বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৩৩ পি.এম
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। নতুন বিমান চলাচল ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ার পরিবর্তে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসসি এ) মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
তিনি জানান, সৌদি আরব সফর শেষে চার সদস্যের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আজ দেশে ফেরার পর রাজধানীর বেবিচক সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নতুন এই ব্যবস্থা আগামী ৫ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে দুই দেশের মধ্যে বিমান ভ্রমণের দীর্ঘদিনের চাপ কমে যাবে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহন খুব সহজ হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে হজ কার্যক্রম অনেক বেশি নির্বিঘ্ন হবে।’ এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, নতুন ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরব যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যাত্রীকে সরাসরি ফ্লাইটের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশি যাত্রী পরোক্ষ রুটে সৌদি আরব যাতায়াত করেন। সরাসরি বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে তাদের ভ্রমণের সময় ও ব্যয় দুটিই কমবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘ফিফথ ফ্রিডম’ ট্রাফিক অধিকারও পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরব হয়ে স্পেনের জারাগোজা ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে কার্গো পরিবহন করতে সক্ষম হবে। একইভাবে সৌদি আরব চীনের দু’টি গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের অধিকার পেয়েছে।
মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে পারে। এর মাধ্যমে ইউরোপের বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে পণ্য পরিবহন আরও দক্ষ, সহজ এবং কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, পারস্পরিক কার্গো পরিবহনের এই ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি অর্থনীতিকে সহায়তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও উল্লেখ করা যায়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাপের বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ হলেও বর্তমানে সেখানে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করছেন।
এইচএসআইএর ওপরে চাপ কমাতে এবং বিদ্যমান বিমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম এবং সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো আরো বেশি ব্যবহারের জন্য এয়ারলাইনসগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এটি আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালুর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে হজ কার্যক্রমের জন্য টার্মিনাল-১ এবং টার্মিনাল-২ নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিবছর হজ মৌসুমে যাত্রী ব্যবস্থাপনা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বিমানবন্দরে গোলাবারুদ-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।
এছাড়া বিমানবন্দরে খোলা জায়গায় কার্গো রাখার কারণে বৃষ্টিতে পণ্য ভিজে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আরো উন্নতি প্রয়োজন।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, পণ্য সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান করে আমদানিকারকদের সেবা উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য ইতোমধ্যে ১১টি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : চলতি আগস্ট মাসে সরকার আরো ৫টি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উক্ত কার্গোগুলোর মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) হবে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান আজ বাসস’কে জানিয়েছেন, ‘গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট মাসে আরো ৫টি কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো স্পট মার্কেট, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।’
তিনি এ সময় বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে তিন ধরনের উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করছে। গড়ে প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি সংরক্ষিত থাকে।
মিজানুর রহমান আরো জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে মোট ৯টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে ৪টি কার্গো দেশে পৌঁছে গেছে। বাকিগুলো এই মাসেই আসবে। আমদানি করা ৯টি কার্গোতে মোট এলএনজির পরিমাণ হচ্ছে ২ কোটি ৮৮ লাখ এমএমবিটিইউ।
পেট্রোবঙ্গলা সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১টি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৫টি এবং স্পট মার্কেট থেকে ৩টি কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। বাকি চালানগুলো ১৭, ২১, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্টের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
এর আগে, গত জুলাই মাসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছিল। এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার অ্যানার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করে।
এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করছে।
উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এলাকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জেরে গুলিতে দুইজন নিহতের ঘটনা নিয়ে করা জোড়া খুনের মামলায় আদালত প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলার অন্যান্য আসামি পারুল এবং ফরহাদকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, বিকেল ৪টার সময় নোয়াখালীর অতিরিক্ত দায়রা জজ-২য় আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলামের মাধ্যমে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মনু মিঝি বাড়িতে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর পরিণতি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী সবুজের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের উপর গুলি চালানো হয়। ঘটনাটি সেতারা বেগম ও খলিলের মৃত্যু ঘটায়। এই ঘটনায় আরো পাঁচজন গুলিবিদ্ধ আহত হন, এবং আহতদের মধ্যে পাঁচজন এখনও অসুস্থ আছেন বলে জানা যায়। ঘটনার পর আবদুস সহিদ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর হল ৪৯৯/১৩। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত বৃহস্পতিবার রায়টি ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি জসিম উদ্দিন বাদল মন্তব্য করেন, প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসমি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে এক ডিজিটাল প্রতারক গ্রেপ্তার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করলেও গ্রেপ্তারকৃত রোহান যাদব মূলত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রোহান যাদবের নেতৃত্বে একদল প্রতারক নিজেদের সিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক বৃদ্ধের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা বৃদ্ধকে জানায় যে, তিনি একটি মামলায় অভিযুক্ত। প্রতারকরা বৃদ্ধকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর হুমকি দেয়। আইনি ব্যবস্থা বাঁচানোর অছিলায় তারা বৃদ্ধকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি ট্রান্সফার করতে বলেছিল।
পরে, প্রতারিত হওয়া বৃদ্ধ পুলিশে যোগাযোগ করেন।
প্রতারকদের ধরতে পুলিশ একটি ফাঁদ পাতে। একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় পুনে পুলিশ একজন অভিযুক্তকে খুঁজে পায়। এরপর তাদের মধ্যে হর্ষদ সুভাষ ধানতোলে, সমর্থ সুরেশ দেশমুখ এবং অমর শিবাজি আত্তারগিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত চলাকালীন, ধানতোলে জানায় যে, সে যাদবকে তুলে নেওয়া টাকাগুলো দিয়েছিল; যে তখন পলাতক ছিল।
মাসতরিড ছিলেন ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা যাদব, যে মোট ৫ হাজার ৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতারণা করা ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি ট্রান্সফার করেছিল। তদন্তে দেখা যায়, সে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে হংকংয়ের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করত এবং প্রায়ই তাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথাবার্তা বলত।
পুলিশ জানিয়েছে, যাদব ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে তার হংকংয়ের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করত এবং ভারত থেকে বিদেশি মুদ্রায় টাকা পাঠানোর জন্য মোটা কমিশন পেত। কর্মকর্তারা জানান, ইনফ্লুয়েন্সার যাদব সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্টের কাজও করত।
রোহান যাদবের বিরুদ্ধে পুনে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তার সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক উৎস বন্ধ করে দেওয়ার পর, সে গ্রেপ্তার এড়াতে শুক্রবার পুনের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এরপর, পুনে সাইবার পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গ্রেপ্তার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটানোর পর নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি হংকং হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। তাঁর দেশে ফেরার খবরের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই এই বিষয়টি অনুসরণ করছেন।
নেপালে ফেরার পর, দেউবা সরাসরি মহারাজগঞ্জে তার ভাড়া করা বাসভবনে উঠবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা। তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার আগে যে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন, দেশে ফিরে সেখানে থেকেই রাত্রি যাপন করবেন।
অবশ্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরের দিকে রওনা হন। এরপর থেকে দেউবা প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটান। তবে তার এই দীর্ঘ বিদেশ অবস্থান এবং চিকিৎসার প্রকৃত পরিস্থিতি কি ছিল, সেই সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
দেউবা কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুরে যাত্রা করলেও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা নয়াদিল্লি হয়ে সেখানে পৌঁছান। দেউবা, রানাসহ তাদের ছেলে জয়বীর কখন সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ের উদ্দেশে গেছেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার, যা ঘটে, দেউবা দেশে ফিরে এলেও তার স্ত্রী আরজু রানা ও ছেলে জয়বীরের বর্তমান অবস্থান সক্রিয়ভাবে জানা যাচ্ছে না। দেউবা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন।
কিন্তু কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন, কিংবা কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এইদিকে, প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে যাতায়াত এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় যে তারা বহন করেছেন, সেটিও নিয়ে আলোচনা উঠেছে।
৮০ বছর বয়সী শের বাহাদুর দেউবা, যিনি নেপালের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হয়ে নেপালের জেন-জি আন্দোলন, দ্রুত দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে আন্দোলন বাড়তে থাকলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীকালে বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ