প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারজনিত বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় অভিনব এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশটি সাংহাই উপকূলের কাছে সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করেছে, যা প্রযুক্তি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
‘সাংহাই লিংগাং আন্ডারসি ডেটাসেন্টার ডেমোনস্ট্রেশন প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি চালু হয় চলতি বছরের মে মাসে। বর্তমানে, এর উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে হাইক্লাউড টেকনোলজি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম অনুসারে, সাংহাই উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ মিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে এই ডেটাসেন্টার। এর প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে কাছাকাছি থাকা উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে, যা এটিকে পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব শক্তিনির্ভর করে তুলেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রচলিত স্থলভাগের ডেটাসেন্টারগুলোর তুলনায় এই আন্ডারসি ডেটাসেন্টারটি ২০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম। এর অন্যতম কারণ হলো সমুদ্রের পানির স্বাভাবিক শীতল পরিবেশ, যা সার্ভার ঠান্ডা রাখতে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন কমিয়ে দেয়। যেখানে স্থলভাগের ডেটাসেন্টারগুলোর কুলিং সিস্টেমেই মোট বিদ্যুতের ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে এই প্রযুক্তি সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছে।
এছাড়া, পানির নিচে ডেটাসেন্টার স্থাপনের ফলে সুপেয় পানির ব্যবহারও কমে যাচ্ছে, যা বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত বিবেচনা। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটাসেন্টারগুলোতে পানির ব্যবহার বিপুল পরিমাণে বেড়ে যেতে পারে-যা বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।
এদিকে, পানির নিচে ডেটাসেন্টার স্থাপনের ধারণা নতুন নয়। এর আগে ২০১৮ সালে মাইক্রোসফট স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের কাছে পরীক্ষামূলকভাবে এমন একটি প্রকল্প চালু করেছিল। যদিও পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ আর এগিয়ে যায়নি, তবে চীন এবার সেই ধারণাকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের চাহিদা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সরকারের নীতিগত সহযোগিতার সমন্বয়েই চীন এই খাতে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটি ইতোমধ্যে এআই খাতকে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিনির্ভর অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রেখেছে।
তবে, এই উদ্যোগের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। সমুদ্রের তলদেশে স্থাপনা নির্মাণের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব পড়তে পারে-যেমন পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা তলদেশের পলিমাটি বিঘ্নিত হওয়া। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলেন, যথাযথ নজরদারি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উল্লেখ্য, সমুদ্রের তলদেশে বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালুর মাধ্যমে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও পরিবেশ- এই তিন ক্ষেত্রেই এক নতুন যুগের সূচনা করল চীন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন