ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের জন্মদিন উপলক্ষে থাকছে বিশেষ উপহার


মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের জন্মদিন উপলক্ষে থাকছে বিশেষ উপহার

তামিল সিনেমার সুপারস্টার বিজয়, যিনি রাজনীতির শীর্ষে উঠে আসার কারণে জনপ্রিয়তা সময়ের সাথে সাথে আরো বেড়েছে, বর্তমান মুহূর্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও ভক্তদের কাছে তাঁর চলচ্চিত্রের আবেদন এতটুকুও কমেনি।

এবার তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে অনুরাগীদের জন্য রাখা হয়েছে একটি বিশেষ চমক। ১৯ জুন, বিজয়ের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘মার্সাল’ আবারও প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। ২২ জুন, তাঁর জন্মদিনকে সামনে রেখে চেন্নাই এবং চেঙ্গালপাট্টুর নির্বাচিত সিনেমা হলে ছবিটির পুনর্মুক্তি দেওয়া হবে বলে খবর পাওয়া গেছে ইন্ডিয়া টুডের তরফ থেকে।

২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যাটলি কুমার পরিচালিত ‘মার্সাল’ বিজয়ের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা হিসাবে পরিচিত। ছবিতে তিনি একসঙ্গে তিনটি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—একজন বাবা এবং তাঁর দুই ছেলের চরিত্রে। অভিনয়ের বৈচিত্র্য এবং গল্পের উপস্থাপনার কারণে ছবিটি দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে।

আরও পড়ুন: সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: ডা. কাজী মনির

বিজয়ের পাশাপাশি ‘মার্সাল’-এ অভিনয় করেছেন সামান্থা রুথ প্রভু, কাজল আগরওয়াল, নিত্য়া মেনন, এস জে সূর্য, সত্যরাজ, ভাদিভেলু, কোভাই সারালা, হারিশ পেরাডি এবং আরো অনেক শিল্পী। বিশেষ করে খলচরিত্রে এস জে সূর্যের অভিনয় দর্শকদের এবং সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে।

একই সময়ে তিন নায়িকার উপস্থিতি ছবিটির বাণিজ্যিক আবেদনকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

‘মার্সাল’ ছিল পরিচালক অ্যাটলি এবং বিজয়ের দ্বিতীয় যৌথ সিনেমা। এর আগে ‘থেরি’ সিনেমার মাধ্যমে এই জুটি দারুণ সাফল্য লাভ করেছিল। পরে আবার তারা একসাথে কাজ করেন ‘বিগিল’-এ।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, অ্যাটলির পরিচালনায় বিজয়ের ‘ম্যাস’ ইমেজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় এবং ‘মার্সাল’ সেই ধারার অন্যতম সেরা উদাহরণ।

আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

ছবিটি মুক্তির পর শুধু সাফল্যই হাসিল করেনি, বরং বেশ কিছু বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে। ছবিতে চিকিৎসাব্যবস্থা এবং করনীতি নিয়ে কিছু সংলাপ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। এছাড়া, জাদুকরদের একটি সংগঠন ছবির কিছু দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ছিল।

তবে এসব বিতর্ক ছবির জনপ্রিয়তায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

দীপাবলি উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মার্সাল’ বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় করে এবং সে সময়ের অন্যতম সফল তামিল সিনেমায় পরিণত হয়। এর আরো একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হলো, এটি ছিল প্রথম তামিল চলচ্চিত্র যা চীনের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল।

মুক্তির প্রায় নয় বছর পরও ‘মার্সাল’-এর আবেদন অটুট রয়েছে। ছবির সামাজিক বার্তা, পারিবারিক আবেগ, অ্যাকশন, বিনোদন এবং বাণিজ্যিক উপাদানের ভারসাম্য আজও দর্শকদের কাছে ছবিটিকে আকর্ষণীয় করে রেখেছে।

আরও পড়ুন: ১২ ঘণ্টায় সচল হলো বসিলার স্ট্রিটলাইট

এদিকে, বিজয় বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে, তাঁকে অভিনয়ে নিয়মিত ফিরে আসার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর সর্বশেষ সিনেমা হিসাবে ঘোষিত ‘জনা নায়াগান’-এর মুক্তির তারিখও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে ‘মার্সাল’-এর পুনর্মুক্তি বিজয়ভক্তদের জন্য এক বিশেষ উপহার হিসাবেই ধরা হচ্ছে। কারণ, বড় পর্দায় প্রিয় তারকাকে দেখার সুযোগ এখন তাঁদের কাছে আরো বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ পি.এম


এবারের বাজেটের প্রেক্ষাপট অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এবারকার বাজেটের প্রেক্ষাপট অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিন্ন।

তিনি শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে জাতীয় বাজেট তৈরি করার জন্য প্রায় ছয় মাসের সময় পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে বাজেট প্রস্তুত করতে মাত্র দেড় থেকে দুই মাস সময় লেগেছে। এই সময়ের ভেতর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেয়া হয়েছে এবং তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশাকে বাজেটে প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সীমিত সম্পদের বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা এবং উন্নয়নের মূল ধারার বাইরে থাকা মানুষদের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো বাজেট থেকে বঞ্চিত হয়ে এসেছে। জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশের মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকার পেয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা এখন অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণে লক্ষ্য রেখে সরকার বাজেট প্রস্তুত করেছে।

তিনি আরো বললেন, বাজেট প্রণয়নের সময় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে কোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্ম বা গোষ্ঠীকে বাজেটের বাইরে রাখা হয়নি। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবার জন্য কমবেশি বরাদ্দ, কর্মসূচি এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ রাখা হয়েছে।

সরকারের অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত দেড় দশকে দেশের সম্পদ লুটপাট হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সম্পদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট তৈরি করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি ছিল কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী-কেন্দ্রিক। পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক সেই অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা এতদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে ছিলেন, তাদের মূলধারার মধ্যে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার বিষয়টিও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বিশ্ব ক্রমেই সুরক্ষাবাদী ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাত বর্তমানে নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং অন্যান্য কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হচ্ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ছে।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তা হলো— অর্থের যথাযথ ব্যবহার (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাবর্তন (রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট), কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা।

তিনি বলেন, সরকারের প্রতিটি প্রকল্প ও ব্যয় এই চারটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো অপচয়ভিত্তিক অর্থনীতি না করে নীতি-নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় অভিযানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ ১৯ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


পাবনায় অভিযানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ ১৯ জন গ্রেপ্তার

পাবনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এবং জননিরাপকতা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই অভিযানে গত ১২ ঘণ্টায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পাবনা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর সার্বিক দিকনির্দেশনায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পাবনার বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান কার্যকর করা হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত থেকে গত ১২ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে পাবনা সদরে ৫ জন, ঈশ্বরদীতে ৪ জন, ভাঙ্গুড়ায় ১ জন, ফরিদপুরে ৪ জন, সাঁথিয়ায় ১ জন, বেড়ায় ৩ জন এবং আতাউকুলা থানা এলাকা থেকে ১ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১৫ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বাকীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের দায়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ফরিদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

পাবনা পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান, মাদক, ভেজাল পণ্য ও সকল ধরনের অপরাধ দমনে পাবনা জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা পুলিশ সর্বদা বদ্ধপরিকর।

পাবনায় যেকোনো ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার ব্যবস্থা নয় বরং সম্পত্তি লেনদেনে প্রকৃত মূল্য ঘোষণার মাধ্যমে কর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের একটি প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এ বিষয়ে জনমনে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে (২০২৬-২৭) অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, গত অর্থবছরে জমি বিক্রেতাদের জন্য একটি বিশেষ বিধান করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে জমি প্রকৃত মূল্যে বিক্রি হলেও কম দামে নিবন্ধন করা হয়। এতে বিক্রেতারা প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের অতিরিক্ত অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন। এ অবস্থায় ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনের প্রমাণ এবং বায়না নামা উপস্থাপন করতে পারলে তারা নিয়মিত হারে মূলধনী মুনাফার ওপর কর পরিশোধ করে সেই অর্থ বৈধ করার সুযোগ পান।

তিনি বলেন, এবার একই ধরনের একটি সুবিধা সম্পত্তি বা ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল। কারণ অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে ফ্ল্যাট বা স্থাবর সম্পত্তি নিবন্ধন করা হয়। পরে কর কর্তৃপক্ষ প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে পারলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত কর ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রকৃত মূল্য ঘোষণা করলে নিয়মিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তবে এ ধরনের বিধান নিয়ে আপত্তি থাকলে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এসময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান কোস্টগার্ডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩০ পি.এম


সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান কোস্টগার্ডের

কোস্টগার্ড সুন্দরবনের ডাকাত, জলদস্যু, বনদস্যু, চাঁদাবাজসহ সকল সন্ত্রাসী বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহবান জানিয়েছে। সম্প্রতি এবং সর্বশেষ গতকাল বৃহম্পতিবার সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের জাহাজের উপর হামলার প্রেক্ষিতে কোস্ট গার্ড মোংলা স্টেশন জোনাল কমান্ডার, পশ্চিম জোনের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম, শুক্রবার সকালে এক ব্রিফিং এর মাধ্যমে এই আহবান জানান।

তিনি বলেন, বাগেরহাটের মোংলায় জয় মনি ঘোল এলাকায় কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বাহিনীটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনসংলগ্ন ওই এলাকা বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখানে কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপনের পর দস্যুদের কাছে রসদ, অস্ত্র, লজিস্টিক সহায়তা ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ায় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি তারা মেনে নিতে পারছে না।

বাহিনীটি জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার জয় মনি ঘোল এলাকায় অবস্থিত কোস্টগার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্টগার্ড সদস্য আহত হন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, “কোনো অপপ্রচার, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আইন ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে পরিচালিত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একই দৃঢ়তা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।”

তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বনদস্যু ও জলদস্যু নির্মূল, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মংলা বন্দরের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

একই সময়ে ৩৯ জন বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। তাদের কবল থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে তাঁদের পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কোণঠাসা দস্যু বাহিনী: দাবি কোস্ট গার্ডের। কোস্টগার্ডের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের কারণে সুন্দরবনের সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

মেসবাউল ইসলাম বলেন, “কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের কারণে দস্যুরা এখন আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। তাদের চলাচল, অস্ত্র সরবরাহ, অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা কমে এসেছে।”

এই চাপের মুখেই সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদার ও তাঁর সহযোগীরা গত ১৭ মে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

তিনি বলেন, “আমরা সুন্দরবনের সব সক্রিয় ডাকাত ও দস্যুদের অপরাধের পথ পরিহার করে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছি। তারা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তবে কেউ যদি এ আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আত্মসমর্পণ করেও কেন ফিরছে কেউ কেউ। সম্প্রতি পুনরায় আত্মসমর্পণ করা সুমন বাহিনীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে পুনর্বাসন-সংক্রান্ত নানা সমস্যা। কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুমন বাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের পর অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পান না। সমাজও তাদের সহজভাবে গ্রহণ করতে চায় না। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত মানসিক সমস্যার কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধের পথে ফিরে যায়।

তবে এবার আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।

মৌসুম এলেই বাড়ে জলদস্যুতা। কোস্টগার্ডের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুন্দরবনে সারা বছর সমানভাবে দস্যুতা হয় না। ইলিশ ধরার মৌসুম, মাছ আহরণ মৌসুম এবং মধু সংগ্রহের সময় দস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যায়।

ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বকেন, এসব সময়ে বিপুলসংখ্যক জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। তাদের লক্ষ্য করেই অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করে দস্যুরা। বর্তমানে সরকার ঘোষিত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বনজীবীদের প্রবেশ সীমিত রয়েছে। ফলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও কমে এসেছে। তবে মৌসুম শুরু হলে দস্যুরা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে।

ছয় থেকে আটটি বাহিনী এখনও সক্রিয়। কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে ছয় থেকে আটটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। প্রতিটি বাহিনীতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ কিংবা ১২ জন সদস্য থাকে। অনেক ক্ষেত্রে বড় বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে ছোট ছোট উপদল বা ‘ক্লোন’ বাহিনী তৈরি হয়। এসব বাহিনী মূলত জেলে ও মৌয়ালদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

সরু খালই তাদের আশ্রয়। সুন্দরবনের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এখনও দস্যুদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বনজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সরু খাল ও ন্যারো চ্যানেলকে আত্মগোপনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করে দস্যুরা। জোয়ারের সময় যেসব পথে নৌকা চলাচল করে, ভাটার সময় সেগুলোর অনেক অংশ শুকিয়ে যায়। ফলে বড় বোট বা জাহাজ নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।

তবে বর্তমানে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব দুর্গম এলাকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মান্দারবাড়িয়া ও সাতক্ষীরা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সীমিত জনবল, তবু দিনরাত টহল। সুন্দরবনের বিশাল আয়তনের তুলনায় কোস্টগার্ডের জনবল এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। মেসবাউল ইসলাম বলেন, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগও থাকে না। দস্যুরা মাঝেমধ্যে এসব সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে ফাঁকা আউটপোস্টে হামলার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত অতিরিক্ত সদস্য পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক টহল, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে দস্যুরা আগের মতো সংগঠিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। ভুক্তভোগীদের নীরবতা বড় চ্যালেঞ্জ। দস্যুতা দমনে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে ভুক্তভোগীদের নীরবতাকে দায়ী করছেন কোস্টগার্ড কর্মকর্তা।

তাদের মতে, অনেক জেলে অপহরণ বা মুক্তিপণের শিকার হলেও ভয়ে প্রশাসনকে বিষয়টি জানান না। প্রশাসনের দেওয়া ১৬০-সহ বিভিন্ন সরকারি নম্বর থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় অভিযোগ করা হয় না। এই যোগাযোগ ঘাটতির সুযোগ নিতে দস্যুরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় জেলেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দস্যুদের প্রতিরোধ এবং ধরতে সহায়তা করেছেন বলেও জানান কর্মকর্তারা।

মুক্তিপণের টাকা হাতবদল হয় ডাঙ্গায়। অপহরণের ঘটনা বনের ভেতরে ঘটলেও মুক্তিপণের টাকা অনেক সময় মংলা, বরগুনা, পাথরঘাটা কিংবা খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় হাতবদল হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পাঠানো মুক্তিপণের অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে একাধিক সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বনের ভেতরের দস্যুদের পাশাপাশি স্থলভাগে থাকা সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও স্থানীয় পর্যায়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরোক্ষ সহযোগিতার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।

স্থানীয় অস্ত্র দিয়েই আতঙ্ক। ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, দস্যুদের হাতে থাকা অধিকাংশ অস্ত্রই স্থানীয়ভাবে তৈরি। পাইপগান, একনলা ও দোনলা বন্দুক বেশি দেখা যায়। এমনকি খেলনা পিস্তল ব্যবহার করেও জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। তবে আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত কোস্টগার্ডের কারণে তারা এখন আগের মতো সুবিধা করতে পারছে না।

অস্ত্র যাচাইয়ে কঠোরতা। আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের জমা দেওয়া অস্ত্রের বিষয়ে কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। বলেন, কেউ যাতে একটি অস্ত্র জমা দিয়ে পেছনে আরও কয়েকটি অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর যাচাই-বাছাই করা হয়। পাশাপাশি তাদের কাছে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়েও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও নজর। জলদস্যু দমনের পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও কোস্টগার্ড কাজ করছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত তিন মাসের পর্যটক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধ, বন্য প্রাণী শিকার প্রতিরোধ এবং বনজ সম্পদ পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে।

মংলা বন্দরের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব। সুন্দরবনের পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কোস্টগার্ড কাজ করছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বন্দর চ্যানেলে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকল রুটে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে বন্দর কার্যক্রম সচল, নিরাপদ ও গতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখছে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি। দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেইলেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষ ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন, উপকূলীয় অঞ্চল, সমুদ্রসীমা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীটি বদ্ধপরিকর। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%