ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে হামলা


হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে হামলা

সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) একটি জাহাজে মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাহাজটি হরমুজ পাড়ি দিচ্ছিল। হামলার সময় জাহাজটি হামলার কবলে পড়ে।

আমিরাতের বার্তাসংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং জাহাজের নাবিকদের মধ্যে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

গতকালই আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানিয়েছিল, হরমুজে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় তাদের তেল রপ্তানির পরিমাণ কমে এসেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই কোম্পানিটির জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

গত বৃহস্পতিবার বাঘাই বলেন, ওমানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা মিলবে না। কারণ, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নিরাপত্তা এখনও বিঘ্নিত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং ওমান এ প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, প্রণালিটি ‘খুব শিগগিরই’ খুলে না দেওয়া হলে ইরান ‘ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে।

আরও পড়ুন: কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে প্রাণহানি, শোক জানালেন মোদি ও মমতা

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নৌপথটি পুনরায় চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। যদিও ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না এবং এমন কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই।

সূত্র: আল-আরাবিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোমে আটকে ঢাকার বিমান, ভেতরে আড়াই শতাধিক যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ এম


রোমে আটকে ঢাকার বিমান, ভেতরে আড়াই শতাধিক যাত্রী

ইতালির রোম বিমানবন্দরে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টরন্টো-ঢাকা রুটের একটি ফ্লাইট দীর্ঘ সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে। উড়োজাহাজটির ভেতরে প্রায় ২৬০ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

ভুক্তভোগী যাত্রী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, বিজি৩০৬ ফ্লাইটটি গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। বিমানটি শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে নিয়মিত জ্বালানি নেওয়ার জন্য ইতালির রোম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পর যাত্রীদের জানানো হয়, উড়োজাহাজটিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং এটি মেরামতের প্রয়োজন। এর পর স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ফ্লাইটটি সেখানেই অবস্থান করছিল। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এটি কখন পুনরায় যাত্রা শুরু করতে পারবে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি।

দীর্ঘ সময় ধরে বিমানের ভেতরে আটকে থাকার কারণে শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে। বিমানের ভেতরে থাকা শরিফুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, দীর্ঘক্ষণ উড়োজাহাজের ভেতরে বন্দি থাকায় যাত্রীরা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। গরম ও দমবন্ধ পরিবেশে অনেকেই অসুস্থবোধ করছেন। কিন্তু তাদের উড়োজাহাজ থেকে নামতে বা বিমানবন্দরের টার্মিনালে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে শরিফুল ইসলাম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সরকারের কাছে দ্রুত সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে অনেক শিশু ও বয়স্ক যাত্রী আছেন যারা ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

যাত্রীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পৌঁছানোর আগে ইতালিতে শুধুমাত্র জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ফ্লাইটটির নির্ধারিত বিরতি ছিল। কিন্তু উড়োজাহাজের প্রযুক্তিগত ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ফ্লাইটে থাকা যাত্রীর প্রকৃত সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে তথ্য জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে বিমানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫০ বছরেও বিয়ে করেননি সাইফের বোন সাবা, জানালেন কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২০ এম


৫০ বছরেও বিয়ে করেননি সাইফের বোন সাবা, জানালেন কারণ

বলিউড তারকা সাইফ আলী খান ও সোহা আলী খানকে সবাই চেনেন। তবে তাঁদের বড় বোন সাবা আলী খান বরাবরই আলোচনার বাইরে থাকতে পছন্দ করেন। এবার নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন পতৌদি পরিবারের এই জ্যেষ্ঠ কন্যা। জানিয়েছেন, ১৯ বছর বয়সে কলকাতার এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে প্রায় ঠিক হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু তখন বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না তিনি।

অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া ও তাঁর স্বামী অঙ্গদ বেদীর একটি ভ্লগে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সাবা নিজের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি জানান, জীবনে তাঁর কখনো প্রেমিক ছিল না। ১৮ বা ১৯ বছর বয়স থেকেই বিয়ের উদ্দেশ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কারও সঙ্গেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি।

সাবার কথায়, ১৯ বছর বয়সে কলকাতায় পরিচয় হওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে প্রায় হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি পিছিয়ে আসেন। কারণ তখন বিয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত মনে হয়নি তাঁর।

পরবর্তী সময়ে অবশ্য বিয়ের বিষয়ে তাঁর আপত্তি ছিল না। কিন্তু এমন একজন মানুষ খুঁজে পাননি, যার সঙ্গে জীবন কাটানোর মতো মানসিক মিল তৈরি হতে পারে।

এর পেছনে নিজের বাবা মনসুর আলী খান পতৌদির প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন সাবা। ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও পতৌদি পরিবারের এই প্রয়াত কর্তা তাঁর কাছে ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বের মানুষ। সাবার ভাষায়, বাবা ছিলেন অমায়িক, দায়িত্বশীল ও মানবিক। একই সঙ্গে তিনি মেয়েকে স্বাবলম্বী হতে শিখিয়েছিলেন।

সাবা বলেন, “বাবাকে দেখার পর জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়াটা বেশ কঠিন ছিল। তিনি অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, অমায়িক, দায়িত্বশীল এবং একজন মানবিক মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকেও স্বাবলম্বী হতে শিখিয়েছেন। পুরোপুরি বাবার মতো কাউকে খোঁজার বিষয় ছিল না, তবে বাবা তো বাবাই হন।”

নিজের প্রত্যাশা বোঝাতে গিয়ে অভিনেত্রী তাপসী পান্নুর একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন সাবা। তাঁর ভাষায়, “তাপসী পান্নু একবার বলেছিলেন, ‘আমার কোনো ছেলের প্রয়োজন নেই, আমার একজন পরিপক্ব পুরুষ প্রয়োজন।’ তাঁর এই কথাটি আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি ঠিক তেমন কোনো মানুষ খুঁজে পাইনি।”

সাবা আলী খান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর ও প্রয়াত মনসুর আলী খান পতৌদির জ্যেষ্ঠ সন্তান। সাইফ আলী খান ও সোহা আলী খানের মতো অভিনয় জগতে না গিয়ে তিনি গয়না নকশার পেশা বেছে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনও রেখেছেন অনেকটাই আড়ালে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য মাঝে মাঝে পতৌদি পরিবারের পুরোনো ছবি, পারিবারিক মুহূর্ত ও স্মৃতি ভাগ করে নেন সাবা। এসব পোস্টে পরিবারের সদস্যদের প্রতি তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও উঠে আসে।

ভাই সাইফ আলী খান ও ভাবি কারিনা কাপুর খানের সম্পর্ক নিয়েও একসময় বিশেষ পোস্ট করেছিলেন তিনি। তাঁদের বিবাহবার্ষিকীতে দেওয়া সেই পোস্টে সাইফ ও কারিনার পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্পর্কের প্রশংসা করেন সাবা। তাঁদের মধ্যকার বিশেষ রসায়ন ও ভালোবাসাকে পরিবারের জন্য অনুপ্রেরণার বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

তারকা পরিবারে জন্ম হলেও সাবা নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন আলাদা পথ। বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের মানসিক প্রস্তুতি ও উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পাওয়াকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আর সেই কারণেই ৫০ বছর বয়সেও অবিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন পতৌদি পরিবারের এই সদস্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশিকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার জবাবে ভারতীয়কে ধরে আনলেন গ্রামবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২১ এম


বাংলাদেশিকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার জবাবে ভারতীয়কে ধরে আনলেন গ্রামবাসী

পঞ্চগড়ের সাতমেরা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশের সময় স্থানীয়রা ওই ভারতীয়কে ধরে বিরাজোত এলাকায় নিয়ে আসেন। আটককৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম দীপঙ্কর গোপ (৩৫)। তিনি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার চাউলহাটি তশনপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের সন্তান।

স্থানীয়দের মতে, শনিবার সকালে কাঁটাতারের ওপাশে একটি চা-বাগানে কাজ করার সময় দীপঙ্কর ভুলবশত বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করলে আটক হন। বর্তমানে তিনি বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয়দের হেফাজতে আছেন।

এর আগে গত বুধবার সকালে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দা মো. তমিজ উদ্দীন (৭৮) গরু খুঁজতে গিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে যান এবং বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, তার বাবা বয়স্ক, কানে কম শোনেন এবং হাঁটতেও সমস্যা হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, তার বাবাকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় ওই নাগরিককে হস্তান্তর করা না হোক।

এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তমিজ উদ্দীনকে ফেরত আনার বিষয় এবং আটক ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপের বিষয়ে দ্রুত বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিবিয়ায় জিম্মি ১৩ বাংলাদেশি উদ্ধার, গ্রেফতার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ এম


লিবিয়ায় জিম্মি ১৩ বাংলাদেশি উদ্ধার, গ্রেফতার ১

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অপহরণের শিকার ১৩ বাংলাদেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির অবৈধ অভিবাসনবিরোধী সংস্থা অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সির (Anti-Illegal Migration Agency) ইস্ট ত্রিপোলি শাখা। ঘটনার সাথে এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক অপহরণচক্রের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জিম্মি করে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের কাজে জড়িত ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারপূর্ব হেফাজতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম লিবিয়া অবজারভার এবং অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সির ইস্ট ত্রিপোলি শাখার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংস্থাটি জানায়, আগের কিছুদিনের মধ্যে তাদের তদন্ত ও গ্রেপ্তার ইউনিটের কাছে নিশ্চিত তথ্য আসে যে, লিবিয়াতে সদ্য পৌঁছানো বিদেশি অভিবাসীদের টার্গেট করে একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্র অপহরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরে জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তথ্য পাওয়ার পরই তদন্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অপহৃত বাংলাদেশিদের গোপন আস্তানার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণ কাণ্ডের সাথে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজনের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়। পাবলিক প্রসিকিউশনের অনুমতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ১৩ বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করেন। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকেই এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপহরণ, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে জিম্মি করার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তার জবানবন্দি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হলে আদালত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। একই সাথে অপহরণচক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

তবে উদ্ধার হওয়া ১৩ বাংলাদেশির পরিচয়, তারা কোন জেলার বাসিন্দা, কীভাবে লিবিয়ায় পৌঁছেছিলেন কিংবা কতদিন ধরে তারা অপহরণকারীদের হাতে জিম্মি ছিলেন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ। অভিযানের তারিখ সম্বন্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। উন্নত জীবনের আশায় অথবা মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে অনেক বাংলাদেশি বৈধ ও অবৈধ উভয় পথেই দেশটিতে প্রবেশ করেন। এরপর তাদের একটি বড় অংশ মানবপাচারকারী ও সশস্ত্র চক্রের হাতে অপহরণ, নির্যাতন, জিম্মি এবং অর্থ আদায়ের শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। অর্থ না পেলে শারীরিক নির্যাতন, দীর্ঘদিন আটকে রাখা কিংবা আরও ভয়াবহ পরিণতি ঘটার ঘটনা অতীতে অনেকবার হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া বর্তমানে ইউরোপগামী অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানবপাচারকারী চক্র বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ইউরোপ পাঠানোর প্রলোভন দেয়। বাস্তবে অনেকেই লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর অপহরণের শিকার হয়ে জোরপূর্বক শ্রম, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের শিকার হন।

সর্বশেষ গত মে মাসে লিবিয়ার বেনগাজি থেকে ১৭০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রত্যাবাসনের পর অনেকেই জানিয়েছেন, ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে দালালচক্র তাদের লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের আটক রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং তাদের পরিবার থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়। অর্থ পরিশোধ করার পরও অনেককে দীর্ঘ সময় বন্দি অবস্থায় থাকতে হয়েছে বলেও অভিযোগ জানান তারা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কের বিস্তৃত কার্যক্রমের কারণে দেশটিতে বিদেশি অভিবাসীরা এখনও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ কারণে বাংলাদেশ সরকার বারবার বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়া লিবিয়াসহ ঝুঁকিপূর্ণ রুটে বিদেশে যেতে নিষেধ করেছে। এই সাথে মানবপাচারকারী ও দালালচক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্কও করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%