ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুলাউড়ায় যানজট নিরসনে প্রশাসন-পুলিশের যৌথ উচ্ছেদ অভিযান


কুলাউড়ায় যানজট নিরসনে প্রশাসন-পুলিশের যৌথ উচ্ছেদ অভিযান

কুলাউড়া শহরে যানজট সমস্যা সমাধান ও সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশের যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এই অভিযানটি সোমবার (৩১ আগস্ট) কুলাউড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস এবং কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্নাসহ প্রশাসন ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের সময় সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকার কারণে একটি রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোট ১১ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

অভিযান চলাকালীন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাখা অবৈধ স্থাপনা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা না করার জন্য সতর্ক করা হয়। শহরের যানজট নিরসন ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার মন্তব্য করেন, “কুলাউড়া শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় বিশ্বাস বলেন, “সড়ক ও ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। শহরের শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, “শহরে যানজট নিরসন ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে। সড়ক দখল ও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

প্রশাসন ও পুলিশের এই যৌথ অভিযানের ফলে শহরের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত অভিযান ও এর যথাযথ বাস্তবায়ন হলে কুলাউড়া শহরের দীর্ঘদিনের যানজট অনেকটাই কমে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব, নেতানিয়াহুর নিন্দার নেপথ্যে কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব, নেতানিয়াহুর নিন্দার নেপথ্যে কী?

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সমন্বিত ও ধারাবাহিক হামলায় বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। অভিযোগ উঠেছে, এসব হামলার অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতা ছিল না।

এই পরিস্থিতিতে হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই প্রকাশ্য নিন্দার পেছনে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত হিসাব রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ‘উগ্রবাদীর’ অপরাধ হিসেবে এসব হামলাকে উপস্থাপন করে নেতানিয়াহু সরকার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বৃহত্তর কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

কুসরা ও জালুদে হামলা

নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে কয়েক ডজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কাঁদানে গ্যাস ও পাথর ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

একই সময়ে, ইসরায়েলি বাহিনী ফারা শরণার্থী শিবির, আল-বিরেহ ও আল-মুঘাইয়ির এলাকায় অভিযান চালানোর সময় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। হেবরনের পুরোনো শহরে সাংবাদিকদের ওপরও ইসরায়েলি সেনাদের হামলার অভিযোগ রয়েছে।

জালুদ গ্রামে একটি ফিলিস্তিনি পরিবার এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির একটি সংবাদ দলও হামলার শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরারাবেহ এলাকায় মেভো দোতান বসতির কাছে আরও দুই ফিলিস্তিনিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে আল-মুঘাইয়ির এলাকায় ২০ দিনের অবরোধকে তারা ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণের পরিকল্পিত নীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নেতানিয়াহুর নিন্দা, কিন্তু গ্রেফতার কতজন?

হামলার পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুসরা ও জালুদের ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি দায়ী করেন ‘মুষ্টিমেয় দাঙ্গাবাজকে’, যারা আইন লঙ্ঘন করেছে, সামরিক বাহিনীর কাজে বাধা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন।

নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযুক্তদের ‘গ্রেফতার করে বিচারের আওতায়’ আনার আহ্বান জানান।

তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তার বক্তব্যের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুসরা ও জালুদে মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীদের খোলা পিকআপে করে হামলা চালানোর দৃশ্য ভিডিওতে ধরা পড়েছে। এরপরও পশ্চিম তীরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরায়েলি পুলিশের জেলা ইউনিট—মোশে পিঞ্চির নেতৃত্বাধীন—কাউকেই গ্রেফতার করেনি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও ঘটনাগুলোকে ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন।

ইসরায়েলে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি হারজগের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেন, পশ্চিম তীরে বসবাসকারী প্রায় পাঁচ লাখ ইসরায়েলির অধিকাংশই ‘মুষ্টিমেয় দুর্বৃত্তের’ কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এসব হামলাকে ‘উগ্রবাদীদের’ কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা ইসরায়েলের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘নৈতিক কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতাকে তিনি ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই ধারাবাহিক নিন্দা নিছক নৈতিক অবস্থান নয়; এর পেছনে রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে।

লেখক ও বিশ্লেষক এবং ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক এহাব জাবারিনের মতে, নেতানিয়াহু ‘রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার একটি অস্ত্রোপচারমূলক প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো বৃহত্তর বসতি প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক নজরদারি ও সমালোচনা থেকে রক্ষা করা।

তার ভাষায়, সরকার এমন একটি রাজনৈতিক সমীকরণ দাঁড় করাতে চাইছে যেখানে পশ্চিম তীরে বসবাসকারী প্রায় পাঁচ লাখ বসতি স্থাপনকারীকে বৈধ হিসেবে দেখানো হবে এবং সহিংসতায় জড়িত কয়েক ডজন মানুষকে ‘ব্যতিক্রম’ বা ‘বিচ্যুত’ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

জাবারিনের মতে, সবচেয়ে প্রকাশ্য ও চরম কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার—অথবা শাস্তি দেওয়ার ধারণা তৈরি করার—মাধ্যমে পুরো বসতি স্থাপনব্যবস্থাকে রক্ষা করাই এই কৌশলের লক্ষ্য।

অর্থাৎ, সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখিয়ে বৃহত্তর বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পের সঙ্গে এর সম্পর্ককে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তার দাবি।

ফিলিস্তিনি বিদ্রোহের আশঙ্কা?

আরেকটি ব্যাখ্যা হলো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের লাগামহীন সহিংসতা বড় ধরনের ফিলিস্তিনি গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যেও।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথের সাম্প্রতিক কয়েকটি রুদ্ধদ্বার নিরাপত্তা মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, ‘জাতীয়তাবাদী অপরাধ’ বা এ ধরনের হামলা ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে বড় ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

জাবারিনের মতে, সেনাবাহিনী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘লাভ-ক্ষতির হিসাবের ভাষায়’ কথা বলে।

তার যুক্তি, কয়েক ডজন বসতি স্থাপনকারীর হামলা ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে হতে পারে। ফলে নেতানিয়াহু এসব কর্মকাণ্ডকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা হিসেবে অগ্রহণযোগ্য বলার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে—এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন।

রাষ্ট্র বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি

ইসরায়েলি রাজনীতি বিশ্লেষক মামুন আবু আমের অবশ্য মনে করেন, বসতি স্থাপনকারীদের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

তার মতে, এসব হামলার সময় ইসরায়েলি সেনারা নিয়মিতভাবে বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা দেয়। অন্যদিকে, নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করা ফিলিস্তিনিদের কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হয়।

আবু আমেরের দাবি, ‘সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সুরক্ষা ছাড়া’ বসতি স্থাপনকারীরা এত বড় ধরনের হামলা চালানোর সাহস পেত না।

তিনি এমন ঘটনাও তুলে ধরেন, যেখানে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার কারণে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই সময়ে দ্রুত বাড়ছে বসতি সম্প্রসারণ

শীর্ষ ইসরায়েলি নেতারা পৃথক হামলার দায় থেকে নিজেদের দূরে রাখলেও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের উপস্থিতি বাড়াতে সরকার পরিকল্পিতভাবে অর্থায়ন, অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে—এমন দাবি করেছেন সমালোচকেরা।

ইসরায়েলি সংগঠন পিস নাওয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির পর থেকে পরবর্তী সরকারগুলো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

প্রায় ৩০ বছর আগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১ লাখ ১০ হাজার এবং পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার।

বর্তমানে পশ্চিম তীরে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার এবং পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান ডানপন্থী সরকার এই সম্প্রসারণকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলে সমালোচকদের দাবি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এক বছরেই পশ্চিম তীরে ৫৪টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি সরকার। ২০২৪ সালে যেখানে এমন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল পাঁচটির জন্য। একই সময়ে ৮৬টি নতুন আউটপোস্ট বা অনানুষ্ঠানিক বসতি গড়ে উঠেছে এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ৬৩ হাজার ৩১১টি আবাসন ইউনিটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বসতি সম্প্রসারণে বিপ্লব

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, যিনি পশ্চিম তীরের প্রশাসনিক বিষয়ে ব্যাপক ক্ষমতা রাখেন, সম্প্রতি বসতি সম্প্রসারণে ‘বিপ্লব’ আনার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যেই বসতি নির্মাণকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানোর সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

সরকার সম্প্রতি ২৭১ বিলিয়ন ডলারের একটি রেকর্ড জাতীয় বাজেট অনুমোদন করেছে। সমালোচকদের দাবি, এর একটি অংশ আইনগত কাঠামো এড়িয়ে বসতি স্থাপন ও জাতীয় মিশনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ কোটি ইসরায়েলি শেকেল—প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার—অবৈধ আউটপোস্টকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এই অবকাঠামোগত বিনিয়োগের মধ্যে কৌশলগত ই১ বসতি প্রকল্পও রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হতে পারে বলে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মালে আদুমিম বসতিকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করতে ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন নির্মাণের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বৃহত্তর পরিকল্পনায় মোট ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক নিন্দা, বাস্তব পদক্ষেপের ঘাটতি

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দফতর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে। চলতি বছরই এমন ১ হাজার ৫৪০টির বেশি হামলার নথি পাওয়া গেছে, যেগুলোতে ফিলিস্তিনিরা হতাহত হয়েছেন অথবা তাদের সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।

ওসিএইচএ বলেছে, মাসিক গড় হামলার সংখ্যা আগের যেকোনও বছরের তুলনায় এখন বেশি।

বসতি স্থাপন ও ভূমি দখল নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়লেও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া মূলত নিন্দা বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে সমালোচকদের দাবি।

ইউরোপীয় দেশগুলো এবং অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) সাম্প্রতিক বসতি অনুমোদন, বিশেষ করে ই১ প্রকল্পের নিন্দা জানিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নিন্দার সঙ্গে কার্যকর অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপের সামঞ্জস্য নেই।

আবু আমেরের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি; বরং অল্প কয়েকজন বসতি স্থাপনকারীর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্যেই তাদের পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ থেকেছে।

তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিবৃতিতে ই১ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ইসরায়েলের সমালোচনা করা হলেও তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়নি।

বৃহত্তর প্রশ্ন: নিন্দা নাকি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত?

সাম্প্রতিক সহিংসতার পর ইসরায়েলি নেতৃত্বের প্রকাশ্য নিন্দা আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল কি না—এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া যে অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে কিছু বসতি স্থাপনকারীর সহিংসতাকে রাষ্ট্রীয় নীতি থেকে আলাদা করে দেখানোর মাধ্যমে ইসরায়েল সরকার বৃহত্তর বসতি প্রকল্পের দায় এড়িয়ে যেতে চাইছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার বলছে, আইন ভঙ্গকারী উগ্রপন্থীদের কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শুধু স্থানীয় পর্যায়ের সহিংসতা নয়, বৃহত্তর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বা গণঅভ্যুত্থানের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। সূত্র:

আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নগরীর প্রত্যেকের বাড়ি-ঘরের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে: কেসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


নগরীর প্রত্যেকের বাড়ি-ঘরের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে: কেসিসি প্রশাসক

খুলনা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মন্তব্য করেছেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সড়ক ও ড্রেনের পাশাপাশি প্রত্যেকের বাড়ি-ঘরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা আবশ্যক। ঝোপঝাড় ও বদ্ধ পানি অপসারণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে তিন মাস আগে থেকেই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে, ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাসে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

আজ সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা পিডব্লিউডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বন্ধুমহল ও পরিবারের মধ্যে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যাম্পাস পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের অনুরোধ করেন।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা গড়ে উঠলে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ হ্রাস পাবে।

পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডেঙ্গু বিষয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন তিনি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. লিয়াকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, কঞ্জারভেন্সি অফিসার মো. অহিদুজ্জামান খান, সমাজসেবক আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর রাবেয়া ফাহিদ হাসনাহেনাসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘প্রধানমন্ত্রী হবেন বিজয়’, টিভিকের প্রচারে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস-ডিএমকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ পি.এম


‘প্রধানমন্ত্রী হবেন বিজয়’, টিভিকের প্রচারে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস-ডিএমকে

প্রধানমন্ত্রী হবেন বিজয়, টিভিকের প্রচারে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস-ডিএমকে

 

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধী নন, বরং প্রধানমন্ত্রী পদে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার প্রচারণা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের জরিপ এবং তামিলনাড়ুর শাসক দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) নেতাদের এই প্রচার ভারতের জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে জোটের প্রধান শরিক দল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল ডিএমকে (ডিএমকে) ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

 

জোটসঙ্গী কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাহুল গান্ধীকে সমর্থন না করলে, তাদের দলের দুই মন্ত্রী অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন। অভিনেতা থেকে নেতা হয়ে ওঠা বিজয়কে ‘আকাশকুসুম’ স্বপ্ন দেখার বিষয়টি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ডিএমকেও কটাক্ষ করেছে।

 

জরিপ চালানো হয়, যেখানে নরেন্দ্র মোদি, রাহুল গান্ধীর পর বিজয়ের নাম উঠে আসে।

 

যদিও বিজয়ের ক্ষেত্রে ভোটের সংখ্যা প্রথম দু’জনের তুলনায় অনেক কম। এরপর টিভিকে নেতাদের একটি অংশও মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। দলের নেতা আঢভ অর্জুন ও শরৎকুমার প্রকাশ্যে প্রস্তাব করেছেন, বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবা হোক। এই বিষয়ে তামিলনাড়ুতে পোস্টারও দেখা গেছে।

 

এতে কংগ্রেসের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জোটসঙ্গী কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী রাজেশকুমার স্পষ্ট করেছেন, ২০২৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাহুল গান্ধীকে সমর্থন না করলে বিজয়ের মন্ত্রিসভায় থাকা দলের দুই মন্ত্রী আর ওই পদে থাকবেন না।

তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে স্পষ্ট। ২০২৯ সালে আমাদের নেতা রাহুল গান্ধীই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। যদি কোনো কারণে টিভিকে এতে সম্মত না হয়, তবে কংগ্রেসের দুই মন্ত্রী পদ ছাড়বেন।

 

এখন প্রশ্ন হলো, টিভিকে কি কেবল পরিস্থিতি যাচাই করছে, নাকি তামিলনাড়ুর গণ্ডি পেরিয়ে বিজয়কে জাতীয় রাজনীতিতে তুলে ধরার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিজয়কে নিয়ে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তা কি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে, নাকি এর লক্ষ্য পরবর্তী কোনও জাতীয় নির্বাচন। যদিও গোটা বিষয়টিতে মুখে কুলুপ এঁটেছেন খোদ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে ডিএমকে নেত্রী আরএস ভারতী টিভিকের বাগাড়ম্বরকে উপহাস করে বলেছেন, তাদের কল্পনার কোনও সীমা নেই। দলের সদস্যরা এরপর হয়তো বলবে, তিনি (বিজয়) রাষ্ট্রসংঘের প্রধান হতে চলেছেন। তাদের কল্পনার কোনো সীমা নেই বলে যোগ করেন এই ডিএমকে নেত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাওরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে বাকৃবির ২২ গবেষণা, উপকৃত ৯০৪ কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


হাওরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে বাকৃবির ২২ গবেষণা, উপকৃত ৯০৪ কৃষক

হাওরাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবিকার বিভিন্ন সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) উদ্যোগে একটি তিন বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওরবেষ্টিত সাত জেলায় ২২টি উপ-প্রকল্প পরিচালনা করা হয়েছে। সিটি ব্যাংক প্রকল্পটির জন্য চার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে এবং গবেষণার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন ৯০৪ জন কৃষক।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ফাইনাল রিভিউ ওয়ার্কশপ অব সিটি ব্যাংক’স এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইন দ্য অ্যাগ্রো-ইকোলজিক্যাল রিজিয়ন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাউরেসের সাবেক সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাভিদুল হক ভূঁঞা।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাউরেসের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, হাওরাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকার বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় হাওরবেষ্টিত সাত জেলায় ২২টি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রকল্পের কার্যক্রমে বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং চারজন পিএইচডি ফেলো অংশগ্রহণ করেছেন। গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রকল্পের আওতায় ২১টি কর্মশালা ও ১৩টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। উপ-প্রকল্পগুলোর গবেষণালব্ধ ফলাফল হিসেবে নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের সফলতা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান বলেন, সিটি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি গবেষণায় অর্থায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে গেছে। এর ফলে কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প-শিক্ষা-সরকারের মধ্যে সমন্বয়, আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়, কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম তৈরি, বাজার সংযোগ জোরদার এবং গবেষণার ফলাফল, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশিক্ষণসামগ্রী সংরক্ষণের জন্য ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডার গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

কর্মশালায় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশের হাওরাঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে এত বড় অর্থায়ন করার জন্য সিটি ব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই। গবেষকদের অনুরোধ জানাই, এই ২২টি গবেষণা থেকে জনসাধারণের জন্য সমস্যাভিত্তিক সমাধানগুলো পত্রিকার লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে। গবেষণা সহজ কাজ নয়। তবে বাকৃবির গ্রাজুয়েটরা তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। খামারির কান্নাকে হাসিতে পরিণত করার জন্য সেই মানসিকতা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের তৈরি করি।

দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ২২টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা। পরে গবেষকদের মধ্যে স্মারক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%