ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশিকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার জবাবে ভারতীয়কে ধরে আনলেন গ্রামবাসী


বাংলাদেশিকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার জবাবে ভারতীয়কে ধরে আনলেন গ্রামবাসী

পঞ্চগড়ের সাতমেরা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশের সময় স্থানীয়রা ওই ভারতীয়কে ধরে বিরাজোত এলাকায় নিয়ে আসেন। আটককৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম দীপঙ্কর গোপ (৩৫)। তিনি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার চাউলহাটি তশনপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের সন্তান।

স্থানীয়দের মতে, শনিবার সকালে কাঁটাতারের ওপাশে একটি চা-বাগানে কাজ করার সময় দীপঙ্কর ভুলবশত বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করলে আটক হন। বর্তমানে তিনি বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয়দের হেফাজতে আছেন।

আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

এর আগে গত বুধবার সকালে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দা মো. তমিজ উদ্দীন (৭৮) গরু খুঁজতে গিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে যান এবং বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, তার বাবা বয়স্ক, কানে কম শোনেন এবং হাঁটতেও সমস্যা হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, তার বাবাকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় ওই নাগরিককে হস্তান্তর করা না হোক।

এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তমিজ উদ্দীনকে ফেরত আনার বিষয় এবং আটক ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপের বিষয়ে দ্রুত বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিবিয়ায় জিম্মি ১৩ বাংলাদেশি উদ্ধার, গ্রেফতার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ এম


লিবিয়ায় জিম্মি ১৩ বাংলাদেশি উদ্ধার, গ্রেফতার ১

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অপহরণের শিকার ১৩ বাংলাদেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির অবৈধ অভিবাসনবিরোধী সংস্থা অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সির (Anti-Illegal Migration Agency) ইস্ট ত্রিপোলি শাখা। ঘটনার সাথে এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক অপহরণচক্রের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জিম্মি করে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের কাজে জড়িত ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারপূর্ব হেফাজতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম লিবিয়া অবজারভার এবং অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সির ইস্ট ত্রিপোলি শাখার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংস্থাটি জানায়, আগের কিছুদিনের মধ্যে তাদের তদন্ত ও গ্রেপ্তার ইউনিটের কাছে নিশ্চিত তথ্য আসে যে, লিবিয়াতে সদ্য পৌঁছানো বিদেশি অভিবাসীদের টার্গেট করে একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্র অপহরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরে জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তথ্য পাওয়ার পরই তদন্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অপহৃত বাংলাদেশিদের গোপন আস্তানার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণ কাণ্ডের সাথে জড়িত প্রধান সন্দেহভাজনের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়। পাবলিক প্রসিকিউশনের অনুমতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ১৩ বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করেন। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকেই এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপহরণ, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে জিম্মি করার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তার জবানবন্দি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হলে আদালত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। একই সাথে অপহরণচক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

তবে উদ্ধার হওয়া ১৩ বাংলাদেশির পরিচয়, তারা কোন জেলার বাসিন্দা, কীভাবে লিবিয়ায় পৌঁছেছিলেন কিংবা কতদিন ধরে তারা অপহরণকারীদের হাতে জিম্মি ছিলেন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ। অভিযানের তারিখ সম্বন্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। উন্নত জীবনের আশায় অথবা মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে অনেক বাংলাদেশি বৈধ ও অবৈধ উভয় পথেই দেশটিতে প্রবেশ করেন। এরপর তাদের একটি বড় অংশ মানবপাচারকারী ও সশস্ত্র চক্রের হাতে অপহরণ, নির্যাতন, জিম্মি এবং অর্থ আদায়ের শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে মুক্তিপণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। অর্থ না পেলে শারীরিক নির্যাতন, দীর্ঘদিন আটকে রাখা কিংবা আরও ভয়াবহ পরিণতি ঘটার ঘটনা অতীতে অনেকবার হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া বর্তমানে ইউরোপগামী অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানবপাচারকারী চক্র বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ইউরোপ পাঠানোর প্রলোভন দেয়। বাস্তবে অনেকেই লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর অপহরণের শিকার হয়ে জোরপূর্বক শ্রম, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের শিকার হন।

সর্বশেষ গত মে মাসে লিবিয়ার বেনগাজি থেকে ১৭০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। প্রত্যাবাসনের পর অনেকেই জানিয়েছেন, ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে দালালচক্র তাদের লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের আটক রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং তাদের পরিবার থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়। অর্থ পরিশোধ করার পরও অনেককে দীর্ঘ সময় বন্দি অবস্থায় থাকতে হয়েছে বলেও অভিযোগ জানান তারা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কের বিস্তৃত কার্যক্রমের কারণে দেশটিতে বিদেশি অভিবাসীরা এখনও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ কারণে বাংলাদেশ সরকার বারবার বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়া লিবিয়াসহ ঝুঁকিপূর্ণ রুটে বিদেশে যেতে নিষেধ করেছে। এই সাথে মানবপাচারকারী ও দালালচক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্কও করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ হাজার টন আবর্জনা ঘেঁটেও মেলেনি মাথা, ট্যাটুতে মিলল অভিনেত্রীর পরিচয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ এম


১১ হাজার টন আবর্জনা ঘেঁটেও মেলেনি মাথা, ট্যাটুতে মিলল অভিনেত্রীর পরিচয়

ছবি: সংগ্রহীত

চেন্নাইয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক নারীর খণ্ড-বিখণ্ড দেহাবশেষ। এই ঘটনার তদন্ত ছিল প্রায় অন্ধকারে। মাথা ও বাঁ হাত না থাকায় নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। এমনকি প্রায় ১১ হাজার ৭০০ টন আবর্জনা তন্নতন্ন করে খুঁজেও মেলেনি মাথাটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডান হাতে থাকা শিব-পার্বতী ও ড্রাগনের দুটি ট্যাটু, একটি বিশেষ তিল এবং অলংকারের সূত্র ধরে পরিচয় মেলে ৩৭ বছর বয়সী উদীয়মান তামিল অভিনেত্রী সন্ধ্যার। পরে ডিএনএ পরীক্ষায়ও এই পরিচয় নিশ্চিত হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, তাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার স্বামী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বালাকৃষ্ণনকে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। চেন্নাইয়ের পল্লীকরনাই ডাম্পইয়ার্ডের কাছে এক পথচারী একটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে মানুষের আঙুল বেরিয়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ বস্তাটি খুললে একটি কাটা হাত ও দুটি পা উদ্ধার করে। এরপর শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে, বিশেষ করে আদিয়ার নদীর তীরের কাছাকাছি এলাকা থেকে আরও কয়েকটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভক্তর হাড়গোড়, খাদ্যনালিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পাওয়া যায়।

ফরেনসিক পরীক্ষায় জানা যায়, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলো ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী একই নারীর। ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর তার দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছিল বলেও পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়। কিন্তু সংবাদ অনুযায়ী, নিহতের মাথা ও বাঁ হাত পাওয়া যায়নি। ফলে মুখ দেখে শনাক্ত করা কিংবা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল না।

ঘটনার তদন্তে উপপুলিশ কমিশনার মুথুসামীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। পুলিশ ধারণা করেছিল, পল্লীকরনাইয়ের বিশাল ময়লার স্তূপের ভেতর আরও দেহাবশেষ চাপা পড়ে থাকতে পারে। এরপর শুরু হয় বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান। প্রায় ১১ হাজার ৭০০ টন আবর্জনা ঘেঁটে নিহত নারীর টরসোসহ আরও কয়েকটি অংশ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মাথা ও বাঁ হাতের কোনো সন্ধান মেলেনি।

চেন্নাইয়ের রাজীব গান্ধী সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন, সবগুলো একই নারীর। এরপর একই বয়স ও শারীরিক গঠনের নিখোঁজ নারীদের তথ্য যাচাই করতে থাকে পুলিশ। তামিলনাড়ুর বিভিন্ন থানায় উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ছবি পাঠানো হয়, সংবাদমাধ্যমেও পরিচয় শনাক্তে সহায়তার আবেদন করা হয়। কিন্তু তাতেও প্রথম দিকে কোনো সূত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় নিহত নারীর ডান হাতে থাকা দুটি ট্যাটু। একটিতে ছিল শিব ও পার্বতীর ছবি, অন্যটি ছিল একটি ড্রাগনের। হাতটিতে থাকা অলংকারও তদন্তকারীদের নজরে আসে।

এ সময় থুথুকুডির একটি থানায় এক নারী তার ৩৭ বছর বয়সী মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন। মেয়েটির নাম সন্ধ্যা। তিনি চেন্নাইয়ে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন এবং অভিনয় ক্যারিয়ার গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন।

সন্ধ্যার মা পুলিশকে জানালেন, মেয়ের কোনো খোঁজ নেই প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে। জামাতা বালাকৃষ্ণনের কাছে মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সন্ধ্যা ১৯ জানুয়ারি থুথুকুডির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কিন্তু সন্ধ্যা সেখানে কখনোই পৌঁছাননি।

নিহত নারীর বয়স ও শারীরিক গঠনের সঙ্গে সন্ধ্যার তথ্য মিলে যাওয়ার পর তার পরিবারকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের শনাক্তকারী চিহ্নগুলো দেখানো হয়। সন্ধ্যার মা ডান হাতে থাকা শিব-পার্বতীর ট্যাটু দেখে মেয়েকে শনাক্ত করেন। তিনি একটি বিশেষ তিল ও অলংকারও চিনতে পারেন। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ সন্ধ্যার।

এভাবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্তের দিক বদলে যায়। পুলিশের নজর পড়ে সন্ধ্যার স্বামী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বালাকৃষ্ণনের দিকে। শুরুতে তিনি দাবি করেছিলেন, ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা বাড়ি থেকে চলে গেছেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে একপর্যায়ে বালাকৃষ্ণন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে তদন্তকারীরা জানান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি রাতে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। সন্ধ্যার অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এমন সন্দেহ করতেন বালাকৃষ্ণন। সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির একপর্যায়ে ঘরে থাকা কুঠার দিয়ে সন্ধ্যার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয় যেমন পুলিশের দাবি।

তদন্তে আরও উঠে আসে, হত্যার পরদিন বালাকৃষ্ণন সন্ধ্যার দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দেহের বিভিন্ন অংশ চেন্নাইয়ের একাধিক জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়। পল্লীকরনাইয়ের ময়লার স্তূপ এবং আদিয়ার নদীর কাছের নির্জন এলাকাও ছিল এসব স্থানের মধ্যে।

তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা আলভিন জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ মাথার সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সন্ধ্যার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রক্তের দাগ, দেহাবশেষ বহনের জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বস্তার সঙ্গে মিল থাকা বস্তা এবং দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। তদন্তকারীরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেন। সেখানে গভীর রাতে বালাকৃষ্ণনকে মোটরসাইকেলে করে বস্তা নিয়ে বের হতে দেখা যায় বলে পুলিশ দাবি করেছে।

সন্ধ্যা ও বালাকৃষ্ণন দুজনেরই শিকড় থুথুকুডিতে। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্যজীবনে পারিবারিক সহিংসতা ও আর্থিক সংকট নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল।

২০১৮ সালে সন্ধ্যা পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন বলে তদন্তে সামনে এসেছে। পরে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তারা আবার একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করেন।

বালাকৃষ্ণন তামিল ছবি ‘কাধাল ইলাভসাম’ প্রযোজনা করেছিলেন। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর নতুন একটি সিনেমা নির্মাণের জন্য তিনি সন্ধ্যার পরিবারের কাছে অর্থ চাইছিলেন বলেও তদন্তে অভিযোগ সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, সন্ধ্যা চেন্নাইয়ে নিজের অভিনয় ক্যারিয়ার নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনের কয়েকজন নতুন বন্ধুর সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। এই বিষয়টি নিয়ে বালাকৃষ্ণনের মধ্যে সন্দেহ আরও বেড়ে যায় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে সন্ধ্যার কোনো পরকীয়া সম্পর্ক ছিল, এমন অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, অভিনয়ের কাজ পাওয়ার চেষ্টা করার সময় সন্ধ্যা কথিত একটি ‘কাস্টিং কাউচ’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। পরে তিনি আবার বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং বালাকৃষ্ণন তাকে চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ তৈরি না হওয়ায় দাম্পত্য টানাপোড়েন আবারও বেড়ে যায়।

হত্যার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় সন্ধ্যা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিলেন। এরপরই পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে এবং তাকে হত্যা করা হয়, পুলিশ এইভাবে তদন্তে দাবি করেছে।

পুলিশ সন্ধ্যার পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনও করতে পেরেছে, তবে একটি প্রশ্নের উত্তর আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এত বিপুল পরিমাণ আবর্জনা তল্লাশি এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর পরও সন্ধ্যার মাথা ও বাঁ হাত উদ্ধার করা যায়নি।

নিহতের পরিচয় মুছে ফেলতে চেহারা ও আঙুলের ছাপ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, এই বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। কিন্তু ডান হাতে থাকা দুটি ট্যাটুই শেষ পর্যন্ত এনে দেয় সেই অজ্ঞাতপরিচয় নারীর পরিচয়। শিব-পার্বতী ও ড্রাগনের সেই চিহ্ন এবং এক মায়ের শনাক্তকরণের মধ্য দিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড দেহাবশেষ ফিরে পায় তার নাম, সন্ধ্যা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তি, শেষ পর্যন্ত সিনেমা ছাড়তে হলো নীহারিকাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩২ এম


অন্তরঙ্গ দৃশ্যে আপত্তি, শেষ পর্যন্ত সিনেমা ছাড়তে হলো নীহারিকাকে

ছবি: সংগ্রহীত

কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর এবার চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছেন নীহারিকা এনএম। বলিউডে অভিষেকের পর নিজের ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। জানান, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে স্বচ্ছন্দ না হওয়ায় একসময় একটি বড় সিনেমার সুযোগ ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে।

গত ৩০ জুলাই মুক্তি পেয়েছে নীহারিকার প্রথম বলিউড সিনেমা ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন রাঘব জুয়াল। সিনেমাটি মুক্তির আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়ে আসার পথ, প্রত্যাখ্যান এবং ক্যারিয়ারে নেওয়া কঠিন কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানান নীহারিকা।

অভিনয়ে আসার আগে থেকেই তার চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা ছিল। সেই লক্ষ্যেই কয়েক বছর আগে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। সেখানে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় তিন বছর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং থিয়েটারেও কাজ করেন।

তবে বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুটা সহজ ছিল না। বিশেষ করে নারীদের চেহারা, গায়ের রং ও সৌন্দর্য নিয়ে প্রচলিত প্রত্যাশা তাকে হতাশ করেছে। পাশাপাশি বলিউডের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও তার কাছে স্বস্তিদায়ক মনে হয়নি।

নীহারিকার ভাষ্য, প্রথম দিকে বলিউডেই কাজের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নারীদের সৌন্দর্য নিয়ে তৈরি প্রচলিত মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে চাননি। পরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজের দিকে মনোযোগ দেন।

একপর্যায়ে নির্মাতা কার্তিক সুব্বারাজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টোন বেঞ্চ ফিল্মসের সঙ্গে তিনটি সিনেমার চুক্তি করেন নীহারিকা। তবে এই চুক্তিই পরে তার ক্যারিয়ারের একটি বড় আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চুক্তির মেয়াদ চলাকালে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি ভালো সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে সেসব সিনেমায় কাজ করতে পারেননি। পরে ওই সিনেমাগুলো বক্স অফিসে সফল হওয়ায় বিষয়টি এখনো তাকে আক্ষেপে পোড়ায় বলে জানান নীহারিকা।

তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজের সুযোগ পান তিনি। এরপর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।

এর মধ্যেই ক্যারিয়ারের আরেকটি কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নীহারিকা। এক খ্যাতিমান পরিচালকের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অডিশন ও লুক টেস্ট দিয়েছেন তিনি। সবকিছু পছন্দ হওয়ার পর চুক্তিপত্রেও সই করেন।

পরে চুক্তিতে থাকা অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় সংক্রান্ত একটি শর্ত নিয়ে আপত্তি জানান নীহারিকা। তিনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে স্পষ্ট করে জানান, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন।

তার আপত্তির পর বিকল্প হিসেবে বডি ডাবল ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও কাজে আসেনি। নীহারিকার দাবি, তার সহশিল্পী বডি ডাবলের সঙ্গে ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হননি।

এরপর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নীহারিকাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়, হয় ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে, নয়তো সিনেমা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানেই অটল থাকেন নীহারিকা। সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে ওই পরিচালক বা সহশিল্পীর নাম প্রকাশ করেননি।

নীহারিকার বক্তব্য, অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গার সঙ্গে আপস করতে চান না তিনি। ক্যারিয়ারে সুযোগ হারানোর ঝুঁকি থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়ার পথই বেছে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজয়নগরে ডিম বিক্রি করতে গিয়ে ফেরিওলার আকস্মিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ এম


বিজয়নগরে ডিম বিক্রি করতে গিয়ে ফেরিওলার আকস্মিক মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি করতে গিয়ে হেবজু মিয়া (৫৫) নামের এক ফেরিওলার আকস্মিক মৃত্যু ঘটেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।

নিহত হেবজু মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাটিহাতা গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে। পুলিশ এবং পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে সকাল ৬টার দিকে কোয়েল পাখির ডিম নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর পাইকপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মাটিতে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, হেবজু মিয়ারের মৃত্যু স্ট্রোকের কারণে হয়ে থাকতে পারে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এডিএমের কাছে আবেদনের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%