বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২৮ পি.এম
জামায়াত আসলে মুখে মুখে গণহত্যার বিচারের কথা বললেও, তাদের রাজনীতি ছিল বিএনপিকে ট্যাগিং করা। আজ কিছুটা প্রশান্তি অনুভব হচ্ছে যে জামায়াতের মিথ্যাচার পরাজিত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন।
আরো পড়ুন
রাশেদ খান মনোনয়ন এবং নির্বাচনী কর্মশালা প্রত্যাখ্যান করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপি মিথ্যা ন্যারেটিভ ছড়িয়ে দিয়েছিল যে বিএনপি সরকার গণহত্যার বিচার করবে না! কিন্তু ওবায়দুল কাদেরসহ খুনিদের ফাঁসির রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, বিএনপি সরকার অপরাধীদের বিচারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘যেখানে গণহত্যার বিচারে জামায়াতের সহযোগিতা কাম্য ছিল, সেখানে উল্টো আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান। শুধু ভোটের রাজনীতির জন্য খুনিদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে গণহত্যার বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল জামায়াত।’
আরো পড়ুন
রাশেদ খান বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামাসহ পুরো প্রসিকিউশন টিমকে, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার মাধ্যমে খুনিদের বিরুদ্ধে রায় প্রদানে সহযোগিতা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘পরিশেষে আমি জামায়াতকে বলব, ১৯ সেপ্টেম্বরের লং মার্চ থেকে এত দিন গণহত্যার বিচার নিয়ে বিএনপি সরকারকে মিথ্যা ট্যাগিং করার জন্য জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করুন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩, ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮।
ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ উল্লেখ করা হলো—
জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৭ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু হবে ৪টা ১৮ মিনিটে।
মাগরিবের সময় নির্ধারিত হয়েছে ৬টা ৫ মিনিটে।
এশার সময় শুরু হবে ৭টা ১৯ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৩৩ মিনিটে
আজ ঢাকায় সূর্যাস্তের সময় ৬টা ৬ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয়ের সময় ৫টা ৪৪ মিনিটে হবে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
হাজির করা ১১ আসামির মধ্যে জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক ও ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপা উপস্থিত আছেন।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের তদন্তে শাপলা চত্বরসহ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ৬১ জন নিহতের একটি তালিকা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে; এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ আরও কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিপীড়নের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি; ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর প্রমাণ ও আসামিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হবে।
মামলার ৪১ আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ আরও বেশ কয়েকজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের আদালতে হাজির করতে এর আগে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইন অনুযায়ী তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ট্রাইব্যুনাল নির্দেশনা দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গ্ল্যামার জগত থেকে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে এসেছেন উমাঙ্গা কুমাবত। মিস ইউনিভার্সের উজ্জ্বল মঞ্চের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বর্তমানে গুগলের ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তার দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করছেন।
২৩ আগস্ট ভারতের জয়পুরে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর ফাইনালে উমাঙ্গা মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ৫২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি সেরা ২০-এ স্থান করে নেন। উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রতিযোগিতায় কেরালার কাজিয়া লিজ মেহিয়া বিজয়ী হয়ে জাতীয় খেতাব অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতা শেষে উমাঙ্গা সম্প্রতি গুগলের বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাস থেকে এক মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি প্রতিযোগিতার পর তার সাধারণ কর্মদিবসের একটি ঝলক তুলে ধরেছেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ল্যাপটপ, ব্যাকপ্যাক ও ইয়ারবাড নিয়ে গুগলের অফিসের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। অফিসে পৌঁছানোর পর কাজ শুরুর আগে তিনি অফিসের ওয়েলনেস সেন্টারে যান। সেখানে ট্রেডমিলে হাঁটার পাশাপাশি স্ট্রেচিং ও ব্যায়াম করেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ডেস্কে ফিরে ল্যাপটপে কাজ ও নথি পর্যালোচনা শুরু করেন। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ক্যাফেটেরিয়ায় লাঞ্চ করেন। বিরিয়ানি ও ডেজার্টের বিকল্প থাকলেও তিনি স্বাস্থ্যকর নুডলস স্যুপ বেছে নেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কফি বিরতি শেষে দিনের কাজ সম্পন্ন করেন।
লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, উমাঙ্গা কুমাবত গুগলে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। তার ক্লাউড প্রযুক্তি, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট এবং জেনারেটিভ এআই নিয়ে কাজ করার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে।
এনসিটিবি জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এই নিবন্ধটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্মৃতি হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের উদ্যোগ হল, যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরার জন্য।’
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ও কালুরঘাটের স্বাধীনতার ঘোষণার চাক্ষুষ স্মৃতি নির্মোহভাবে শিখতে পারবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হবে।
বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধে ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, ‘এই নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তুর্যধ্বনির মতো’।
এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রবন্ধের মূলকথায় যা আছে-
মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল— সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো... ২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো। যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’
চট্টগ্রামে পাক বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন ও ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন— ‘১ মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে... ১৩ মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন... এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস... দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সে রাতটি। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌ-বাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য...’
নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লিখেছেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল... ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চস্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’
জিয়াউর রহমান লিখেছেন- ‘ষোলশহরে এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে... ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’
পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লিখেছেন— ‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সঙ্গে যোগ দিল... ২৬ মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’
কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘দিনটি ছিল ২৭ মার্চ... সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম— স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়... বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনলো: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ২৭ মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ