০৫:১৭ পি.এম
দেশের প্রতিটি শ্রেণি, পেশা এবং ধর্ম-বর্ণের মানুষেরা এবারের বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে, এ মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এই মন্তব্যটি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট তিনি পেশ করেন।
বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশে কমপক্ষে ছয় মাস সময়ের একটি দীর্ঘ কর্মযজ্ঞ প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সময় সীমিত ছিল মাত্র দেড় থেকে দুই মাস। এত কম সময়ে একটি বাজেট প্রস্তুত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। তবে সবার সহযোগিতায় আমরা কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমরা কতটুকু সফল হয়েছি, এটি দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে।’
আরও পড়ুন: রাজধানীতে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
এবারের বাজেটের ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, ‘এই বাজেটের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এরপর নির্বাচিত সরকারের এই সময়কাল জনগণ বাজেটের حقیق কার্যকারিতা ফিরে পেয়েছে। বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে দেশবাসী এমন একটি বাজেটের অভাব অনুভব করেছে, যা সত্যিকার অর্থে জনগণের চিন্তার প্রতিফলন ঘটায়। বাজেট বলতে মূলত জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনকেই বোঝায়।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাজেট প্রণয়নের সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনীতিকে আরও গণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। অতীতে অর্থনীতি ছিল শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনীতির মূলধারার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য এবার সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ, কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, এই বাজেটটি শুধুমাত্র নীতিমালা নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘রোডম্যাপ’ বা রূপরেখাও বাজেটে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত দেড় দশকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন বিশ্ব নিয়ম ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে ক্রমশ সুরক্ষাবাদী (প্রটেকশনিস্ট) ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: সৌদি আরবের ৩ শহরে জরুরি সতর্কতা জারি
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: রাজধানীর ৩০০ ফিটে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় একজন নিহত, একজন আহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন