০৪:৫৭ পি.এম
কুয়েত ও বাহরাইনে নতুন করে হামলা চালানোর পেছনে দুই দেশের সরাসরি দায় রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এ সম্পর্কে তেহরান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ইরানে মার্কিন হামলার জন্য এই দুই দেশ দায়ী, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য তাদের ভূখণ্ড ও সহায়তা ব্যবহার করছে।
এ বিষয়ে বুধবার (৩ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং চলমান যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় কুয়েত ও বাহরাইনের স্পষ্ট এবং সরাসরি দায় রয়েছে। তেহরান আরও স্পষ্ট করেছে যে তাদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলা হলে যথাযথ জবাব দিতে সব ধরনের উপায় ব্যবহার করা হবে এবং হামলার উৎসকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
এর আগে কুয়েতে প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরের দিকে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই সেগুলোকে ধ্বংস করা হয়। তারা নিশ্চিত করে জানায়, দেশের অভ্যন্তরে কোনো স্থাপনায় শত্রুতাপূর্ণ হামলা হয়নি, যে শব্দ স্থানীয় বাসিন্দারা শুনেছিল, সেটি মূলত শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার আওয়াজ।
এ বিষয়ে কিন্তু কুয়েতের দাবি ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় আইআরজিসি দাবি করেছে, কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হানার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।
কুয়েতের পাশাপাশি, একই সময় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাহরাইনের সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানায়, পারস্য উপসাগরীয় ইরানি কেশম দ্বীপের আশপাশে প্রথমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন