বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৩৫ পি.এম
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : চলতি আগস্ট মাসে সরকার আরো ৫টি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উক্ত কার্গোগুলোর মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) হবে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান আজ বাসস’কে জানিয়েছেন, ‘গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট মাসে আরো ৫টি কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো স্পট মার্কেট, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।’
তিনি এ সময় বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে তিন ধরনের উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করছে। গড়ে প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি সংরক্ষিত থাকে।
মিজানুর রহমান আরো জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে মোট ৯টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে ৪টি কার্গো দেশে পৌঁছে গেছে। বাকিগুলো এই মাসেই আসবে। আমদানি করা ৯টি কার্গোতে মোট এলএনজির পরিমাণ হচ্ছে ২ কোটি ৮৮ লাখ এমএমবিটিইউ।
পেট্রোবঙ্গলা সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১টি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৫টি এবং স্পট মার্কেট থেকে ৩টি কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। বাকি চালানগুলো ১৭, ২১, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্টের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে।
এর আগে, গত জুলাই মাসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছিল। এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার অ্যানার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করে।
এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করছে।
উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এলাকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জেরে গুলিতে দুইজন নিহতের ঘটনা নিয়ে করা জোড়া খুনের মামলায় আদালত প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলার অন্যান্য আসামি পারুল এবং ফরহাদকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, বিকেল ৪টার সময় নোয়াখালীর অতিরিক্ত দায়রা জজ-২য় আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলামের মাধ্যমে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মনু মিঝি বাড়িতে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর পরিণতি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী সবুজের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের উপর গুলি চালানো হয়। ঘটনাটি সেতারা বেগম ও খলিলের মৃত্যু ঘটায়। এই ঘটনায় আরো পাঁচজন গুলিবিদ্ধ আহত হন, এবং আহতদের মধ্যে পাঁচজন এখনও অসুস্থ আছেন বলে জানা যায়। ঘটনার পর আবদুস সহিদ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর হল ৪৯৯/১৩। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত বৃহস্পতিবার রায়টি ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি জসিম উদ্দিন বাদল মন্তব্য করেন, প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসমি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে এক ডিজিটাল প্রতারক গ্রেপ্তার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করলেও গ্রেপ্তারকৃত রোহান যাদব মূলত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রোহান যাদবের নেতৃত্বে একদল প্রতারক নিজেদের সিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক বৃদ্ধের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা বৃদ্ধকে জানায় যে, তিনি একটি মামলায় অভিযুক্ত। প্রতারকরা বৃদ্ধকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর হুমকি দেয়। আইনি ব্যবস্থা বাঁচানোর অছিলায় তারা বৃদ্ধকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি ট্রান্সফার করতে বলেছিল।
পরে, প্রতারিত হওয়া বৃদ্ধ পুলিশে যোগাযোগ করেন।
প্রতারকদের ধরতে পুলিশ একটি ফাঁদ পাতে। একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার সময় পুনে পুলিশ একজন অভিযুক্তকে খুঁজে পায়। এরপর তাদের মধ্যে হর্ষদ সুভাষ ধানতোলে, সমর্থ সুরেশ দেশমুখ এবং অমর শিবাজি আত্তারগিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত চলাকালীন, ধানতোলে জানায় যে, সে যাদবকে তুলে নেওয়া টাকাগুলো দিয়েছিল; যে তখন পলাতক ছিল।
মাসতরিড ছিলেন ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা যাদব, যে মোট ৫ হাজার ৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতারণা করা ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি ট্রান্সফার করেছিল। তদন্তে দেখা যায়, সে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে হংকংয়ের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করত এবং প্রায়ই তাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথাবার্তা বলত।
পুলিশ জানিয়েছে, যাদব ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে তার হংকংয়ের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করত এবং ভারত থেকে বিদেশি মুদ্রায় টাকা পাঠানোর জন্য মোটা কমিশন পেত। কর্মকর্তারা জানান, ইনফ্লুয়েন্সার যাদব সেলিব্রেটি ম্যানেজমেন্টের কাজও করত।
রোহান যাদবের বিরুদ্ধে পুনে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তার সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক উৎস বন্ধ করে দেওয়ার পর, সে গ্রেপ্তার এড়াতে শুক্রবার পুনের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এরপর, পুনে সাইবার পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গ্রেপ্তার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটানোর পর নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি হংকং হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। তাঁর দেশে ফেরার খবরের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই এই বিষয়টি অনুসরণ করছেন।
নেপালে ফেরার পর, দেউবা সরাসরি মহারাজগঞ্জে তার ভাড়া করা বাসভবনে উঠবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সচিব ভানু দেউবা। তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার আগে যে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন, দেশে ফিরে সেখানে থেকেই রাত্রি যাপন করবেন।
অবশ্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরের দিকে রওনা হন। এরপর থেকে দেউবা প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে কাটান। তবে তার এই দীর্ঘ বিদেশ অবস্থান এবং চিকিৎসার প্রকৃত পরিস্থিতি কি ছিল, সেই সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
দেউবা কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি সিঙ্গাপুরে যাত্রা করলেও তার স্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা নয়াদিল্লি হয়ে সেখানে পৌঁছান। দেউবা, রানাসহ তাদের ছেলে জয়বীর কখন সিঙ্গাপুর থেকে হংকংয়ের উদ্দেশে গেছেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার, যা ঘটে, দেউবা দেশে ফিরে এলেও তার স্ত্রী আরজু রানা ও ছেলে জয়বীরের বর্তমান অবস্থান সক্রিয়ভাবে জানা যাচ্ছে না। দেউবা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন।
কিন্তু কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন, কিংবা কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এইদিকে, প্রায় পাঁচ মাস বিদেশে যাতায়াত এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় যে তারা বহন করেছেন, সেটিও নিয়ে আলোচনা উঠেছে।
৮০ বছর বয়সী শের বাহাদুর দেউবা, যিনি নেপালের পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। দেশে ফেরার পর তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হয়ে নেপালের জেন-জি আন্দোলন, দ্রুত দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে আন্দোলন বাড়তে থাকলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীকালে বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানোর পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এদিকে একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতিও এলাকার বিশেষজ্ঞ মোস্তফা খোশচেশম দাবি করেন।
তিনি আল-জাজিরাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এমন একটি পথ খুঁজছেন, যা সংঘাতের অবসান ঘটাতে সাহায্য করবে এবং ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে তাকে পরাজয় স্বীকার করতে হবে না।
খোশচেশমের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি তার বিপক্ষে গেলেও ট্রাম্প কখনও নিজেকে পরাজিত হিসেবে উপস্থাপন করেন না। তিনি সংঘাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একটি ‘দরজা’ খুঁজছেন, যা রাজনৈতিকভাবে বিজয় হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “মাঠে যা-ই ঘটুক না কেন, ট্রাম্প কখনও বলবেন না যে, তিনি পরাজিত হয়েছেন।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট চেষ্টা করছেন এমন একটি পথ খুঁজতে, যেটির মাধ্যমে তিনি সংঘাতের সমাপ্তি ঘটিয়ে নিজেকে বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
“তিনি বিজয় দাবি করে বেরিয়ে যাওয়ার একটি দরজা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন; কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়েছেন,” খোশচেশম বলেন।
বিশেষজ্ঞের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিই বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে প্রণালিটি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করছে, সেগুলো মূলত ইরানের নিয়ন্ত্রিত করিডর ব্যবহার করেই পার হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ যাচ্ছে, তারা ইরানের করিডর ব্যবহার করছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এই যুদ্ধে ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন।”
হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই সরু জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।
প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে, শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং বাজারে একটি বিরাট প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালি অন্যতম প্রধান কৌশলগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের জন্যও এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, প্রণালিটির উন্মুক্ত এবং নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্কিত।
এই কারণে, দুই দেশের মধ্যে চাপ অব্যাহত রয়েছে, যা প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজ চলাচলের কেন্দ্র করে।
বড় হামলার আশঙ্কা
খোশচেশমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজলেও অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মার্কিন দূতাবাসগুলোকে ন্যূনতম সক্ষমতায় পরিচালনের নির্দেশ দিয়েছে। তার অভিমত, এটি একটি ইঙ্গিত যে, আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে মার্কিন সরকার ইরানে সম্ভাব্য বড় ধরনের নতুন হামলা সম্পর্কে কোনো পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানায়নি। তাই বিশেষজ্ঞের এই মন্তব্যকে তার নিজস্ব মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
যাহোক, দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা সাধারণত নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের সংকেত দিতে পারে। বিশেষ করে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে।
সংঘাত থামানোর চেষ্টা নাকি নতুন হামলার প্রস্তুতি?
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য রয়েছে। একদিকে সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং অন্যদিকে সামরিক চাপ বজায় রেখে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করা।
খোশচেশমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও এমন কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি, যা প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিকভাবে বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন।
তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব না হওয়া এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় ওয়াশিংটন আরও বড় সামরিক পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপই সংঘাতের গতিপথকে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যদি বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হয়, তবে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে আরও তীব্র করবে না; বরং হরমুজ প্রণালি, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, যদি ট্রাম্প সংঘাতের অবসান ঘটানোর কোনো সমঝোতায় পৌঁছান, তবে তাকে সেটিকে রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করার চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করতে হবে।
এভাবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে একটি বড় প্রশ্ন বিদ্যমান রয়েছে- ওয়াশিংটন কি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসবে, নাকি আরও বড় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়াবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ