০৭:৫৬ পি.এম
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আছে মাত্র ৩ দিন ও ১০ ঘণ্টা। এই সময়ের পরে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্বসেরা ফুটবলারদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে আমেরিকায় পা রেখেছেন। যেখানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স এবং স্পেনের মতো পরাশক্তিদের লক্ষ্য সোনালী ট্রফি অর্জন করা, সেখানে কিছু দল মাঠে নামছে চাপমুক্ত হয়ে। ফুটবল বিশ্বের পরিভাষায় এদের বলা হয় 'ডার্ক হর্স', যারা নিজেদের দিনে যেকোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে পরাস্ত করে টুর্নামেন্টের সব হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে সক্ষম।
নরওয়ে: হাল্যান্ড-ওডিগার্ডের 'চিট কোড'
১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম নরওয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসেছে। আর ফিরেই তারা বড় দলের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। নরওয়ে দলের ডাগআউটে আছেন আর্লিং হালান্ডের মতো একজন বিধ্বংসী 'চিট কোড', যিনি একাই যেকোনো রক্ষণভাগকে বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম। শুধু হালান্ডই নন, মাঝমাঠে আর্সেনালের অধিনায়ক মার্টিন ওডিগার্ডের নিখুঁত পাসিং এবং তরুণ অস্কার বব, আন্তোনিও নুসা ও জুলিয়ান রাইয়ারসনদের নিয়ে গড়া এই নরওয়ে দলটি এবার প্রকৃত অর্থেই উড়ছে। বাছাইপর্বে ইতালিকে দুবার হারিয়ে আসা স্টেল সোলবাকেনের দলটি নকআউট পর্বে কোনো পরাশক্তিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতে চান করবে না।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
কলম্বিয়া: লাতিন আমেরিকার অপ্রতিরোধ্য শক্তি
২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ের গোলে তারা স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। কিন্তু সেই ধাক্কা কাটিয়ে লুইস দিয়াজের মতো বিশ্বমানের উইঙ্গার এবং অভিজ্ঞ হামেস রদ্রিগেজের জাদুকরী বাঁ পায়ের উপর ভর করে এবার বিশ্বজয়ের মঞ্চে তারা দারুণ শক্তিশালী। কলম্বিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো উত্তর আমেরিকার পরিচিত আবহাওয়া এবং গ্যালারিতে লাখো কলম্বিয়ান ভক্তদের বিশাল সমর্থন। পর্তুগালের গ্রুপে থাকা এই দলটি যদি গ্রুপ সেরা হতে পারে, তবে সেমিফাইনালে পৌঁছানো তাদের জন্য সহজ হবে।
জাপান: সামুরাই-ব্লু
গত বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে অবাক করা জাপান এবার আরও বেশি পরিপক্ব হয়ে এসেছে। বাছাইপর্বের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৩টি ম্যাচ জিতে তারা মূল পর্বে এসেছে, যেখানে তারা মাত্র ৩টি গোল খেয়েছে। সম্প্রতি ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও শক্তি প্রমাণ করেছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক বিস্ময় বালক তাকেফুসো কুবোর সৃজনশীলতা এবং ফেইনুর্ডের হয়ে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদার ক্ষুরধার ফর্ম জাপানের আক্রমণভাগকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। জাপানের হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে যেকোনো বড় দল বিপদে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
মরক্কো: গতবারের রূপকথা কি এবারও
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল মরক্কো। বিশ্লেষকদের মতে, তারা এবারও নতুন কোনো রূপকথা লিখতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আয়াশরফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ এবং বিলাল এল খানৌসের মতো তারকারা মরক্কো দলের প্রতিটি পজিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্য তৈরি করেছে। কাতার বিশ্বকাপের সেই অদম্য মানসিকতা ধরে রাখতে পারলে মৌসুমে বড় দলের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারে হাকিমি।
সুইজারল্যান্ড ও সেনেগাল: এক্সপেরিইয়েন্স ভার্সেস স্পিড
ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দেওয়া সুইজারল্যান্ড এবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে চমক হতে পারে। কোচ মুরাত ইয়াকিনের অধীনে এই সুইস স্কোয়াডে রয়েছে অভিজ্ঞতা এবং ট্যাকটিক্যাল পরিপক্বতার দারুণ মিশ্রণ।
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
অন্যদিকে, আফ্রিকার শক্তিশালী সেনেগালকে অনেকেই হিসাবের বাইরে রাখছেন, কিন্তু সাদিও মানে, ইসমাইলা সার এবং নিকোলাস জ্যাকসনদের নিয়ে গড়া তাদের আক্রমণভাগ যেকোনো দলের ডিফেন্সের জন্য মহা আতঙ্ক।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ‘ডার্ক হর্স’ বা আন্ডারডগ দলের পরাশক্তি বধের গল্প নতুন কিছু নয়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর অবিস্মরণীয় জয়; যেটা কেউ হিসেবের মধ্যে না রাখলেও নকআউট পর্বে একের পর এক লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে বিদায় করে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পা রাখে তারা। একইভাবে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে আর্জেন্টিনার সমৃদ্ধ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে একে একে ডেনমার্ক, স্বাগতিক রাশিয়া এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নকআউট করে ফাইনালে খেলেছিল।
এছাড়া ২০০২ বিশ্বকাপে সহ-স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়ার কথা তো ফুটবল ভক্তরা কখনোই ভুলবেনা, যারা নকআউট পর্বের চরম নাটকীয়তায় ইতালি ও স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছিল। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, বিশ্বমঞ্চে ফেবারিটদের তকমা যতই ভারী হোক না কেন, আন্ডারডগদের নিখুঁত কৌশল এবং অদম্য মানসিকতার সামনে যেকোনো পরাশক্তি যখন খেই হারাচ্ছে, তখন তা সহজেই ভেঙে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন