১২:০৪ পি.এম
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ ও আলোচনা করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান হচ্ছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী। একই সঙ্গে তারা এও জানিয়েছে যে, চীনও এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে, তবে তারা পাকিস্তানের জায়গায় নতুন কোন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে না। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা কমানোর জন্য নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা গ্রহণের সময়ই এ কথা জানায়।
সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব কথা জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করে নতুন আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে عمل করছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন।
গবেষণা অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগে বিভিন্ন প্রস্তাব ও বার্তা আদান-প্রদান করতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া কাতার ও ওমানও আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য
আরব নিউজ জানাচ্ছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের ভূমিকার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সংক্রান্ত আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হলো পাকিস্তান। যদি প্রয়োজন পড়ে, তবে কাতারও সহায়তা করে।’
তিনি আরো বলেন, চীনের সঙ্গে ইরানের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সম্পর্কে বেইজিংও তেহরানের উদ্বেগের সঙ্গে একমত।
বাঘাইয়ের বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘চীনও অন্যান্য দেশের মতো সহযোগিতা করছে। কিন্তু এটাকে নতুন কোনো মধ্যস্থতাকারী যুক্ত হওয়ার ঘটনা বলে মনে করার সুযোগ নেই।’
এর একদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সাইয়্যেদ আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় টেলিফোনে কথা বলেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্ঠা নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সোমবার (৩ আগস্ট) আবারও আরাগচির সঙ্গে ফোনে আলাপ করেন, এমনকি তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন, এর মধ্যে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের অবনতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কেও আলোচনা হয়।
এর আগে, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক আয়োজনের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটি ছিল দুই পক্ষের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ। সেই আলোচনার ভিত্তিতে জুনে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (ইসলামাবাদ এমওইউ) সই হয়। এই সমঝোতাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিয়ে পরবর্তী আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় জুনে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।
ওই বৈঠকে উভয় পক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন, কারিগরি প্রক্রিয়া চালু, হরমুজ প্রণালিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা এবং বিস্তৃত সমঝোতার লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ গ্রহণে সম্মত হয়। তবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত বেড়ে যাওয়ার কারণে এ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নতুন করে চাপে পড়ে এবং এতে ওই রোডম্যাপ ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি
এয়ার মধ্যে গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা বাতিল করেছেন এবং সোমবার থেকে আবারও আলোচনা শুরু হবে। তবে ইরান ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়। ইরান বলছে, তারা এখনো আঞ্চলিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানের পথেই অটল রয়েছে।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে, ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোন আলোচনা হচ্ছে না। আমরা এখন হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নিরাপদ নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন