ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য


প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য

আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের ‘টপ প্রায়োরিটি’ বা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন পুরো ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরে এখন একটি ‘ক্লিনিং প্রসেস’ বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। ব্যাংক এবং আর্থিক খাতে গত কয়েক বছরে সংঘটিত সব অনিয়ম, দুর্নীতি এবং লুটপাটের তদন্ত হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনিয়ম ও ঋণ খেলাপি নিয়ে প্রশ্ন করেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সালাহ উদ্দিন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তদবির, ঘুষ-বাণিজ্য এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোনের নামে লুটপাট করা হয়েছে। যার ফলস্বরূপ ব্যাংকটির প্রায় ৬১ শতাংশ ঋণই এখন খেলাপি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখনও সেই পুরোনো সিন্ডিকেট লোন উত্তোলন ও দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তিনি এই সিন্ডিকেট ভাঙা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এমপি সালাউদ্দিনের এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানো এ সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর্থিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে যেতে হলে এটি নিশ্চিত করতেই হবে। কেবল একটি ব্যাংক নয়, অনেকগুলো ব্যাংকে কী ঘটেছে তা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। পুরো আর্থিক খাতের জঞ্জাল রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়, তবে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ফারহানা সরাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর এলাকার কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার (হিমাগার) ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের জন্য চলমান তহবিলের পরিমাণ ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এ তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা ৭ শতাংশ সুদে সর্বাধিক ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন, যেখানে গ্রামীণ এলাকা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এছাড়া কৃষি এবং পল্লী খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনরর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে; চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

অর্থমন্ত্রী জানান, এসব সুবিধা দেশের জন্য প্রযোজ্য হওয়ায় নির্দিষ্ট করে কোনো উপজেলার জন্য আলাদা করে ঋণ সুবিধা চালুর প্রয়োজন নেই।

এ বক্তব্যের পর একটি সম্পূরক প্রশ্ন করেন সংসদ সদস্য ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী এবং বেসিক ব্যাংকে গত ১৫ বছরে যে পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশই খেলাপি। বিশেষ করে জনতা ব্যাংকের ৭০ শতাংশ খেলাপি ঋণই এসআরএম, বেক্সিমকো, অ্যালন টেক্স গ্রুপ এবং বিসমিল্লাহ গ্রুপের মতো নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হয়েছে। যারা এ বিপুল পরিমাণ টাকা লুটপাট করে পরিশোধ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তা জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নটি মূল বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে গেছেন, তাদের ব্যাপারে এ সরকার কোনো কম্প্রোমাইজ বা আপস করবে না। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সংসদে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এর আগেই দেওয়া হয়েছে এবং এই কঠোর ধারা বজায় থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

এরপর কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ তার অঞ্চলের কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের দুর্বলতা ও অনিয়মের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই ব্যাংকটিকে নিয়ে নানা অনিয়মের খবর প্রকাশ পায়। আগে এখানে একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের নামে লুটপাট করেছে এবং এখন তারা খোলস বদলে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ব্যাংকটিকে কৃষকবান্ধব করতে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে তদন্তের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা তা জানতে চান তিনি।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

আতিকুর রহমান মুজাহিদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপির ব্যাংক দখল প্রক্রিয়া বা প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যাংকেই এখন রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো নিয়োগ বা পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্টের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বর্তমানে একটি গভীর বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনা চলছে, যা সম্পন্ন হলে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।

এরপর চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার যুব সমাজের কর্মসংস্থান ও তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান। ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের এই আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএসইতে ঊর্ধ্বমুখী লেনদেন, দাম বেড়েছে ১৯৯ প্রতিষ্ঠানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


ডিএসইতে ঊর্ধ্বমুখী লেনদেন, দাম বেড়েছে ১৯৯ প্রতিষ্ঠানের

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দিনভর ডিএসইতে মোট ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫৩৩টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৫২ কোটি ৬৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৬টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এই লেনদেনের আর্থিক মূল্যে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৬৩ লাখ ৭৪ হাজার ২৮৩ টাকা।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৯টির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, ১৫৬টির দাম কমেছে এবং ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিন শেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৪৯ দশমিক ২২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএস-৩০ সূচক ২২ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ২০০ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৩ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৯২ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক লেনদেনে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৭টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৪১টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮টির দাম বেড়েছে, ৩৯টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

অন্যদিকে, ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৭৬টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন ‘এন’ ক্যাটাগরিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়নি।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন হওয়া ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ৩২টির ইউনিট দর বেড়েছে, ১টির দাম কমেছে এবং ১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া, করপোরেট বন্ড খাতে লেনদেন হওয়া ৫টি বন্ডের মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে এবং ২টির দাম কমেছে।

লেনদেন মূল্যের হিসাবে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে তৌফিকা ফুডস, বিএসসিসি, মালেক স্পিনিং, ইস্টার্ন হাউজিং, আইটিসি, জেনেক্স ইনফোসিস, বেক্সিমকো ফার্মা, আইপিডিসি, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং মেঘনা ইন্স্যুরেন্স।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি এএমসিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড, অগ্রণী ইন্সুরেন্স, আইসিবি এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, এফবিএফ ইনকাম ফান্ড এবং ট্রাস্ট ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড।

অন্যদিকে, দর পতনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত, জাহিন টেক্সটাইল, ইনটেক লিমিটেড, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক, শ্যামপুর সুগার মিলস, এমেরাল্ড অয়েল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফ্যামিলি টেক্সটাইলস এবং মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টির পানিতে ভোগান্তিতে ঢাবির শিক্ষার্থীরা, দুই হলে নেই বিদ্যুৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


বৃষ্টির পানিতে ভোগান্তিতে ঢাবির শিক্ষার্থীরা, দুই হলে নেই বিদ্যুৎ

টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি আবাসিক হলে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে, দুইটি নারী হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকার ফলে কয়েক হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। সকাল থেকে এই দুটি হলে বিদ্যুৎ নেই, ফলে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা ভীষণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সহ-সভাপতি তাসনিম আক্তার আলিফ নাবিলা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সকাল থেকে হলে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তাদের মোবাইলের চার্জও শেষ হয়ে আসছে। যদি আরও কিছু ঘণ্টা বৃষ্টি হয়, তাহলে নিচতলার কক্ষগুলোর মধ্যে পানি ঢুকে যেতে পারে।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে হলটির আরেক শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান নদী গণমাধ্যমকে জানান, জলাবদ্ধতার জন্য হলের দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে এবং খাবারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। হলের সামনে কোমরসমান পানি থাকায় বাইরে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, উপাচার্য চত্বর, গণিত ভবন, কার্জন হল এবং পলাশী এলাকাতেও পানি জমে রয়েছে।

অন্যদিকে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহীদুল্লাহ হলের নিচতলার কক্ষগুলোর বারান্দায়ও পানি প্রবাহিত হয়েছে।

হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জুনায়েদ আবরার গণমাধ্যমকে জানালেন, হলের মাঠে বুকসমান পানি জমেছে। যদি কিছুক্ষণ আরও বৃষ্টি হয়, তাহলে নিচতলার কক্ষগুলোতে পানি প্রবেশ করতে পারে। তবে ক্যান্টিন চালু থাকলেও ভবনের ভিতরে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের

বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী, একাধিকবারের সংসদ সদস্য, ‘৫২-এর ভাষাসৈনিক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং প্রথিতযশা আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার তিনি এক শোকবার্তায় বলেন, ‘তাঁর মৃত্যুতে দেশ হারালো কীর্তিমান, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হলো গভীর শূন্যতা। ব্যারিস্টার মরহুম জমির উদ্দিন সরকার তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে যেভাবে নিবেদিত থাকতেন, সেজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয় থাকবেন।

মির্জা ফখরুল যুক্ত করেন, বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে এদেশে সংসদীয় রাজনীতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা দেশবাসী কখনও বিস্মৃত হবে না।

তিনি আরও বলেন, তাঁর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে শেরেবাংলা ফজলুল হক থেকে শুরু করে শহীদ জিয়া, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের সহকর্মী হিসেবে রাষ্ট্র ও সমাজে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ছিলেন সমকালীন রাজনীতির এক জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর মৃত্যু দেশের ওপর গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ রোববার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যার জন্য জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই জেলাগুলোর মধ্যে বিজিবি উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করবে বলে জানা গেছে।

রোববার (১২ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজিবি মোতায়েন করা ১১টি জেলার তালিকা হলো- কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢল ও বন্যা এবং ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্ধারের পাশাপাশি, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যাপ্রবাহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া ছাড়াও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে বিজিবি। এছাড়া, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে, উপরে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কার্যক্রমে বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এছাড়া, নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিখসার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%