ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

থাইল্যান্ডি জুয়ার মূল হোতাসহ নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ১০


থাইল্যান্ডি জুয়ার মূল হোতাসহ নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার ১০

নোয়াখালীর চাটখিল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে থাইল্যান্ডি জুয়ার মূল হোতাসহ ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামি, একজন জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি, ধর্ষণের চেষ্টা মামলার আসামি এবং একজন মাদক কারবারি বিদ্যমান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) চাটখিল থানার বিভিন্ন স্থান এবং ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় পৃথক অভিযানের মাধ্যমে চাটখিল থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

মঙ্গলবার, পুলিশের একটি দল চাটখিলের পরকোট ইউনিয়নের দশঘরিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালায়। চাটখিল-রামগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত একটি চায়ের দোকানের ভেতরে থাইল্যান্ডি জুয়া খেলা অবস্থায় আলামতসহ ৬ জুয়াড়িকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: পলো বাওয়া উৎসব আছে, কিন্তু নেই আগের মতো মাছ

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জের মোঃ আব্দুস ছাত্তার (৩৬), চাটখিলের পশ্চিম পরকোট এলাকার মোঃ সোহেল হোসেন (৩৫), নুর নবী (৩৪), মোঃ কবির হোসেন (৪১), ইকবাল (৪৫) এবং টিপু সুলতান (২৯)।

চাটখিল উপজেলার সাধারণ মানুষ এই জুয়ার সিন্ডিকেট গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি আবিদ রহমান বলেন, ‘এই থাইল্যান্ডি জুয়া বা তিন গুটি-ছয় গুটির ডিজিটাল জুয়া খেলাটা আমাদের এলাকার তরুণ ও যুবসমাজকে একদম ধ্বংস করে দিচ্ছিল। দিনমজুর থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ছেলেরা পর্যন্ত চায়ের দোকানে বসে মোবাইলে আর গোপনে এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছিল। অনেকে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে, ধার-দেনা করে সর্বস্বান্ত হয়েছে। জুয়ার টাকার জন্য এলাকায় চুরি-ছিনতাইও বাড়ছিল। পুলিশ যে আজ দোকানের ভেতর হাতেনাতে এদের মূল হোতাসহ ধরছে, এতে আমরা এলাকাবাসী অত্যন্ত খুশি। আমরা চাই এই জুয়াড়িরা যেন সহজে জামিন না পায় এবং পুরো চাটখিল থেকে এই জুয়া চিরতরে বন্ধ হোক।’

এদিকে, চাটখিল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিআর মামলার ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আরমান হোসেন রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে। রাজু চাটখিলের পুরুষোত্তমপুর গ্রামের মৃত মোঃ সেলিম হোসেনের ছেলে। সে দীর্ঘ দিন ধরে গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক ছিল।

পৃথক অভিযানে চাটখিল পৌরসভার চাটখিল গ্রাম থেকে ধর্ষণের চেষ্টা মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন (৫০) এবং পশ্চিম ফতেহপুর গ্রাম থেকে জিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোঃ ইব্রাহিম খলিল ওরফে ইমন (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া খিলপাড়া ইউনিয়নের মল্লিকাদীঘির পাড়া এলাকার থেকে গাঁজাসহ ইয়াছিন আরাফাত সৌরভ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, বরিশালের ভূমি অফিসের ২ কর্মচারী প্রত্যাহার

অভিযানে সম্পর্কে চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘চাটখিল উপজেলাকে অপরাধমুক্ত ও শান্ত রাখতে আমরা কাজ করছি। থাইল্যান্ডি জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি তরুণ সমাজ ও পরিবারগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এই চক্রের মূল হোতাসহ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। একই সাথে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিসহ অন্যান্য অপরাধীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাটখিলে জুয়া, মাদক, নারী নির্যাতন ও কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিস্ফোরক মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন এসএ পরিবহনের চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ এম


বিস্ফোরক মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন এসএ পরিবহনের চেয়ারম্যান

কুরিয়ার সার্ভিস এসএ পরিবহনের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ, আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।

প্রায় তিন কোটি টাকার বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের মামলায় আত্মসমর্পণ করে তিনি এই জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে সালাউদ্দিন আহমেদ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তার পক্ষে জামিনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শাহীদুজ্জামান।

শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ হাজার টাকায় মুচলেকায় সালাউদ্দিন আহমেদের জামিন মঞ্জুর করেন। এই তথ্য আদালতে পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার (জিআরও) কর্মকর্তা এসআই রুকনুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত বছরের ২ নভেম্বর পল্টন থানা এলাকায় এসএ পরিবহনের হেড অফিস প্রাঙ্গণে একটি কভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ডিবি পুলিশ দুই কোটি ৮৬ লাখ ৬ হাজার টাকার বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে।

ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনাল টিমের এসআই ইশতিয়াক আহমেদ পরদিন পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সেখানে সালাউদ্দিন আহমেদকেও আসামি করা হয়।

সালাউদ্দিন আহমেদ গত ৬ মে এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। বর্তমানে, জামিনের মেয়াদ শেষ হতে চলায় তিনি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন জামিনের আবেদন করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালি ইরানের ‘ক্ষমতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার’: ক্যালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ এম


হরমুজ প্রণালি ইরানের ‘ক্ষমতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার’: ক্যালিবাফ

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ইরানের ‘ক্ষমতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার’ বলে উল্লেখ করেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার পরও ক্যালিবাফ সাফ জানিয়ে দেন যে এই জলপথের ওপর তেহরান তার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে। খবরটি প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের সেবামূল্যের ক্ষেত্রে কেবল সাময়িকভাবে ৬০ দিনের একটি ছাড় দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এর বাইরে জলপথটির ওপর ইরানের কর্তৃত্বে কোনো বদল হবে না। ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্যালিবাফ বলেন, ‘এগুলো আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা। ইরান হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণ করেছে–এমন দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো বিতর্ক বা কূটতর্ক সৃষ্টির সুযোগ আমরা দেব না।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান এই অবস্থান থেকে একচুলও পিছু হটবে না। হরমুজ প্রণালিকে ‘ঐশ্বরিক উপহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ক্যালিবাফ বলেন, ‘চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটি খোদার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একটি উপহার। আর এটিই আমাদের ক্ষমতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল, কে আগে স্বীকৃতি দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ এম


আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল, কে আগে স্বীকৃতি দিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশকে

ফুটবলের মাঠের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। এই দুই দেশ বাংলাদেশের মানুষের কাছে আবেগের নাম। বিশ্বকাপ এলেই দেখা যায়, দেশের সর্বত্র দু'টি দলের জন্য উন্মাদনা। কিন্তু ফুটবলের বাইরেও বাংলাদেশের ইতিহাসে উক্ত দুই দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশের তালিকায় রয়েছে।

ইতিহাসের পাতা বলছে, ১৯৭২ সালের ১৫ মে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। আর ১০ দিন পর ২৫ মে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা।

কিন্তু দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্রেফ ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং অর্থনৈতিক সম্পর্কও ক্রমাগত জোরদার হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হচ্ছে ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি। আবার আমদানির ক্ষেত্রেও ব্রাজিল এগিয়ে রয়েছে। উভয় দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক।

বর্তমান সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন গতি এসেছে। গত বছরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক সাইডলাইন বৈঠকে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ঢাকায় আর্জেন্টিনা তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে। দেশটির রাষ্ট্রদূতকেও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ ও জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ এম


জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ

বাংলাদেশে টার্কিশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) হিসাবে কাজ করছে অ্যারোমেট সার্ভিসের লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং অন্যতম কর্ণধার শাহরিয়ার নাসের জাহেদী সম্প্রতি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন বলেই ঝিনাইদহে জোর গুঞ্জন চলছে। যদিও শাহরিয়ার নাসের জাহেদী তা অস্বীকার করেছেন। তিনি জামায়াতে যোগ দেন অথবা না দেন, দলটির সঙ্গে জাহেদীর ঘনিষ্ঠতার কথা সকলেরই জানা। এসব তথ্য একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। '২৪-এর আমি-ডামি নির্বাচনে জাহেদী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। পরে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের আগে, এই জাহেদী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময়, তিনি তার বন্ধু তৎকালীন সিজিএস জেনারেল (অব) সিনহা ইবনে জামালীর কল্যাণে ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন। সেই সময়, তার হাতে বিএনপি নেতা মশিউর রহমানসহ বহু নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হন। জাহেদী কেবল অ্যারোমেটের কর্ণধার নন, দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ কোম্পানি রেডিয়েনটের কর্ণধারও। ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষের কথায়, জাহেদী যেখানে ক্ষমতার গন্ধ পান, সেখানে বাসা বাঁধেন। তাদের উদ্বেগ, তাহলে কি জামায়াত শিগগিরই ক্ষমতায় আসবে?

দেশের একটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর মালিকের জামায়াতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন, সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করে বলে অনেকে ধারণা করছেন। জামায়াত এখন নিজেদের গণ্ডির বাইরে গিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করছে। এই ঘটনা তার প্রমাণ হতে পারে।

তবে এই সামান্য সূত্রটির পেছনে আরও গভীর ষড়যন্ত্রের সূত্র রয়েছে। শাহরিয়ার নাসের জাহেদীর জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থাকার বিষয়টি তুরস্কের সঙ্গে একাত্তরের পরাজিত শক্তির সম্পর্কের একটি উদাহরণ। শুধু টার্কিশ এয়ারলাইনসের জিএসএ নয়, তুরস্ক থেকে আসা জকাত ফান্ডসহ দেশের সঙ্গে একাধিক ব্যবসায় জড়িত জাহেদী। জাহেদীর মতো তুরস্ক কেন্দ্রিক বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এখন জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানায়, গত ২৩ বছর ধরে তুরস্কের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, যা একটি মৌলবাদী দল। ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় আসে দলটির প্রধান নেতা রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি ধীরে ধীরে তুরস্ককে উদার, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র থেকে ইসলামপন্থী রাষ্ট্রে পরিবর্তিত করেন। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর, তিনি তার পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল। তার নেতৃত্বে তুরস্কে কট্টর মুসলিম জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, সিরিয়া, লিবিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে তুরস্কের কৌশলগত স্বার্থ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে বিভিন্ন বিদ্রোহী বা ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আঙ্কারার যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। এই কারণেই বাংলাদেশের জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের গোপন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এই সময়ে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে এবং তাদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে। জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের সম্পর্ক প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৬ সালে যখন দেশটি জামায়াতের নেতা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়ের নিন্দা জানায় এবং রায় কার্যকর না করার জন্য তৎকালীন সরকারকে চিঠি দেয়।

তুরস্কের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ-এর উপদেষ্টা সেলচুক কোলাগলু ২০১৯ সালে মিডল-ইস্ট ইনস্টিটিউটে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এই বিষয়ে লিখেছেন, দেশের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২০১১ সালে ইসলামভিত্তিক রাজনীতির মতাদর্শ গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলটি, মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে যেমন সমর্থন দিয়েছিল, তেমনি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর প্রতিও তাদের সমর্থন রয়েছে বলে মনে করেন মি. কোলাগলু।

২০১৬ সাল থেকে তুরস্ক জামায়াতকে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। অ্যারোমেট এমন একটি প্রতিষ্ঠান। এ সময় তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বৃদ্ধি করে। এক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দুই বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ, তুরস্কের কাছ থেকে পিঁয়াজ থেকে শুরু করে সেনা সরঞ্জাম পর্যন্ত কেনা শুরু করে। আওয়ামী লীগ আমলে, তুরস্কের সঙ্গে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির সুফল জামায়াত পেয়ে থাকে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের আড়ালে তুরস্ক জামায়াতকে পুনরুজ্জীবিত করে। আজকের জামায়াত অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, তুরস্কের ব্রেন চাইল্ড বলেও মনে করা হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই এক দশকে (২০১৬-২০২৬) জামায়াত সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে। এর পেছনে প্রধান অর্থদাতা ছিল তুরস্কের সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশিরা। তাদের মুনাফার একটি নিদির্ষ্ট অংশ সিআরএসের (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) নামে জামায়াত নিয়ন্ত্রণাধীন মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়।

তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) এবং বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী একই মতাদর্শে বিশ্বাসী। এর কারণেই এককালের ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্ক জামায়াতের ঘনিষ্ঠ মিত্রতে পরিণত হয়েছে। ১৯২৮ সালে মিসরে ইখওয়ানুল মুসলিমিন (মুসলিম ব্রাদারহুড) প্রতিষ্ঠা করেন হাসান আল বান্না ও সাইয়্যেদ কতুব। ইতিহাসবিদ ফিলিপ জেনকিন্সের মতে, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদীর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠা ঘটে। তবে মওদুদী জামায়াত প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪০ সালে। ১৯৭৯ সালে মওদুদীর মৃত্যুর পর ব্রাদারহুডই হয়ে ওঠে তার দর্শনে বিশ্বাসী ও মতাদর্শে পরিচালিত দলগুলোর ঐক্যের প্রতীক। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে মওদুদীর মতাদর্শে বিশ্বাসী দল। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে এরা জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন নামে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। কয়েকটি দেশে ক্ষমতার শরিক হলেও সুদানে ও তুরস্কে এককভাবে ক্ষমতায় আছে তারা। এসব দলের ওপর ব্রাদারহুডের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও তাদের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর জামায়াতের প্রতি সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে তুরস্কের বর্তমান সরকার। জুনের প্রথম সপ্তাহে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশের সফরের সময় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। এর আগে, গত মে মাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের হুদা পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান হুসাইন এমির এবং এনজিও বিভাগের প্রধান ফিকির কারাভিল।

জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের বহুমুখী সম্পর্ক এখন দৃশ্যমান। বহু ছাত্রশিবিরের সদস্য উচ্চশিক্ষার জন্য তুরস্কে যাচ্ছে। তাদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বেশির ভাগ ফায়দা নিচ্ছে জামায়াত। তুরস্কে জামায়াতের কর্মীদের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির আদলে জামায়াতকে আধুনিকীকরণের কাজটা করছে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, বাইরে উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রদর্শন, পোশাকে আধুনিকতা, ইত্যাদি নানা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে তুরস্কের ক্ষমতাসীনরা। বাংলাদেশে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনার জন্য একটি নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে। এখন যার বাস্তবায়ন চলছে।

কিন্তু বাংলাদেশে জামায়াতের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো তাদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক যেমন গভীর পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে তেমনি জামায়াতের একাত্তরের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হবে। জামায়াত এখন উদারতার এবং আধুনিকতার যে রাজনীতির কথা বলছে তা আসলে একটি মুখোশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%