পূর্ণ নতুন ও অচেনা কোনো ভাইরাসের জন্ম দেয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে; যা ভবিষ্যতে আরও একটি বৈশ্বিক মহামারির সৃষ্টি করতে পারে।
বৈশ্বিক গবেষণা অনুযায়ী, এল নিনোর সরাসরি প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দাপদাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর কারণে হিটস্ট্রোক, তীব্র পানিশূন্যতা এবং প্রাণঘাতী শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, এল নিনোর প্রভাব থেকে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। জমে থাকা এই পানি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো ‘ভেক্টর-বর্ন ডিজিজ’ বা মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যা এবং দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া ও কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে, যা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ মো. শামসুদ্দোহা বলেছেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে ডায়রিয়া এবং ভেক্টর-বর্ন ডিজিজ (ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া) বর্তমানে সাধারণ রোগে পরিণত হচ্ছে। এমনকি হামের মতো জটিল রোগ, যা আগে একটি নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে ছিল, এখন তা বয়সের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের এই পরিবর্তনের সঙ্গে স্বাস্থ্যের কী সম্পর্ক, তা নিয়ে আমাদের নতুন করে গভীর গবেষণার প্রয়োজন।’
এল নিনোর কারণে জলবায়ুর এই দ্রুত পরিবর্তনের ফলে রোগজীবাণুর চিরাচরিত আচরণ এবং বিস্তারের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যখন আবহাওয়া চরমভাবে পরিবর্তিত হয়, তখন আমাদের চিরচেনা ইনফ্লুয়েঞ্জা অথবা নিউমোনিয়ার মতো রোগগুলো আরও মারাত্মক এবং সংক্রামক হয়ে উঠতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেছেন, ‘নিউমোনিয়া এবং ভাইরাল রোগের প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। যেমন করোনা ভাইরাস আগে ছিল না, কিন্তু প্রকৃতির পরিবর্তনে তা হঠাৎ দেখা দিল—ঠিক সেইভাবে চরম আবহাওয়ার কারণে নতুন কোনো ভাইরাসের উৎপত্তি হতে পারে। তার মধ্যে শিশুদের ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়ায় রোটাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আগামীতে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।’
করোনা মহামারি বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে যে একটি নতুন রোগ কত দ্রুত বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হতে পারে। পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং এল নিনোর মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো প্রকৃতি এমন এক প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে নতুন এবং অজানা ভাইরাসের জন্ম গ্রহণ এবং তা থেকে নতুন মহামারির সৃষ্টি হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
এজন্য এল নিনোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই তাপপ্রবাহকে ‘দুর্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া, আগাম সতর্কতা জারি করা এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রস্তুতি জোরদার করার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন