১২:১৭ পি.এম
একসময় বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রধান উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই সময়কালে চীনের বিনিয়োগ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশে এফডিআইয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মোট এফডিআইয়ের প্রায় ২২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এটি কমে পড়ে মোট এফডিআইয়ের ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ বা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে, চীনের বিনিয়োগ প্রায় সাত গুণ বেড়ে যাওয়ার তথ্য রয়েছে।
সম্প্রতি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক, বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা সংশোধন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ নির্বাহীর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর, দুই দেশের বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের নতুন প্রমাণ দিতে পারে।
আরও পড়ুন: ইশরাকের মতো ত্যাগীদের পদত্যাগ হলে হাইব্রিডরা বিএনপির ক্ষতি করলেও টু শব্দ হয় না: জুমা
বিশ্লেষকগণের মতে, অতীতের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জটিলতা মার্কিন বিনিয়োগের জন্য স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। ওয়ালমার্ট, টার্গেট, গ্যাপ, পিভিএইচ ও ভিএফ করপোরেশনের মতো বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলি বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করলেও শিল্প খাতে মার্কিন সরাসরি বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা, ওষুধ শিল্প, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রদর্শিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়া ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ একটি অংশীদার হতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
এছাড়াও, অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে অর্থায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স করপোরেশনের (ডিএফসি) সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষক জায়েদ বখত মন্তব্য করেছেন যে, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে সহায়ক। তবে অবকাঠামো উন্নয়নে বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) এবং জাইকার মতো বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, এই সুযোগ গ্রহণের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা, বন্দরের সুবিধার উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নির্বিঘ্নে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা সহজ করা, শিল্পের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, দ্রুত জমি বরাদ্দ, বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন