০৭:০০ পি.এম
হাওরাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবিকার বিভিন্ন সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) উদ্যোগে একটি তিন বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওরবেষ্টিত সাত জেলায় ২২টি উপ-প্রকল্প পরিচালনা করা হয়েছে। সিটি ব্যাংক প্রকল্পটির জন্য চার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে এবং গবেষণার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন ৯০৪ জন কৃষক।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ফাইনাল রিভিউ ওয়ার্কশপ অব সিটি ব্যাংক’স এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইন দ্য অ্যাগ্রো-ইকোলজিক্যাল রিজিয়ন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাউরেসের সাবেক সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাভিদুল হক ভূঁঞা।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাউরেসের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, হাওরাঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকার বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় হাওরবেষ্টিত সাত জেলায় ২২টি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রকল্পের কার্যক্রমে বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং চারজন পিএইচডি ফেলো অংশগ্রহণ করেছেন। গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রকল্পের আওতায় ২১টি কর্মশালা ও ১৩টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। উপ-প্রকল্পগুলোর গবেষণালব্ধ ফলাফল হিসেবে নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্পের সফলতা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান বলেন, সিটি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি গবেষণায় অর্থায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে গেছে। এর ফলে কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প-শিক্ষা-সরকারের মধ্যে সমন্বয়, আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়, কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম তৈরি, বাজার সংযোগ জোরদার এবং গবেষণার ফলাফল, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশিক্ষণসামগ্রী সংরক্ষণের জন্য ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডার গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
কর্মশালায় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশের হাওরাঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে এত বড় অর্থায়ন করার জন্য সিটি ব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই। গবেষকদের অনুরোধ জানাই, এই ২২টি গবেষণা থেকে জনসাধারণের জন্য সমস্যাভিত্তিক সমাধানগুলো পত্রিকার লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে। গবেষণা সহজ কাজ নয়। তবে বাকৃবির গ্রাজুয়েটরা তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। খামারির কান্নাকে হাসিতে পরিণত করার জন্য সেই মানসিকতা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের তৈরি করি।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ২২টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা। পরে গবেষকদের মধ্যে স্মারক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন