প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এয়ার ইন্ডিয়া পাইলটদের ডোপ টেস্ট করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা উক্ত এয়ারলাইন্সের কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে করা হয়েছে। চিঠির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে এই ডোপ টেস্ট শুরু করা হবে। এটি সব পাইলটের জন্য বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া হবে।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গত সপ্তাহে ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের সময় ঘটানো তীব্র ঝাঁকুনির কারণে। ওই ফ্লাইটের প্রধান পাইলট, সুদীপ ভাসিস্তা, পরপর দুটি ডোপ টেস্টে অকৃতকার্য হয়েছেন, যেখানে তার রক্তে মারিজুয়ানা সেবনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনারা জানেন যে, এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্বারা নির্ধারিত সকল নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা মেনে চলে, যা ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য প্রধান বিমান চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’
তবে, এয়ার ইন্ডিয়া মনে করে যে, তাদের আরও এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সে অনুযায়ী, তারা প্রতিটি গ্রুপ পাইলটের একটি পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে প্রচলিত নিয়মের আওতায় অনুমোদিত নয় এমন কোনো পদার্থ বা ঔষধের উপস্থিতি চিহ্নিত করা যায়।
এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, গুরুগ্রাম একাডেমিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ফ্লাইট ব্রিফিং সেন্টার এবং অফিসগুলোতে ফ্লাইট-পরবর্তী সময়ে এই পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়েও নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্বের শীর্ষ মান ধরে রাখাই আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এটি মূলত আমাদের যাত্রী, অংশীজন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে আমাদের দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করে।’
এয়ারলাইন্সটি ঘোষণা করেছে যে, ‘কয়েক দশক ধরে এয়ার ইন্ডিয়া ভারতীয় বিমান চলাচলের পতাকাবাহী। এ সময়ে আমাদের পাইলটদের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতি লক্ষ লক্ষ যাত্রী এবং বৃহত্তর সমাজের আস্থা অর্জন করেছে। এই আস্থা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং এটি রক্ষা ও টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা যা কিছু করতে পারি তা করার জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ফুকেট থেকে দিল্লিতে ফেরত আসছিল। এ বিমানে ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু ছিলেন। ওড়িশার আকাশসীমায় মাঝ-আকাশে হঠাৎ বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনি দেয় এবং ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ঘটনার সময় প্রধান পাইলট তার আসনে ছিলেন না। কো-পাইলট দায়িত্বে ছিলেন।
বিমানটি তীব্র গতিতে নিচে নামার ফলে ভেতরে ‘নেগেটিভ গ্র্যাভিটি’ বা ঋণাত্মক মাধ্যাকর্ষণ তৈরি হয়। এর ফলে ককপিটের জিনিসপত্র এবং সিটবেল্ট না বাঁধা যাত্রীরা শূন্যে ভেসে উঠে। এআই২৩৭৯ ফ্লাইটের সেই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু আহত হন।
ফ্লাইটটির দিল্লিতে অবতরণের পর প্রধান পাইলট সুদীপ ভাসিস্তার ডোপ টেস্ট করা হয়। তিনি পরপর দুটি টেস্টেই অকৃতকার্য হয়েছেন। পাইলটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, তিনি মাত্র ২৪ ঘণ্টার যাত্রাবিরতিতে সব ক্রুদের সঙ্গে পার্টিতে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি যাত্রীদের ভিডিও না করার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘তিলকে তাল বানাবেন না।’
দিল্লিতে অবতরণের পর পাইলট সুদীপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর একজন তদন্তকারী তাকে সতর্ক করেন যে, সিসিটিভি-র মাধ্যমে তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এরপরও পাইলটকে বসানোর জন্য সাহায্য করতে হয়েছিল। প্রস্রাবের নমুনা জমা দেওয়ার সময়ও তাকে শারীরিকভাবে সহায়তা করা হয়েছিল। যদিও প্রধান পাইলট মাদক সেবনের কথা অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি ঘুমের জন্য ঔষধ সেবনের কথা স্বীকার করেছেন।
ভারতের এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা যৌথভাবে এয়ারবাসের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্তের সময় পাইলট এবং কো-পাইলটকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন