বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৬:৪০ পি.এম
লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ১৭২ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে সরকার দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সরকারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বুরাক এয়ারের বিশেষ ফ্লাইটযোগে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৫টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে এসব বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। এই ঘটনাটি চলতি বছরে লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালা থেকে মোট এক হাজার ৫৪৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, দেশে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের কারণে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে এই ব্যক্তিদের পথ খরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়লা ও আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা থেকে বেরিয়ে এসে, বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মহাপরিকল্পনার আওতায়, দেশের প্রতিটি পৌরসভায় পর্যায়ক্রমে ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ) সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে।
এসব এমআরএফ সেন্টারে পৌর এলাকার দৈনন্দিন বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই, পুনর্ব্যবহার এবং জৈব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনসহ প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর আওতায় আনতে সরকার নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কাছে এক নির্দেশনা পাঠিয়েছে, যাতে দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে যেসব পৌরসভায় ডাম্পিং স্টেশন বা ডাম্প ইয়ার্ড নেই, সেসব পৌরসভার জন্য প্রয়োজনীয় খাস জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত পত্রে জেলা প্রশাসকদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানো হয়। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থায়ী বন্দোবস্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ভিত্তিতে সরকারি খাস জমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে বর্জ্য ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নগর উন্নয়ন শাখার অতিরিক্ত সচিব ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যুগে প্রবেশ করবে।
তিনি আরও বলেন, বহুদিন ধরে দেশের প্রতিটি পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া চলছে। সকলেই চাচ্ছিলেন পৌর শহরগুলোতে প্রকাশ্যে বর্জ্য ফেলা না হয় এবং সরকার যাতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। অবশেষে বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেছেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশব্যাপী আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি দৃশ্যমান রূপ দেখতে পাবে বাংলাদেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে কাইলি জেনার ও টিমোথি শালামেটের সম্পর্ক। সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ কিছু পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, কাইলি জেনার তার প্রেমিক টিমোথি শালামেটের সন্তানের মা হতে চলেছেন।
একটি ভাইরাল পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কাইলি জেনার টিমোথি শালামেটের সঙ্গে প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় আছেন।’ এই পোস্টটি কয়েক মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। একই ধরণের আরও কিছু পোস্টে একটি আলট্রাসাউন্ডের ছবি শেয়ার করা হয়েছে, যা কাইলির বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বর্তমানে কাইলি জেনার বা টিমোথি শালামেট—কেউই এই বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
তারা গর্ভধারণের খবর নিশ্চিত বা অস্বীকারও করেননি।
এদিকে, যে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম এই দাবি ছড়ানো হয়েছে, সেটি মূলত ব্যঙ্গাত্মক ও প্যারোডি কনটেন্ট প্রকাশের জন্য পরিচিত। ফলে ভাইরাল হওয়া এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কাইলি জেনার ও টিমোথি শালামেটের সম্পর্কের গুঞ্জন প্রথম শোনা যায় ২০২৩ সালে। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। বর্তমানে তারা হলিউডের আলোচিত তারকা জুটিগুলোর মধ্যে একটি।
সুতরাং আপাতত কাইলির গর্ভধারণের খবরকে শুধুমাত্র গুঞ্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ এ সম্পর্কে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য বা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এখন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় ১১টা ১২ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় অ্যান্টোফাগাস্তা উপকূলের কাছে ৫.৫ মাত্রার এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়, বিভিন্ন ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সিজিটিএন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রের নিচে, যা উত্তর চিলির উপকূল থেকে দূরে অবস্থিত। ভূমিকম্পের কেন্দ্র প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে অবস্থান করায় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে কম্পন অনুভূত হয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চিলির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এখন পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ৫.৫ মাত্রার এ ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত বড় সুনামি সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে না।
অ্যান্টোফাগাস্তা অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তামা উৎপাদন কেন্দ্র। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে একাধিক মাঝারি ও শক্তিশালী ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। গত মে মাসেও অ্যান্টোফাগাস্তা অঞ্চলে ৬.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত করেছে, যদিও তাতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে চিলি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত, তাই দেশটিতে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা, জাপান এবং চিলিতে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরও ৯৭১ জন আহত হয়েছেন বলে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
গত বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটিকে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম বিবেচনা করা হচ্ছে। এর কম্পন দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সময় বুধবার লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫, আর দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২।
এটি দেশের ইতিহাসে ১২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই ভূমিকম্পের ফলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য রাতের অন্ধকারে অভিযান চালিয়েছেন।
ভূমিকম্পের সময় রবার্তো গামাস নামের এক বাসিন্দা তার ভবন থেকে প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেছেন, “ভবনটি এক পাশ থেকে আরেক পাশে দুলছিল। দৃশ্যটি ছিল অবিশ্বাস্য।”
তিনি আরও বলেন, “সৌভাগ্যক্রমে ভবনটিতে তখন খুব বেশি মানুষ ছিল না। কিন্তু ভাবুন তো, যদি অনেক মানুষ থাকতো, তাহলে সবাই বের হওয়ার চেষ্টা করলে কী ধরনের আতঙ্ক তৈরি হতো!”
ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে ঝুঁকি নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। অন্ধকারের মধ্যে তারা ভেঙে পড়া স্থাপনার ওপর উঠে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন এবং ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে আরও কাজ করেন।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় সবচেয়ে শক্তিশালী। এর আগে, ১৯০০ সালের ২৯ অক্টোবর উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত ভেনেজুয়েলায় এমন শক্তিশালী কম্পন দেশটির অবকাঠামো ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুনভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর সাধারণত আরও আফটারশক বা পরাঘাতের আশঙ্কা থাকে, তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সতর্কতা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ