শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫১ পি.এম
ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, সেখানে নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৭৭ কোটি রুপি। নতুন সড়কটি ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এবং এটি বাগডোগরা থেকে পশ্চিমবঙ্গের পানিটঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বিহারের গালগালিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
ন্যাশনাল হাইওয়ে-৩২৭ নামের এই নতুন মহাসড়ক বিদ্যমান ন্যাশনাল হাইওয়ে-২৭-এর সমান্তরালে নির্মিত হবে, যেখানে দুই মহাসড়কের মধ্যে দূরত্ব থাকবে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার।
শিলিগুড়ি করিডর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থল সংযোগ। এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। নেপাল ও বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত এবং চীন ও ভুটান সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থান থাকার কারণে এই সংকীর্ণ করিডরটি ভারতের নিরাপত্তা ও যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি এক ফেসবুক পোস্টে এই প্রকল্পের জন্য দুই হাজার ৭৭ দশমিক ১৮ কোটি রুপি অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, "কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই করিডরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মজবুত করার পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় ধরনের উন্নতি ঘটাবে।"
এই চার লেনের সড়কটি বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিট্যাঙ্কির যানজট কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, এটি বাগডোগরা বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে স্থানীয় চা, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষি পণ্য দ্রুত বড় বাজারে পৌঁছাতে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি ওভারব্রিজ, পাঁচটি হাতির আন্ডারপাস এবং মহাসড়কের উভয় পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে পাঁচটি হাতির আন্ডারপাস নির্মাণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কুরসিওং বন বিভাগের আওতাধীন জাতীয় সড়ক ৩২৭-এর কিছু অংশ হাতি পারাপার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধান কাটার মৌসুমে এই অঞ্চলে হাতির চলাচল বেশি থাকে, যা দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় বন্য হাতি মারা যাওয়ার বা আহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ভারত সরকার শিলিগুড়ি করিডরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্র বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত হাই-স্পিড রেল করিডোর, শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেললাইন এবং মালদা থেকে এনজেপি পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া, বাগডোগরা বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আলিপুরদুয়ার জেলার হাসিমারা বিমানঘাঁটি থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও চলছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মতে, জাতীয় সড়ক ২৭ হলো শিলিগুড়ি ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের মূল যোগাযোগ পথ। তাই কেন্দ্রীয় সরকার এখন কৌশলগত কারণে চিকেনস নেক দিয়ে বিহারের গালগালিয়া থেকে একটি বিকল্প ও সমান্তরাল মহাসড়ক নির্মাণের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তা এই মহাসড়ক প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করলে এই প্রকল্পটির তাৎপর্য কেবল আঞ্চলিক যোগাযোগের চেয়েও অনেক বেশি। এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে জরুরি পণ্য, সেবা ও মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহজ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিলে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে ওমর ফারুক নামের ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ঈশ্বরপুরগঞ্জ এলাকার ‘চন্দের বিলে’ এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক ওই এলাকার মোঃ সাদ্দাম হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে ওমর ফারুক তার দুই-তিনজন খেলার সঙ্গীর সাথে বাড়ির পাশের চন্দের বিলে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে সাঁতার না জানার কারণে ওমর ফারুক পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে খুঁজে না পেয়ে সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা বিলে নেমে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারসহ পুরো ঈশ্বরপুরগঞ্জ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শনিবার রাতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের ডাকে রাজধানী ঢাকার বহু আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শাপলা চত্বর থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আজ আমরা আন্দোলন-সংগ্রামের ঐতিহ্যের অংশীদার বীর চট্টলার লালদীঘির ময়দানে সমবেত হতে পেরেছি।’
স্থানীয়ট্যুর খুঁজুন
লংমার্চের যাত্রাপথে বিভিন্ন বাধা ও হুমকির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক হুমকি-ধামকির কথা শুনেছিলাম। চট্টগ্রামের এক নেতাও বলেছিলেন, এই লংমার্চের ব্যাপারে নাকি আমাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে আজকের পথ ও মহাসড়কের জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে, জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে জনগণ এই সরকারকেও ছাড় দেবে না।’
কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে নতুন বিপ্লবের হুংকার দিয়ে জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং ছাত্র আন্দোলনের রক্তের স্মৃতিবিজড়িত বীর চট্টলায় এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা কেন এসেছি? আমরা চাই, কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদের পথে যারা হাঁটছেন, তারা যেন সেই পথ থেকে ফিরে আসেন। এই চট্টগ্রাম থেকেই নতুন বিপ্লবের সূচনা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
> রাজনীতি বালুর ট্রাক সরাতে ব্যর্থ হওয়া দল আমাদের পরামর্শ দেওয়ার অধিকার রাখে না: সারজিস
জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির অতীতের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, "যারা অতীতে মার্চ ফর ডেমোক্রেসির ডাক দিয়ে রাস্তার বালুর ট্রাক সরাতে পারেনি, তারা আমাদের সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার রাখে না।"তিনি শনিবার রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে এই মন্তব্য করেন।সারজিস বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “আজ বিকেলে জনাব তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন—আমাদের এই বাংলাদেশে নাকি নতুন করে একটা দল আর কিছু মানুষ অরাজকতা শুরু করেছে! তাদেরকে নাকি প্রচলিত আইনের মধ্য দিয়ে মোকাবিলা করা হবে। তারেক রহমানকে আমরা বলতে চাই—আমরা অরাজকতা শুরু করি নাই।”
তিনি লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বলেন, “গ্যাসে লুটপাট, বিদ্যুতে লুটপাট, জ্বালানিতে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দখলদারির মধ্য দিয়ে বিগত ছয় মাসেই তারা অরাজকতা শুরু করেছে।”
বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারজিস আলম আরও বলেন, “যেই দল বালুর ট্রাক সরাতে পারে না, যেই দল বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ ছিল—সেই দলের পরামর্শের প্রয়োজন আমাদের নাই। বিগত ১৬ বছর যারা বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে, আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে এবং বিরোধী দলকে দমন করার চেষ্টা করেছে, তাদের পরিণতি থেকে আপনারা শিক্ষা নেওয়া শুরু করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, মদ ও স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয় থেকে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৮২ হাজার ৮৬০টি ইয়াবা, ২১ কেজি ৯১২ গ্রাম গাঁজা, ৫০০ লিটার মদ ও ৭৬১ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, গ্রেফতারকৃত ৩০৫ জনের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৭৭ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ১২ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় পাঁচজন, পরোয়ানামূলে ১১৭ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২১ জন রয়েছেন।
তিনি জানান, মাদক মামলায় ৭৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৩৮ জন মাদকসেবী।
এ ছাড়া, মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৯ হাজার ১৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ