ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা দেশের সমৃদ্ধি বয়ে আনে: বিভাগীয় কমিশনার


নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা দেশের সমৃদ্ধি বয়ে আনে: বিভাগীয় কমিশনার

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস.এম.হুমায়ুন কবির সরকার বলেছেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা জরুরি। জন্মনিয়ন্ত্রণে আমাদের কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিকল্পিত পরিবার পরিকল্পনা জরুরি। নিয়ন্ত্রিত এবং পরিকল্পিত পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা এ দেশের মানুষের জন্য আরও ভালো কিছু করতে চাই।

বাংলাদেশে বিশ কোটি জনসংখ্যার চল্লিশ কোটি হাতকে পুরোপুরি কর্মক্ষম করার পূর্ব পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কারণ, তা না হলে জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত না হয়ে জনদুর্ভোগে পরিণত হবে। সুস্থ, শিক্ষিত এবং নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা দেশের সমৃদ্ধি বয়ে আনে। একটি সুস্থ, সুন্দর এবং পরিকল্পিত পরিবারই ভবিষ্যতের রূপকার হবে।

আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদে ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে সকলের সমর্থন ও দোয়া চান মোহাঃ সাদিকুল ইসলাম

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘তারুণ্যের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ এ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেকহা) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন এবং বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. প্রদীপ কুমার সাহা।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প.প. কার্যালয়ের পরিচালক মো. মাজহারুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে জেলা প.প. কার্যালয়ের ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্যকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) বলেন, দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়। জনসংখ্যার অপরিকল্পিত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এটি বোঝায় পরিণত হবে। তাই পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যাই দেশের সম্পদ।

‘মমেকহা’র পরিচালক অনুষ্ঠানে বলেন, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত কাজটি দলগত প্রচেষ্টার ফসল। মাঠ পর্যায়ের বিশাল কাজের সফল বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে আমির হামজার মাহফিলের প্যান্ডেল খুলে ফেলা হলো

সভায় সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি বলেন, পরিবার পরিকল্পনার মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের দোরগোড়ায় এমনকি বাড়ির রান্নাঘর পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকে। শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ নয়, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, উঠান বৈঠক, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করে থাকে পরিবার পরিকল্পনা। সুস্থ পরিবার, সুস্থ দেশ এবং সমৃদ্ধ অর্থনীতি।

সভা শেষে অতিথিরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা ময়মনসিংহ বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


সাবেক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) বাদ আসর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সরকার দলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ সংসদ সদস্যরা।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাবেক এ স্পিকারের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় জানাজার পর সংসদ প্রাঙ্গণের পাশের কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে। কথা রয়েছে।

এর আগে, রবিবার ভোরে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। প্রবীণ এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত ও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশকিছু দিন ধরে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

রোববার সকালে এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় ও ইউনিট, আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠন।

এ ছাড়াও সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের মৃত্যুতে সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এর আগে রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ রোববার এক শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

মন্ত্রী বলেছেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, প্রথিতযশা আইনজীবী এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ এবং দেশের সাংবিধানিক ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শোকবার্তায় বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন প্রজ্ঞা, সততা ও দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে যে অবদান রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ ভোরে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৯৫ বছর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেরি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নিজের অবস্থান জানালেন হান্নান মাসউদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


ফেরি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নিজের অবস্থান জানালেন হান্নান মাসউদ

নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রী এবং মালবাহী ফেরি মাঝনদী থেকে আবার ঘাটে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌপথে যাত্রা শুরু করা ফেরি ‘মহানন্দা’য় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেরিটির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম।

অভিযোগ উঠেছে যে, সংসদ সদস্যকে বহন করতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বেরিয়ে আসা ফেরি ‘মহানন্দা’ মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। এই ঘটনায় ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার স্রষ্টা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৩টায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে চেয়ারম্যানঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ফেরি ‘মহানন্দা’ যাত্রা শুরু করে। প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর হঠাৎ করে ফেরিটি মাঝনদী থেকে ঘুরে আবার চেয়ারম্যানঘাটে ফিরে আসে। পরে সেখানে অপেক্ষমাণ সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠেন। এরপর ফেরিটি পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির জানিয়েছেন, ফেরি ছাড়ার আগে সময় নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল, তবে পরে নির্ধারিত সময়েই ফেরিটি ছেড়ে যায়। কিন্তু প্রায় ২৩ মিনিট পর ফেরিটি আবার ঘাটে ফিরে আসে। পরে জানতে পারি, এমপি হান্নান মাসউদকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফেরিটি ফিরেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যাত্রী মন্তব্য করেন, ফেরি মাঝনদী থেকে হঠাৎ ফিরে আসায় তারা বিস্মিত হন। পরে তারা দেখতে পান, এমপি এবং তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফেরিতে উঠছেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ তাদের জন্য উদ্বেগের ছিল। এতে তাদের সময়ও নষ্ট হয়েছে। একজন ভিআইপির জন্য শত শত যাত্রীকে অপেক্ষা করানো কতটা যৌক্তিক এই প্রশ্ন থেকেই যায়।

ঘটনার পর রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেছেন, সরকারি কাজের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যানঘাটে পৌঁছানোর সময় ফেরিটি প্রায় দুই মিনিট আগে ছেড়ে যায়। তবে তখন ফেরিটি ঘাট এলাকা থেকে খুব বেশি দূরে যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ফেরিটিকে ঘাটে ফিরিয়ে এনে তাকে ওঠিয়ে নেয়।

তিনি আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরি ছাড়া অন্য সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প কোনো যাতায়াতের সুযোগ ছিল না। এই অবস্থায় ফেরি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।

এমপি দাবি করেছেন একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ আগেই ফেরির মাস্টারকে ফোন দিয়ে তার আসার বিষয়টি জানান দিয়েছিলেন। তবে ফেরির পূর্ববর্তী মাস্টার সম্প্রতি অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন এবং নতুন মাস্টারের মোবাইল নম্বর এমপির কাছে ছিল না। ফলে নির্ধারিত সময়েই ফেরি ঘাট ছেড়ে যায়। ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এমপি ঘাটে পৌঁছান। ওই সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। এমপির অনুরোধে ঘাট ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে ফেরির মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে এনে এমপিকে ওঠার ব্যবস্থা করি।

সাজ্জাদুল ইসলাম আরও জানান, রোগী, অ্যাম্বুলেন্স এবং ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরবর্তীতে আর কোনো নৌযান চলাচল করছিল না।

ফেরির মাস্টার নুরুল আমীন জানিয়েছেন, ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে, ঘাটে এমপি এসেছেন। এরপর ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রা শুরু করা একটি ফেরিকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা যাত্রীসেবার নীতিমালার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বৈরী আবহাওয়া, বিকল্প নৌযান না থাকা এবং বিদ্যমান প্রটোকল বিবেচনায় ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য

আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের ‘টপ প্রায়োরিটি’ বা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন পুরো ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরে এখন একটি ‘ক্লিনিং প্রসেস’ বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। ব্যাংক এবং আর্থিক খাতে গত কয়েক বছরে সংঘটিত সব অনিয়ম, দুর্নীতি এবং লুটপাটের তদন্ত হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনিয়ম ও ঋণ খেলাপি নিয়ে প্রশ্ন করেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সালাহ উদ্দিন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তদবির, ঘুষ-বাণিজ্য এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোনের নামে লুটপাট করা হয়েছে। যার ফলস্বরূপ ব্যাংকটির প্রায় ৬১ শতাংশ ঋণই এখন খেলাপি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখনও সেই পুরোনো সিন্ডিকেট লোন উত্তোলন ও দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তিনি এই সিন্ডিকেট ভাঙা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এমপি সালাউদ্দিনের এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানো এ সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর্থিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে যেতে হলে এটি নিশ্চিত করতেই হবে। কেবল একটি ব্যাংক নয়, অনেকগুলো ব্যাংকে কী ঘটেছে তা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। পুরো আর্থিক খাতের জঞ্জাল রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়, তবে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ফারহানা সরাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর এলাকার কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার (হিমাগার) ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের জন্য চলমান তহবিলের পরিমাণ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এ তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে সর্বাধিক ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন, যেখানে গ্রামীণ এলাকা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এছাড়া কৃষি এবং পল্লী খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনরর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে; চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এসব সুবিধা দেশের জন্য প্রযোজ্য হওয়ায় নির্দিষ্ট করে কোনো উপজেলার জন্য আলাদা করে ঋণ সুবিধা চালুর প্রয়োজন নেই।

এ বক্তব্যের পর একটি সম্পূরক প্রশ্ন করেন সংসদ সদস্য ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী এবং বেসিক ব্যাংকে গত ১৫ বছরে যে পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশই খেলাপি। বিশেষ করে জনতা ব্যাংকের ৭০ শতাংশ খেলাপি ঋণই এসআরএম, বেক্সিমকো, অ্যালন টেক্স গ্রুপ এবং বিসমিল্লাহ গ্রুপের মতো নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হয়েছে। যারা এ বিপুল পরিমাণ টাকা লুটপাট করে পরিশোধ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নটি মূল বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে গেছেন, তাদের ব্যাপারে এ সরকার কোনো কম্প্রোমাইজ বা আপস করবে না। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সংসদে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এর আগেই দেওয়া হয়েছে এবং এই কঠোর ধারা বজায় থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

এরপর কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ তার অঞ্চলের কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের দুর্বলতা ও অনিয়মের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই ব্যাংকটিকে নিয়ে নানা অনিয়মের খবর প্রকাশ পায়। আগে এখানে একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের নামে লুটপাট করেছে এবং এখন তারা খোলস বদলে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ব্যাংকটিকে কৃষকবান্ধব করতে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে তদন্তের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা তা জানতে চান তিনি।

আতিকুর রহমান মুজাহিদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপির ব্যাংক দখল প্রক্রিয়া বা প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যাংকেই এখন রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো নিয়োগ বা পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্টের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বর্তমানে একটি গভীর বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনা চলছে, যা সম্পন্ন হলে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

এরপর চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার যুব সমাজের কর্মসংস্থান ও তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান। ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের এই আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%