প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। নতুন বিমান চলাচল ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ার পরিবর্তে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসসি এ) মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
তিনি জানান, সৌদি আরব সফর শেষে চার সদস্যের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আজ দেশে ফেরার পর রাজধানীর বেবিচক সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নতুন এই ব্যবস্থা আগামী ৫ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে দুই দেশের মধ্যে বিমান ভ্রমণের দীর্ঘদিনের চাপ কমে যাবে। বিশেষ করে হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহন খুব সহজ হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে হজ কার্যক্রম অনেক বেশি নির্বিঘ্ন হবে।’ এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেছেন বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, নতুন ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরব যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যাত্রীকে সরাসরি ফ্লাইটের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ বাংলাদেশি যাত্রী পরোক্ষ রুটে সৌদি আরব যাতায়াত করেন। সরাসরি বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে তাদের ভ্রমণের সময় ও ব্যয় দুটিই কমবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘ফিফথ ফ্রিডম’ ট্রাফিক অধিকারও পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরব হয়ে স্পেনের জারাগোজা ও জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে কার্গো পরিবহন করতে সক্ষম হবে। একইভাবে সৌদি আরব চীনের দু’টি গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের অধিকার পেয়েছে।
মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে পারে। এর মাধ্যমে ইউরোপের বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে পণ্য পরিবহন আরও দক্ষ, সহজ এবং কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, পারস্পরিক কার্গো পরিবহনের এই ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি অর্থনীতিকে সহায়তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও উল্লেখ করা যায়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাপের বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ হলেও বর্তমানে সেখানে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করছেন।
এইচএসআইএর ওপরে চাপ কমাতে এবং বিদ্যমান বিমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম এবং সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো আরো বেশি ব্যবহারের জন্য এয়ারলাইনসগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এটি আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালুর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে হজ কার্যক্রমের জন্য টার্মিনাল-১ এবং টার্মিনাল-২ নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিবছর হজ মৌসুমে যাত্রী ব্যবস্থাপনা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বিমানবন্দরে গোলাবারুদ-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।
এছাড়া বিমানবন্দরে খোলা জায়গায় কার্গো রাখার কারণে বৃষ্টিতে পণ্য ভিজে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি স্বীকার করেন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আরো উন্নতি প্রয়োজন।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, পণ্য সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান করে আমদানিকারকদের সেবা উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য ইতোমধ্যে ১১টি নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন