শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৫ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীর বালুমহল লিজ নিয়ে ইজারাদারের লোকজন ড্রেজারে বালু উত্তোলনের সময় কর্মচারীদের মারধর ও নগদ ১৬ লাখ টাকা লুটসহ চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও মাসুদ রানা বাবুসহ তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তাছাড়া হামলায় গুরুতর আহত কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন কাকন বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও মাসুদ রানা বাবুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে ভৈরব থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাংসদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন বালুমহল ইজারাদার পক্ষের পরিচালক মাইনুল ইসলাম বেকুল।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মইনুল ইসলাম বেকুল। তিনি বৈধ ইজারাদার শফিক ট্রেডার্সের পক্ষে বালুমহলটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে মইনুল ইসলাম বেকুল বলেন, ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাজি মো. শাহিনের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মেঘনা নদীর বালুমহলটি ইজারা নেন। ইজারামূল্য, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ মোট ১৬ কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনে ১ বৈশাখ থেকে ভৈরব উপজেলার তিনটি মৌজায় বালু উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বেকুলের অভিযোগ, বালুমহলের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বিনা বিনিয়োগে বালু ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় কাজল ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বালুমহল নিয়ে অপপ্রচার চালান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে কাজল, ও বাবুসহ তাঁদের সহযোগীরা নৌকাযোগে লুন্দিয়া মৌজায় অবস্থিত বালুমহলে গিয়ে হামলা চালান এবং বালুমহলের ক্যাশে থাকা ১৬ লাখ টাকা নিয়ে যান। এ সময় বালুমহলের কর্মচারী কাকনের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহতসহ আরও দুই কর্মচারী মারধরের শিকার হন। আহত কাকন মিয়াকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত কাকনের ভাই পূণ্য মিয়া বাদী হয়ে ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও মাসুদ রানা বাবুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
পরিচালক বেকুল বলেন, বালুমহলটি সরকারি দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া বালুমহল নিয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা যুবদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন সুজন, সদস্য সচিব আল মামুন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হানিফ মাহমুদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আরিফুল হক সুজনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অভিযুক্ত গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি অভিযোগ করেন, ইজারা বৈধ হলেও, ইজারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অতিরিক্ত ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধউপায়ে বালু উত্তোলন করছে তারা। ওই দিন আমরা সাংবাদিক নিয়ে অতিরিক্ত ড্রেজারের ছবি ও ভিডিও করে পাড়ে চলে আসার মুহুর্তে বালু সন্ত্রাসীরা পিস্তল, রামদা ও চাপাতি নিয়ে দুটি স্পীডবোড নিয়ে আমাদের নৌকায় উঠে হামলা চালিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এলাকাবাসী লোকজন এগিয়ে এসে আমাদের তখন উদ্ধার করে। তাছাড়া ইজারাদার একজন হলেও প্রায় দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে বালু ব্যবসায় অংশীদার করেছেন। তা ইজারা চুক্তির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, প্রশাসনের উচিত তদন্ত করা। এসব অংশীদারের মাধ্যমে নদীতে প্রভাব বিস্তার ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির করায় সাধারণ মানুষও তাদের প্রয়োজনে নদীতে যেতে ভয় পায়। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, হামলা, ছিনতাই ও ইজারা শর্তভঙ্গ করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রথমবারের মতো তামারং বেনেবউ পাখির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকর্মী অরিত্র সাত্তার পাহাড়ি বনাঞ্চলে বসবাসকারী এই তুলনামূলক বিরল পাখিটি দেখতে পান। পাখিবিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকার বাইরে এ প্রজাতির পাখির দেখা পাওয়া বেশ বিরল।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন এলাকায় একটি গাছে পাখিটি দেখা যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পাখিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। সেখানে তামারং বা মেরুন বেনেবউয়ের উপস্থিতি ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্যের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে উন্মোচন করেছে।
মেরুন-কালো রঙের অনন্য পাখি
তামারং বা মেরুন বেনেবউয়ের ইংরেজি নাম Maroon Oriole এবং বৈজ্ঞানিক নাম Oriolus traillii। পাখিটির দেহের গাঢ় তামাটে বা মেরুন রং এবং কালো মাথার কারণে এটি সহজেই অন্য বেনেবউ প্রজাতি থেকে আলাদা করা যায়। আকারে এটি ময়নার চেয়ে সামান্য বড়। সাধারণত গাছের উঁচু ডালে ও পাতার আড়ালে অবস্থান করে, তাই পাখিটিকে সহজে চোখে পড়ে না।
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির দেহের অধিকাংশ পালক চকচকে গাঢ় তামাটে-মেরুন রঙের। মাথা, ঘাড় ও ডানা কালো। ঠোঁটের রং নীলাভ কালো এবং লেজের দিকে তামাটে-বাদামি আভা থাকে। অন্যদিকে, স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির দেহের নিচের অংশ ধূসর-সাদা, যার ওপর কালো দাগ দেখা যায়। পাখিটি সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে। কখনো কখনো ফিঙে কিংবা মিনিভেটের মতো পাখির দলের সঙ্গেও দেখা যায়। উঁচু গাছের পাতা ও ডালপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকলেও ফুলের মধু সংগ্রহের সময় তুলনামূলকভাবে সহজে চোখে পড়ে। এর ডাক কিছুটা কর্কশ ‘কিহ-আ’ শব্দের পর শিসের মতো ‘পি-লো-লো’ ধ্বনির সমন্বয়ে তৈরি।
পাহাড়ি বনই প্রধান আবাসস্থল
তামারং বেনেবউ মূলত হিমালয়ের পাদদেশের আর্দ্র পর্ণমোচী ও চিরসবুজ বন এবং সংলগ্ন সমতল এলাকার পাখি। ভারতীয় উপমহাদেশে হিমাচল প্রদেশ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত হিমালয়সংলগ্ন অঞ্চলে এবং দক্ষিণে মণিপুরসহ আশপাশের এলাকায় এর বিস্তৃতি রয়েছে। বাংলাদেশে সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলে পাখিটি দেখা যায়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও পাখিবিশেষজ্ঞ ড. এম মনিরুল এইচ খান বলেন, তাম্ররঙা বেনেবউ মূলত সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় দেখা যায়। তবে সেখানেও পাখিটি খুব একটা সচরাচর দেখা যায় না।
তিনি বলেন, ‘শহর বা শহরতলির বনাঞ্চলে এ প্রজাতির পাখি দেখা যাওয়া একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়।’
মনিরুল এইচ খান আরো বলেন, পাহাড়ি এলাকার বাইরে বাংলাদেশে এর আগে মাত্র দুবার পাখিটির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একবার ঢাকার মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এবং অন্যবার দিনাজপুরের উত্তর নবাবগঞ্জে পাখিটির দেখা মিলেছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের আশপাশের অনেক এলাকায় একসময় প্রচুর গাছপালা ছিল। তবে সেসব গাছপালার বড় একটি অংশ এখন আর নেই। তুলনামূলকভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখনো পাখির জন্য ভালো আবাসস্থল।
কী খায়, কোথায় বাসা বাঁধে
তামারং বেনেবউয়ের খাদ্যতালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ, শুঁয়োপোকা, অন্যান্য ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী, জামজাতীয় ফল, বুনো ডুমুর, বেরি ও ফুলের মধু। গাছের পাতা ও ডালে ডালে খাবারের সন্ধান করে, তাই এর খাদ্য সংগ্রহের বড় অংশই বৃক্ষনির্ভর।
প্রজনন মৌসুমে সাধারণত এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে এ পাখিকে বাসা তৈরি করতে দেখা যায়। গাছের ডালের দুই প্রান্তের সংযোগস্থলে তন্তু ও মাকড়সার জাল দিয়ে কাপের মতো বাসা তৈরি করে। এতে সাধারণত দুই থেকে তিনটি গোলাপি-সাদা ডিম পাড়ে, যেগুলোর গায়ে কালো বা লালচে-বাদামি দাগ থাকে। বাংলাদেশে এ প্রজাতির পাখির উপস্থিতি দেশের বনাঞ্চল ও বৃক্ষনির্ভর জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রাকৃতিক বন, বড় গাছ এবং ঘন বৃক্ষরাজি টিকে থাকলে এ ধরনের পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।
প্রকৃতি সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা
ক্যাম্পাসে তামারং বেনেবউয়ের উপস্থিতি সম্পর্কে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকর্মী ও তরুণ গবেষক অরিত্র সত্তার বলেন, পাখিটির দেখা পাওয়া প্রমাণ করে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষের আগের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থল আরো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এ জন্য সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশকে মানুষের বিরক্তি ও হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখির আবাসস্থল রক্ষায় গাছপালা সংরক্ষণ, নির্বিচার বৃক্ষনিধন রোধ এবং পাখির বিচরণস্থলে অপ্রয়োজনীয় মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা গেলে বিরল ও অনিয়মিতভাবে দেখা দেওয়া পাখির জন্যও অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকতে পারে।
এদিকে, পাখিবিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলতি বছর পরিযায়ী পাখিরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আসতে শুরু করেছে। আগের বছরগুলোতে কিছু প্রজাতির পাখির আগমনে বিলম্ব দেখা গেলেও এবার তাদের আগমন সময়মতো হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তামারং বেনেবউয়ের উপস্থিতি তাই শুধুমাত্র একটি বিরল পাখি দেখার ঘটনা নয়; বরং ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৃক্ষরাজি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরার একটি উপলক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে উভয় পাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার জুড়ে আটকা পড়েছে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং প্রাইভেটকার। অন্য পাশের লেন খালি থাকা সত্ত্বেও অবরোধের কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শত শত অটোরিকশা চালক তাদের অটোরিকশা রাস্তার মাঝখানে আড়াআড়ি করে রেখে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এর ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী হাজার হাজার যাত্রী, নারী, শিশু, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি উত্তেজিত শ্রমিকদের মাঝে গিয়ে মানবিক ও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন।
ওসি বলেন, "এভাবে রাস্তা বন্ধ করা ঠিক না। এটা প্রতিবাদ করার সঠিক নিয়ম না। আপনারা গরিব মানুষ, আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। এই বিষয়টা আমি সরকারের কাছে, আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজে-কলমে লিখে জানিয়ে দেব। সরকার একটা ব্যবস্থা নেবে। আপনাদের দায়িত্ব আমি নিলাম। এই এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব আপনাদের খোঁজ খবর নেবে। দয়া করে বাবারা, আপনারা রাস্তাটা ছেড়ে দিন। হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।" তাঁর মানবিক ও দায়িত্বশীল বক্তব্যের পর পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে।
এসময় উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান বলেন, "আমাদের ওসি সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি মানবিক কারণে আপনাদের গরিব মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন। এরকম ওসির প্রয়োজন, এরকম পুলিশের প্রয়োজন। আপনারা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ওসি সাহেবের কথার উপর ভরসা করে রাস্তা ক্লিয়ার করে দেন।"
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের হয়রানি, অটোরিকশা আটক এবং অযথা টাকা আদায়ের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন। তাদের দাবি, মহাসড়কে চলাচলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করতে হবে।
একজন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা গরিব, দিন আনি দিন খাই। আমাদেরকে যদি প্রতিদিন আটক করা হয়, তাহলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?"
পরে ওসি মোঃ শহিদুল ইসলামের আশ্বাস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর চালকরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছয় বছর আগে একটি সেতু খালের ওপর ভেঙে পড়েছিল। এরপর থেকে পাঁচ গ্রামের মানুষের জন্য বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পার হচ্ছে, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং বয়স্করা চলাচল করছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২নং কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের দুর্ভোগের শিকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতু না থাকার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও যেতে হলে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধান হলেই খালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বছরের পর বছর এভাবে চলাচল করলেও সেতু নির্মাণের জন্য কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ নম্বর পোল্ডারের আওতায় ২ নম্বর কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২০ সালে সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। সেটিই এখন ২নং কয়রা, ওড়াতলা, গোবরা, হরিণখোলা ও পূর্বচকসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা।
ওড়াতলা গ্রামের খালপাড়ের বাসিন্দা রিপন আহম্মেদ বলেন, ‘সেতু খালে পড়ে আছে, পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়, মানুষ বাজারে যায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই খালে পড়ে যাওয়ার ভয়। ছয় বছর ধরে এমন কষ্ট করছি, কিন্তু সেতু আর হলো না।’
এলাকার আরো অনেক বাসিন্দা একই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সেতুর অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন। কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের যাতায়াতেও ভোগান্তি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী কিংবা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, খালের দুই পাড়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে একটি বাঁশের সাঁকো। সেটি দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুলগামী শিশুরা ভয়ে ভয়ে সাঁকো পার হচ্ছে। বয়স্কদের কেউ কেউ অন্যের সহায়তা নিয়ে পার হচ্ছেন। পাশেই পড়ে আছে ভাঙা সেতুর অবশিষ্টাংশ। সেতুটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভেঙে খালে পড়ে আছে। সেতু না থাকায় ভ্যান, ইজিবাইক এবং পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
২ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দা গফুর সানা বলেন, সাঁকো পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পিছলে পড়ে যায়। তাদের বই-খাতা পানিতে পড়ে নষ্ট হয়। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। রাতে কোনো রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে স্বজনদের বিপাকে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাঁচ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সেতু নির্মাণের প্রকল্প নিতে হবে। বছরের পর বছর বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে একটি জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা চলতে পারে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি এবং বয়স্কদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সভায় বারবার বিষয়টি তুলে ধরেও সমাধান মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণ করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা জরুরি।’
কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ভাঙা সেতুর কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করে সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ছয় বছর ধরে সেতু না থাকায় পাঁচ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন, যা উদ্বেগজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু আশ্বাস নয়, সমস্যাটির বাস্তবসম্মত সমাধানে কী করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনের ফুটবলে বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। লা লিগার রেফারিং নিয়ে ক্রমাগত অসন্তোষ প্রকাশ করছে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের টিভি চ্যানেলে রেফারিদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিরুদ্ধে। এ প্রেক্ষিতে লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস রিয়ালের এই প্রচারণা কৌশলকে জার্মানির নাৎসি সরকারের প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন তিনি।
লা লিগার সভাপতির এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্পেনের ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (সিএসডি) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠিয়েছে স্পেনের স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে (টিএডি)। তেবাসের মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদা এবং শালীনতার আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ঘটনার শুরু ১৬ অক্টোবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৬৪ বছর বয়সী তেবাস লেখেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের নিজস্ব একদল মুখপাত্র রয়েছে এবং ক্লাবটি নিজেই এর নেতৃত্ব দেয়। তাদের কৌশল সবসময় একই—সুবিধাজনক পদক্ষেপ বাছা, অপমানের পুনরাবৃত্তি, সন্দেহ তৈরি করা ও শত্রুদের নাম প্রকাশ করা। এটি গোয়েবলসের ব্যবহৃত প্রচার কৌশলের কথা মনে করিয়ে দেয়।’
তেবাসের মন্তব্যের পর রিয়াল মাদ্রিদ কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায়। ক্লাবটি অবিলম্বে লা লিগার সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে। সিএসডির মতে, স্প্যানিশ ‘ক্রীড়া আইন ১০/১৯৯০-এর ৭৬.৪.বি অনুচ্ছেদ’ অনুযায়ী তেবাসের এই আচরণ গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সতর্কবার্তা, অর্থদণ্ড বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার শাস্তি হতে পারে তার।
এদিকে লা লিগার সভাপতি আত্মপক্ষ সমর্থনে সরব হয়েছেন। তিনি পাল্টা বিবৃতিতে জানান, প্রচারকৌশল বোঝাতে তিনি এই উপমা দিয়েছিলেন, রিয়াল সমর্থক বা ক্লাবের মূল্যবোধকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়।
একই সঙ্গে রিয়ালের সম্প্রচার নিয়ে সিএসডির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তেবাস লেখেন, ‘রিয়ালের অফিসিয়াল টিভি যখন রেফারিং ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে এবং লিগ চুরি হওয়ার অভিযোগ তোলে, তখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বা সিএসডি চুপ থাকে কেন? প্রতিযোগিতাকে জালিয়াতি বলা কি খেলাধুলার শালীনতার ওপর আঘাত নয়? এতে কি ক্লাব, রেফারি এবং লাখ লাখ সমর্থকের ক্ষতি হচ্ছে না? নাকি এসব মূল্যবোধের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার প্রয়োজন পড়ে কেবল তখনই, যখন কেউ এমন আক্রমণের জবাব দেয়?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ