কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০৯:১৮ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নৌযান শ্রমিক কর্মচারী দলের ঢাকা বিভাগীয় কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার কৃতি সন্তান মো. বেলায়েত হোসেন মাস্টার। সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নৌযান শ্রমিক দলের সভাপতি মো. সুমন ভুঁইয়া।
বেলায়েত হোসেন মাস্টার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সাতবাড়িয়া-পানাইল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নৌযান শ্রমিকদের অধিকার আদায়, কল্যাণ ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, তার অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় ঢাকা বিভাগীয় কমিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন শক্তিশালী হবে।
বেলায়েত হোসেন মাস্টার বলেন, অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করে নৌযান শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাব। একই সঙ্গে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তাকে ঢাকা বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নৌযান শ্রমিক দলের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বেলায়েত হোসেন মাস্টার।
তার এ পদপ্রাপ্তিতে টগরবন্দ ইউনিয়নসহ আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এটিকে আলফাডাঙ্গার জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন এবং তার নতুন দায়িত্বে সফলতা কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের একটি জনবহুল বিপণিবিতানে ভয়াবহ ড্রোন হামলার পর, কিয়েভের পাল্টা আঘাতে প্রাণ হারাল দুই নিষ্পাপ রুশ শিশু।
শনিবার ভোরে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ইয়েস্ক জেলায় একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আছড়ে পড়ে। ওই এলাকার আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন, এই হামলায় ঘুমন্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং তাদের বাবা-মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের একটি বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুদামেও আক্রমণ করা হয়েছে। এর বাইরে সামারা অঞ্চলে ড্রোনের আঘাতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
এর আগের দিন ইউক্রেনের ক্রাইভি রিগ শহরের একটি শপিং মলে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রথম আঘাতের আধা ঘণ্টা পর উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার হামলা করা হয়। এছাড়া কিয়েভ ও ফ্রন্টলাইনের কাছে রাতের হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি যুদ্ধের শুরুর সময়ের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতিতে আকাশপথে সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে কিয়েভ। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মিত্র দেশগুলোর নেতারাও দ্রুত একটি বিশেষ বৈঠকে বসছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামাঞ্চলে দিন দিন কমে যাচ্ছে খেলার মাঠ। পর্যাপ্ত মাঠ ও খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তরুণ ও যুবসমাজের ওপর। মাদক ও মোবাইল আসক্তিসহ নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের বিকল্প নেই—এমন প্রত্যাশা থেকেই মাদারীপুরের কালকিনিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হাওলাদার কাপ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট’।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শিকারমঙ্গল ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় ‘টিম বন্ড’ ও ‘টিম ডেমনস’। খেলা শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও স্থানীয় শিক্ষকরা।
বক্তারা খেলোয়াড়দের খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খেলাধুলায় হার-জিত থাকবেই। তবে প্রতিযোগিতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সহযোগিতা। বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি বড় অংশ যখন মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তখন খেলাধুলা তাদের সুস্থ ও ইতিবাচক জীবনধারায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
টুর্নামেন্ট আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি এর পৃষ্ঠপোষক দুবাইপ্রবাসী ও ব্যবসায়ী মিরাজ হাওলাদারকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান আয়োজকরা।
এদিকে, খেলা শুরুর আগে স্থানীয় খেলোয়াড় ও তরুণরা তাদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, শিকারমঙ্গল ইউনিয়নে উপযুক্ত ও স্থায়ী কোনো খেলার মাঠ নেই। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক তরুণ নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় খেলোয়াড়দের ভাষ্য, একটি সুস্থ ও সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে তরুণদের মধ্যে মাদক ও মোবাইল ফোনের আসক্তি বাড়ছে। তাদের এসব আসক্তি থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এ জন্য ইউনিয়নে একটি বড় ও উপযুক্ত খেলার মাঠ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।
সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ‘হাওলাদার কাপ’ ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে শিকারমঙ্গল ইউনিয়নে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে মাঠে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক। তরুণদের অংশগ্রহণ ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, শুধু একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেই হবে না; তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ। আর সে জন্য একটি স্থায়ী ও মানসম্মত খেলার মাঠ এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয় তরুণদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে একটি উপযুক্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা করবে—যেখানে নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে উঠবে সুস্থ, মাদকমুক্ত ও প্রাণবন্ত যুবসমাজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), ২২ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সিনেট সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, ‘জুলাইয়ে এখানকার সবাই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিল। বর্তমান বাংলাদেশকে যদি আমরা আসলেই দাঁড় করাতে চাই, তাহলে আমাদের চেতনায়, কর্মে, চিন্তায় নিজেদেরকে নতুনভাবে তৈরি করতে হবে। জুলাইয়ের পরে আমরা আর সেই পুরোনো ঘৃণা, সংঘাত, সেই পুরোনো রাজনীতি চাই না।’
আজ দুপুরে চবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘বার্ষিক লেখক সম্মাননা ও আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সাঈদ আল নোমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিপ্লব দরকার। লক্ষ্য ছাড়া কিছুই অর্জন করা যায় না। তেমনি লেখকদের মধ্যে জাতি গঠনের লক্ষ্য থাকতে হয়। আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন মেধার ভিত্তিতে সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।’
চবি লেখক ফোরামের সভাপতি আই এইচ ইমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘ আমরা চাই তরুণ লেখকরা সমাজের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সমাজের সামনে তুলে ধরুক।’
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল।
তিনি বলেন, ‘লেখা মনের অন্ধকার জগৎকে আলোকিত করে। তবে, আপনি যদি প্রচুর না পড়েন, একজন ভালো শ্রোতা বা পাঠক না হোন, তাহলে আপনি লিখতে পারবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ লিখতে গিয়ে আপনার অনেক ভুল হবে। এটা নিয়ে মন খারাপ করবেন না। দেখবেন, এই ভুল লেখাটিই একসময় আপনার সবচেয়ে মূল্যবান লেখায় পরিণত হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আর রাজী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে চবি লেখক ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বর্ষসেরা লেখক ও সংগঠক এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রায় চার-পাঁচ শত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তিনি ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে ‘সবচেয়ে অনৈতিক সেনাবাহিনী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের হত্যা, ধ্বংস ও বঞ্চনা অব্যাহত রয়েছে।
আজ শনিবার (২২ আগস্ট) তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘সবচেয়ে অনৈতিক সেনাবাহিনী আবারও হামলা চালিয়েছে। বারবার। বারবার।’
আলবানিজ বলেন, ‘পশ্চিম তীরে সেনা ও বসতিস্থাপনকারীরা পানির পাইপ কেটে দিচ্ছে, আর কুসরার অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চলছে এবং সেই সঙ্গে চলছে হত্যাকাণ্ড। যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইল ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে ৩০০ শিশু রয়েছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘সবচেয়ে অনৈতিক সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ ক্ষমতাসীনরা, ইতিহাসের মতোই, ভুক্তভোগীদের দেখতে বা জীবন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে।’
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পর, সেই যুদ্ধের পর গড়ে ওঠা মানবাধিকারের যুগে, বিষয়টি আরও বেশি ঘৃণ্য।’
তার পোস্টে একটি ছবিও ছিল, যেখানে ফিলিস্তিনি নাগরিক ফাতি খাজেমের মৃত্যুর বিষয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) জেনিনে নিজ বাড়িতে গ্রেফতারের চেষ্টা প্রতিহত করার সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনারা খাজেমের কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে বাধা দেয়। পরে তাকে রক্তক্ষরণে মৃত্যুর জন্য ফেলে রেখে তার মরদেহ নিয়ে যায়।
অধিকৃত পশ্চিমতীরের নাবলুসের দক্ষিণে অবস্থিত ফিলিস্তিনি গ্রাম কুসরার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ও সেনাদের অবরোধের মধ্যে রয়েছে। পানি, বিদ্যুৎ, খাবারসহ মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।
রাম আল-আইন এলাকায় তিনটি বাড়িতে প্রায় ১৫ জন ফিলিস্তিনি আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। সশস্ত্র ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা বাড়িগুলো ঘিরে রেখেছে। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনারা সেখানে অবস্থান নিয়ে এলাকাটিকে ‘বন্ধ সামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে।
চাপের মুখেও পরিবারগুলো বাড়ি ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, হামলা ও অবরোধের উদ্দেশ্য হলো তাদের নিজেদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা।
কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি জানিয়েছেন, ইসরাইলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীরা পরিবারগুলোকে বাড়িতে প্রবেশ বা বের হতে বাধা দিচ্ছে। একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি দখল করে সেটিকে সামরিক অবস্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
কুসরার সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় পরিবারগুলো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সীমিত মজুত পানি ব্যবহার করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও কুসরার পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ঘটনাটিকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখেছে।
কুসরায় অবরোধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা, বাড়িঘরে আক্রমণ, পাথর নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ করে আসছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে পশ্চিম তীরে ২ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টও কুসরার পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই অবরোধকে কথিত জাতিগত নির্মূলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছেন।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরাইল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।
গাজায়ও ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আলবানিজ। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ শিশু রয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির পরও প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত থাকা প্রমাণ করে যে, এই যুদ্ধবিরতি ফিলিস্তিনিদের কার্যকর সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
আলবানিজ গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিতে ‘পালভারাইজেশন’ বা গুঁড়িয়ে দেওয়ার শব্দ ব্যবহার করেছেন। তার মতে, সংঘাতের কারণে পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি পণ্যের সংকট এবং মানবিক সহায়তার ওপর বিধিনিষেধও অব্যাহত রয়েছে।
আলবানিজ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, গাজার সংকটকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের বৃহত্তর দখলদারত্বের প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। তার মতে, গাজা থেকে পশ্চিম তীর পর্যন্ত ফিলিস্তিনিরা সামরিক শক্তি প্রয়োগ, বাস্তুচ্যুতি, বসতি সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় সম্পদে প্রবেশাধিকারের ওপর বিধিনিষেধের মতো পরস্পর সম্পর্কিত নীতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
কুসরার অবরোধ তাই নিজেদের ভূমিতে টিকে থাকার ফিলিস্তিনি সংগ্রামের আরেকটি প্রতীক হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আলবানিজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি শুধু উদ্বেগ প্রকাশের বাইরে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘনের জন্য কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ