ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা ‘মামার বাড়ির আবদার’: রিজভী


হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা ‘মামার বাড়ির আবদার’: রিজভী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সংবাদ সম্মেলন ভারতে বসে করা এবং দেশে ফিরে রাজনীতি করার ঘোষণাকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী 'মামার বাড়ির আবদার' ও 'ধৃষ্টতা' বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেছেন, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার পরে এই ধরনের বক্তব্য জনগণ মেনে নেবে না। সাধারণ জনগণ বিগত কিছু বছরের গুম ও খুনের বিচার দেখতে চায়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীতে বিএনপির প্রয়াত ক্রীড়াসংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানের সময় তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী

বর্তমান সরকারকে ন্যায়-নিষ্ঠার ভিত্তিতে দাঁড়ানো সরকার উল্লেখ করে রিজভী বলেন, 'বিগত সময়ে যারা গুম করেছে ও খুন করেছে, তাদের বিচার দেখতে চায় দেশের সাধারণ মানুষ। শেখ হাসিনার বিচার অবশ্যই হতে হবে। যিনি এত মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছেন, তিনি আবার বিদেশে বসে প্রেস কনফারেন্স করে বলছেন ডিসেম্বরে ফিরে আসবেন এবং রাজনীতি করবেন। এটা যেন মামার বাড়ির আবদার।'

রিজভী আরও বলেন, 'যারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছেন, তারা মূলত নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মনে করেন। শেখ হাসিনা ও তার দল জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে।'

অনুষ্ঠানে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, 'আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতি করতেন না, তিনি ছিলেন একজন ক্রীড়াসংগঠক। কিন্তু তাঁর মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক নয়। মায়ের ওপর হওয়া অত্যাচার ও নির্যাতন তিনি সহ্য করতে পারেননি।'

একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না, তিনি দেশের মানুষের সঙ্গে নিয়ে সুবিচারের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

এছাড়া অনুষ্ঠানে পল্লবী ও রূপনগর থানা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক ও ছিনতাইসহ অপরাধ দমনে কঠোর নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:২৭ পি.এম


মাদক ও ছিনতাইসহ অপরাধ দমনে কঠোর নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পাশাপাশি থানা এলাকায় হোটেল ও স্পা সেন্টারে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ছিনতাই প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, মাদক কারবারি ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি আরও জানান, থানার এলাকায় হোটেল ও স্পা সেন্টারে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড যাতে পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডিএমপি কমিশনার।

ছিনতাই প্রতিরোধের জন্য, তিনি বলেছেন, ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সিটিটিসি ও ডিবিকে ২৪ ঘণ্টা মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অভিযান জোরদারের পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন।

প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং ক্রাইম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন ও তদন্ত কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা যথাযথভাবে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিএমপি কমিশনার।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, সহকারী পুলিশ কমিশনাররা, ডিএমপির সকল থানার অফিসার ইনচার্জরা ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এয়ার ইন্ডিয়ার সব পাইলটের ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


এয়ার ইন্ডিয়ার সব পাইলটের ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্ত

এয়ার ইন্ডিয়া পাইলটদের ডোপ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা উক্ত এয়ারলাইন্সের কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে করা হয়েছে। চিঠির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে এই ডোপ টেস্ট শুরু করা হবে। এটি সব পাইলটের জন্য বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া হবে।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গত সপ্তাহে ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের সময় ঘটানো তীব্র ঝাঁকুনির কারণে। ওই ফ্লাইটের প্রধান পাইলট, সুদীপ ভাসিস্তা, পরপর দুটি ডোপ টেস্টে অকৃতকার্য হয়েছেন, যেখানে তার রক্তে মারিজুয়ানা সেবনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনারা জানেন যে, এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্বারা নির্ধারিত সকল নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা মেনে চলে, যা ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য প্রধান বিমান চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’

তবে, এয়ার ইন্ডিয়া মনে করে যে, তাদের আরও এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সে অনুযায়ী, তারা প্রতিটি গ্রুপ পাইলটের একটি পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে প্রচলিত নিয়মের আওতায় অনুমোদিত নয় এমন কোনো পদার্থ বা ঔষধের উপস্থিতি চিহ্নিত করা যায়।

এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, গুরুগ্রাম একাডেমিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ফ্লাইট ব্রিফিং সেন্টার এবং অফিসগুলোতে ফ্লাইট-পরবর্তী সময়ে এই পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়েও নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের শীর্ষ মান ধরে রাখাই আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এটি মূলত আমাদের যাত্রী, অংশীজন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে আমাদের দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করে।’

এয়ারলাইন্সটি ঘোষণা করেছে যে, ‘কয়েক দশক ধরে এয়ার ইন্ডিয়া ভারতীয় বিমান চলাচলের পতাকাবাহী। এ সময়ে আমাদের পাইলটদের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতি লক্ষ লক্ষ যাত্রী এবং বৃহত্তর সমাজের আস্থা অর্জন করেছে। এই আস্থা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং এটি রক্ষা ও টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা যা কিছু করতে পারি তা করার জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ফুকেট থেকে দিল্লিতে ফেরত আসছিল। এ বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু ছিলেন। ওড়িশার আকাশসীমায় মাঝ-আকাশে হঠাৎ বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনি দেয় এবং ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ঘটনার সময় প্রধান পাইলট তার আসনে ছিলেন না। কো-পাইলট দায়িত্বে ছিলেন।

বিমানটি তীব্র গতিতে নিচে নামার ফলে ভেতরে ‘নেগেটিভ গ্র্যাভিটি’ বা ঋণাত্মক মাধ্যাকর্ষণ তৈরি হয়। এর ফলে ককপিটের জিনিসপত্র এবং সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রীরা শূন্যে ভেসে উঠে। এআই২৩৭৯ ফ্লাইটের সেই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু আহত হন।

ফ্লাইটটির দিল্লিতে অবতরণের পর প্রধান পাইলট সুদীপ ভাসিস্তার ডোপ টেস্ট করা হয়। তিনি পরপর দুটি টেস্টেই অকৃতকার্য হয়েছেন। পাইলটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, তিনি মাত্র ২৪ ঘণ্টার যাত্রাবিরতিতে সব ক্রুদের সঙ্গে পার্টিতে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি যাত্রীদের ভিডিও না করার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘তিলকে তাল বানাবেন না।’

দিল্লিতে অবতরণের পর পাইলট সুদীপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর একজন তদন্তকারী তাকে সতর্ক করেন যে, সিসিটিভি-র মাধ্যমে তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এরপরও পাইলটকে বসানোর জন্য সাহায্য করতে হয়েছিল। প্রস্রাবের নমুনা জমা দেওয়ার সময়ও তাকে শারীরিকভাবে সহায়তা করা হয়েছিল। যদিও প্রধান পাইলট মাদক সেবনের কথা অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি ঘুমের জন্য ঔষধ সেবনের কথা স্বীকার করেছেন।

ভারতের এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা যৌথভাবে এয়ারবাসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্তের সময় পাইলট এবং কো-পাইলটকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-সৌদি সরাসরি ফ্লাইট ৭১ শতাংশ বাড়বে: বেবিচক চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


বাংলাদেশ-সৌদি সরাসরি ফ্লাইট ৭১ শতাংশ বাড়বে: বেবিচক চেয়ারম্যান

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। নতুন বিমান চলাচল ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ার পরিবর্তে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসসি এ) মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

তিনি জানান, সৌদি আরব সফর শেষে চার সদস্যের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আজ দেশে ফেরার পর রাজধানীর বেবিচক সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নতুন এই ব্যবস্থা আগামী ৫ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে দুই দেশের মধ্যে বিমান ভ্রমণের দীর্ঘদিনের চাপ কমে যাবে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহন খুব সহজ হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে হজ কার্যক্রম অনেক বেশি নির্বিঘ্ন হবে।’ এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, নতুন ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরব যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যাত্রীকে সরাসরি ফ্লাইটের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশি যাত্রী পরোক্ষ রুটে সৌদি আরব যাতায়াত করেন। সরাসরি বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে তাদের ভ্রমণের সময় ও ব্যয় দুটিই কমবে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘ফিফথ ফ্রিডম’ ট্রাফিক অধিকারও পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরব হয়ে স্পেনের জারাগোজা ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে কার্গো পরিবহন করতে সক্ষম হবে। একইভাবে সৌদি আরব চীনের দু’টি গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের অধিকার পেয়েছে।

মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে পারে। এর মাধ্যমে ইউরোপের বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে পণ্য পরিবহন আরও দক্ষ, সহজ এবং কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক কার্গো পরিবহনের এই ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি অর্থনীতিকে সহায়তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও উল্লেখ করা যায়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাপের বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ হলেও বর্তমানে সেখানে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করছেন।

এইচএসআইএর ওপরে চাপ কমাতে এবং বিদ্যমান বিমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম এবং সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো আরো বেশি ব্যবহারের জন্য এয়ারলাইনসগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এটি আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালুর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে হজ কার্যক্রমের জন্য টার্মিনাল-১ এবং টার্মিনাল-২ নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিবছর হজ মৌসুমে যাত্রী ব্যবস্থাপনা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বিমানবন্দরে গোলাবারুদ-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।

এছাড়া বিমানবন্দরে খোলা জায়গায় কার্গো রাখার কারণে বৃষ্টিতে পণ্য ভিজে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আরো উন্নতি প্রয়োজন।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, পণ্য সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান করে আমদানিকারকদের সেবা উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য ইতোমধ্যে ১১টি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগস্টে আরও ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


আগস্টে আরও ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : চলতি আগস্ট মাসে সরকার আরো ৫টি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উক্ত কার্গোগুলোর মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) হবে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান আজ বাসস’কে জানিয়েছেন, ‘গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট মাসে আরো ৫টি কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো স্পট মার্কেট, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।’

তিনি এ সময় বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে তিন ধরনের উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করছে। গড়ে প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি সংরক্ষিত থাকে।

মিজানুর রহমান আরো জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে মোট ৯টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে ৪টি কার্গো দেশে পৌঁছে গেছে। বাকিগুলো এই মাসেই আসবে। আমদানি করা ৯টি কার্গোতে মোট এলএনজির পরিমাণ হচ্ছে ২ কোটি ৮৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

পেট্রোবঙ্গলা সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১টি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৫টি এবং স্পট মার্কেট থেকে ৩টি কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। বাকি চালানগুলো ১৭, ২১, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্টের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।

এর আগে, গত জুলাই মাসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছিল। এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার অ্যানার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করে।

এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করছে।

উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%