১০:৩৭ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের ওপর ‘আক্রমণের প্রস্তুতি’ হিসেবে মনে করছে উত্তর কোরিয়া। এর প্রতিবাদ হিসেবে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সাগরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে কিম জং উনের দেশ।
বুধবার ভোর ৬টার সময় উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে এই অস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। এটি ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পড়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে পড়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে পিয়ংইয়ংয়ের যে কোনো উসকানি রুখতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এই বিষয়ে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসংঘের প্রস্তাব অমান্য করে এই উসকানিমূলক কার্যকলাপ দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধ স্থগিতে সম্মত ইউক্রেন’
আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বার্ষিক বৃহৎ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করতে যাচ্ছে। যদিও তারা একে আত্মরক্ষামূলক দাবি করছে, কিম জং উনের মতে এটি ‘যুদ্ধ শুরুর উসকানি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই ‘সক্রিয় ও বিশাল’ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই মহড়ার শুরুর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় তারা নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করেছে।
এর আগে, গত জুনের পর ৬ আগস্ট তারা আরেকটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পিয়ংইয়ং এখনো দেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে পিয়ংইয়ং নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি তারা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইউক্রেন যুদ্ধের সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার কাছে সৈন্য ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। এছাড়াও, গত জুনে দীর্ঘ ৭ বছর পর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পিয়ংইয়ং সফরের মাধ্যমে কিম পুরনো মিত্র চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছেন।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর তুরস্কের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন