০৬:৫০ পি.এম
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সমন্বিত ও ধারাবাহিক হামলায় বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। অভিযোগ উঠেছে, এসব হামলার অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতা ছিল না।
এই পরিস্থিতিতে হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই প্রকাশ্য নিন্দার পেছনে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত হিসাব রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ‘উগ্রবাদীর’ অপরাধ হিসেবে এসব হামলাকে উপস্থাপন করে নেতানিয়াহু সরকার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বৃহত্তর কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
কুসরা ও জালুদে হামলা
নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে কয়েক ডজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কাঁদানে গ্যাস ও পাথর ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
একই সময়ে, ইসরায়েলি বাহিনী ফারা শরণার্থী শিবির, আল-বিরেহ ও আল-মুঘাইয়ির এলাকায় অভিযান চালানোর সময় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। হেবরনের পুরোনো শহরে সাংবাদিকদের ওপরও ইসরায়েলি সেনাদের হামলার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
জালুদ গ্রামে একটি ফিলিস্তিনি পরিবার এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির একটি সংবাদ দলও হামলার শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরারাবেহ এলাকায় মেভো দোতান বসতির কাছে আরও দুই ফিলিস্তিনিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে আল-মুঘাইয়ির এলাকায় ২০ দিনের অবরোধকে তারা ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণের পরিকল্পিত নীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নেতানিয়াহুর নিন্দা, কিন্তু গ্রেফতার কতজন?
হামলার পর ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুসরা ও জালুদের ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি দায়ী করেন ‘মুষ্টিমেয় দাঙ্গাবাজকে’, যারা আইন লঙ্ঘন করেছে, সামরিক বাহিনীর কাজে বাধা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযুক্তদের ‘গ্রেফতার করে বিচারের আওতায়’ আনার আহ্বান জানান।
তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তার বক্তব্যের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুসরা ও জালুদে মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীদের খোলা পিকআপে করে হামলা চালানোর দৃশ্য ভিডিওতে ধরা পড়েছে। এরপরও পশ্চিম তীরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরায়েলি পুলিশের জেলা ইউনিট—মোশে পিঞ্চির নেতৃত্বাধীন—কাউকেই গ্রেফতার করেনি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগও ঘটনাগুলোকে ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন।
ইসরায়েলে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি হারজগের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেন, পশ্চিম তীরে বসবাসকারী প্রায় পাঁচ লাখ ইসরায়েলির অধিকাংশই ‘মুষ্টিমেয় দুর্বৃত্তের’ কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এসব হামলাকে ‘উগ্রবাদীদের’ কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা ইসরায়েলের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘নৈতিক কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতাকে তিনি ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই ধারাবাহিক নিন্দা নিছক নৈতিক অবস্থান নয়; এর পেছনে রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে।
লেখক ও বিশ্লেষক এবং ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক এহাব জাবারিনের মতে, নেতানিয়াহু ‘রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার একটি অস্ত্রোপচারমূলক প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো বৃহত্তর বসতি প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক নজরদারি ও সমালোচনা থেকে রক্ষা করা।
তার ভাষায়, সরকার এমন একটি রাজনৈতিক সমীকরণ দাঁড় করাতে চাইছে যেখানে পশ্চিম তীরে বসবাসকারী প্রায় পাঁচ লাখ বসতি স্থাপনকারীকে বৈধ হিসেবে দেখানো হবে এবং সহিংসতায় জড়িত কয়েক ডজন মানুষকে ‘ব্যতিক্রম’ বা ‘বিচ্যুত’ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
জাবারিনের মতে, সবচেয়ে প্রকাশ্য ও চরম কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার—অথবা শাস্তি দেওয়ার ধারণা তৈরি করার—মাধ্যমে পুরো বসতি স্থাপনব্যবস্থাকে রক্ষা করাই এই কৌশলের লক্ষ্য।
অর্থাৎ, সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখিয়ে বৃহত্তর বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পের সঙ্গে এর সম্পর্ককে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তার দাবি।
ফিলিস্তিনি বিদ্রোহের আশঙ্কা?
আরেকটি ব্যাখ্যা হলো নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের লাগামহীন সহিংসতা বড় ধরনের ফিলিস্তিনি গণঅভ্যুত্থানের সূত্রপাত করতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যেও।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথের সাম্প্রতিক কয়েকটি রুদ্ধদ্বার নিরাপত্তা মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, ‘জাতীয়তাবাদী অপরাধ’ বা এ ধরনের হামলা ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে বড় ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
জাবারিনের মতে, সেনাবাহিনী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘লাভ-ক্ষতির হিসাবের ভাষায়’ কথা বলে।
তার যুক্তি, কয়েক ডজন বসতি স্থাপনকারীর হামলা ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে হতে পারে। ফলে নেতানিয়াহু এসব কর্মকাণ্ডকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা হিসেবে অগ্রহণযোগ্য বলার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে—এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন।
রাষ্ট্র বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি
ইসরায়েলি রাজনীতি বিশ্লেষক মামুন আবু আমের অবশ্য মনে করেন, বসতি স্থাপনকারীদের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তার মতে, এসব হামলার সময় ইসরায়েলি সেনারা নিয়মিতভাবে বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা দেয়। অন্যদিকে, নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করা ফিলিস্তিনিদের কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হয়।
আবু আমেরের দাবি, ‘সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সুরক্ষা ছাড়া’ বসতি স্থাপনকারীরা এত বড় ধরনের হামলা চালানোর সাহস পেত না।
তিনি এমন ঘটনাও তুলে ধরেন, যেখানে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার কারণে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই সময়ে দ্রুত বাড়ছে বসতি সম্প্রসারণ
শীর্ষ ইসরায়েলি নেতারা পৃথক হামলার দায় থেকে নিজেদের দূরে রাখলেও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের উপস্থিতি বাড়াতে সরকার পরিকল্পিতভাবে অর্থায়ন, অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে—এমন দাবি করেছেন সমালোচকেরা।
ইসরায়েলি সংগঠন পিস নাওয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির পর থেকে পরবর্তী সরকারগুলো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
প্রায় ৩০ বছর আগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১ লাখ ১০ হাজার এবং পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার।
বর্তমানে পশ্চিম তীরে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার এবং পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান ডানপন্থী সরকার এই সম্প্রসারণকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলে সমালোচকদের দাবি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এক বছরেই পশ্চিম তীরে ৫৪টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি সরকার। ২০২৪ সালে যেখানে এমন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল পাঁচটির জন্য। একই সময়ে ৮৬টি নতুন আউটপোস্ট বা অনানুষ্ঠানিক বসতি গড়ে উঠেছে এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ৬৩ হাজার ৩১১টি আবাসন ইউনিটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বসতি সম্প্রসারণে বিপ্লব
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ, যিনি পশ্চিম তীরের প্রশাসনিক বিষয়ে ব্যাপক ক্ষমতা রাখেন, সম্প্রতি বসতি সম্প্রসারণে ‘বিপ্লব’ আনার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যেই বসতি নির্মাণকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানোর সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
সরকার সম্প্রতি ২৭১ বিলিয়ন ডলারের একটি রেকর্ড জাতীয় বাজেট অনুমোদন করেছে। সমালোচকদের দাবি, এর একটি অংশ আইনগত কাঠামো এড়িয়ে বসতি স্থাপন ও জাতীয় মিশনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ কোটি ইসরায়েলি শেকেল—প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার—অবৈধ আউটপোস্টকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এই অবকাঠামোগত বিনিয়োগের মধ্যে কৌশলগত ই১ বসতি প্রকল্পও রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরে কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হতে পারে বলে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন।
এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মালে আদুমিম বসতিকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করতে ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন নির্মাণের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বৃহত্তর পরিকল্পনায় মোট ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিন্দা, বাস্তব পদক্ষেপের ঘাটতি
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দফতর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে। চলতি বছরই এমন ১ হাজার ৫৪০টির বেশি হামলার নথি পাওয়া গেছে, যেগুলোতে ফিলিস্তিনিরা হতাহত হয়েছেন অথবা তাদের সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।
ওসিএইচএ বলেছে, মাসিক গড় হামলার সংখ্যা আগের যেকোনও বছরের তুলনায় এখন বেশি।
বসতি স্থাপন ও ভূমি দখল নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়লেও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া মূলত নিন্দা বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে সমালোচকদের দাবি।
ইউরোপীয় দেশগুলো এবং অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) সাম্প্রতিক বসতি অনুমোদন, বিশেষ করে ই১ প্রকল্পের নিন্দা জানিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নিন্দার সঙ্গে কার্যকর অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপের সামঞ্জস্য নেই।
আবু আমেরের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি; বরং অল্প কয়েকজন বসতি স্থাপনকারীর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্যেই তাদের পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ থেকেছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিবৃতিতে ই১ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ইসরায়েলের সমালোচনা করা হলেও তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়নি।
বৃহত্তর প্রশ্ন: নিন্দা নাকি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত?
সাম্প্রতিক সহিংসতার পর ইসরায়েলি নেতৃত্বের প্রকাশ্য নিন্দা আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল কি না—এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া যে অব্যাহত রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে কিছু বসতি স্থাপনকারীর সহিংসতাকে রাষ্ট্রীয় নীতি থেকে আলাদা করে দেখানোর মাধ্যমে ইসরায়েল সরকার বৃহত্তর বসতি প্রকল্পের দায় এড়িয়ে যেতে চাইছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার বলছে, আইন ভঙ্গকারী উগ্রপন্থীদের কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শুধু স্থানীয় পর্যায়ের সহিংসতা নয়, বৃহত্তর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বা গণঅভ্যুত্থানের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন