ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পঙ্খীরাজ নদী ও খালগুলো পুনরুদ্ধারের দাবি


সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পঙ্খীরাজ নদী ও খালগুলো পুনরুদ্ধারের দাবি

সোনারগাঁওয়ের নদী-খাল রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসন সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় বক্তারা সেখানকার ঐতিহাসিক পঙ্খীরাজ নদী এবং এর আশেপাশের খালগুলো পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

তারা পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে, সোনারগাঁওয়ের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে অল্প বৃষ্টিতে চরম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, ফলে স্থানীয়রা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন।

আজ অনুষ্ঠিত ‘নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পঙ্খীরাজ নদীসহ অন্যান্য নদী ও খাল রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব দাবি ও বক্তব্য রাখেন। সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’র উদ্যোগে এটি আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

বক্তারা এ সময় আরো জানালেন, সোনারগাঁওয়ে একসময় শতাধিক খাল ছিল, কিন্তু কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই খালগুলো অবৈধ দখলদারদের হাতে দখল হয়ে গেছে। পাশাপাশি, অনেক খালে শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের দূষিত বর্জ্য ফেলায় দূষণের কবলে পড়েছে।

সভায় সংগঠনের আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে, সদস্য সচিব রবিউল হুসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক কবি রহমান মুজিব, লেখক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারী, সাহিত্য নিকেতনের উপদেষ্টা মতিউর রহমান, উদীচী শিল্পগোষ্ঠী সোনারগাঁও শাখার সভাপতি শংকর প্রকাশ, লেখক মোয়াজ্জেনুল হক, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের অর্থ সম্পাদক সেলিম আহমেদ প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাখখার সাগর, সাংবাদিক এরশাদ হুসাইন এবং কামরুল ইসলাম পাপ্পু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সোনারগাঁওকে ঘিরে মেঘনা, শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদী রয়েছেন। বর্তমানে শীতলক্ষ্যা এবং ব্রহ্মপুত্র নদী দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। যদিও মেঘনার প্রবাহ বর্তমানে কোনোরকমে স্বাভাবিক রয়েছে, তবে এটি যেকোনো সময় দূষণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিলের কাছে ক্ষমা চেয়ে আর্জেন্টিনার প্রশংসায় জাপান কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


ব্রাজিলের কাছে ক্ষমা চেয়ে আর্জেন্টিনার প্রশংসায় জাপান কোচ

মাঠে নামার আগে যেন একটি লড়াই শুরু হলো, কথার লড়াই। যদিও জাপানের কোচের মন্তব্যের প্রতি এখনো পর্যন্ত ব্রাজিলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে আসুন শুনে নেওয়া যাক জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসুর কি বক্তব্য।

জাপান এখন শেষ ৩২-এ ব্রাজিলের বিপরীতে লড়াই করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৯ জুনের ঐ ম্যাচ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে মরিয়াসু বলেন, প্রতিপক্ষ ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হলেও তাদের পরাজিত করা এখন আমাদের জন্য সহজ হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রীতি ম্যাচে প্রমাণ করেছি, আমাদের হারানো এই সময় আর সহজ নয়। এটি আমাদের জন্য বড় অগ্রগতি। ব্রাজিল আসলে বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দল, আমরা তাদের প্রতি সম্মান রাখি। তবে ম্যাচে কি ঘটবে, তা আগে থেকে কেউ বলে দিতে পারে না। আমাদেরও জেতার সমান সুযোগ থাকবে।’

ব্রাজিল এবং জাপানের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচ হয়েছে। এর ১১টি জিতেছে সেলেসাওরা, জাপান জয় পেয়েছে ১টিতে এবং বাকি দুটি ড্র হয়েছে। ‘সূর্যোদয়ের দেশ’ সর্বশেষ দেখায় ৩-২ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে।

এই আত্মবিশ্বাস থেকেই প্রতিপক্ষকে হারানোর লক্ষ্যে মরিয়াসু একটি ধরণের হুংকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। ব্রাজিল নিখুঁত একটি দল। কিন্তু আমি নিশ্চিত, আমাদেরও জেতার এবং পরের ধাপে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তবে মরিয়াসুর হুংকারের বাইরেও একটি মন্তব্য যা ব্রাজিলকে আঘাত করতে পারে। তিনি আর্জেন্টিনাকে ভালো দলের একটি সার্টিফিকেট দিয়েছেন। তবে তা বলার জন্য তিনি ব্রাজিলের কাছে ক্ষমা চাইছেন। ৫৭ বছর বয়সী কোচ বলেন, ‘আমি এখন চোখ বন্ধ করে আশা করব, এখানে অন্য কোনো দেশের সাংবাদিক নেই। কিন্তু আমি বলব, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দারুণ খেলছে। তবে এই কথা বলার জন্য ব্রাজিলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুর মেডিকেলের সেবার মানোন্নয়নে নির্দেশনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


ফরিদপুর মেডিকেলের সেবার মানোন্নয়নে নির্দেশনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দিনের শেষে হাসপাতালের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা।

তিনি আরও বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা হাসপাতাল সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না। হাসপাতালের প্রবেশদ্বার থেকে ভেতরের প্রতিটি কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবগত থাকতে হবে। অন্যথায়, সেই কমিটি ব্যর্থ বলে বিবেচিত হবে।

আজ শুক্রবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। সম্প্রতি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসাবে মনোনীত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সংবর্ধনা দেয়।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা না পাওয়ায় কোনো রোগীকে যদি ঢাকায় স্থানান্তর করতে হয়, তবে সেটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতার পরিচায়ক। তবে যে ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা হাসপাতালের নেই, সেই ক্ষেত্রে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোই যথাযথ।

শামা ওবায়েদ বলেন, হার্টের রোগী হোক, সর্দি-কাশি বা নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা—যে সমস্যা রেখেই রোগী আসুক না কেন, যদি আমরা তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে সভাপতি হিসেবে আমার থাকার কোনো অর্থ থাকে না। একইভাবে, ব্যবস্থাপনা কমিটিরও প্রয়োজনীয়তার মধ্যে থাকে।

তিনি বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাজেট সংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে এটি কেবল এই হাসপাতালের নয়, বরং সারা দেশের বাস্তবতা। বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার, দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ করা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই হাসপাতালের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ‘কেউ যাতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হাসপাতাল থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, তা আমি শতভাগ নিশ্চিত করব।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ অবদান রাখার জন্য সবার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

শামা ওবায়েদ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রাপ্যতা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলরুবা জেবা, হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ন কবির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় হাসপাতালে পৌঁছালে শামা ওবায়েদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইডেনকে নকআউটে তুলেও নিজের দল বাদ পড়েছে ভেবেছিলেন ম্যাচের নায়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ পি.এম


সুইডেনকে নকআউটে তুলেও নিজের দল বাদ পড়েছে ভেবেছিলেন ম্যাচের নায়ক

গতকাল জাপানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সুইডেন তৃতীয়সেরা ৮ দলের একটি হয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। সুইডেনের গোলটি করেন অ্যান্তোনি এলেঙ্গা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন তিনি।

এলেঙ্গা ভেবেছিলেন তার দল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে। এ কারণে শেষ বাঁশি বাজার পর তিনি বসে পড়েন এবং তাকে খুব হতাশ মনে হচ্ছিল। এই অভিব্যক্তি দেখে দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েন সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার। কোচ পটার প্রথমে বুঝতে পারেননি এলেঙ্গা কেন এত হতাশ।

সংবাদ সম্মেলনে পটার পরে বিষয়টি বুঝিয়ে দেন। তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘বিষয়টা ওর জন্য এর চেয়ে আর পরিষ্কার করে বোঝানো সম্ভব ছিল না। স্পষ্টতই তখন ওর মাথায় অন্য কিছু চলছিল, বেচারা। এই মুহূর্তে আমি ওকে খুবই পছন্দ করি।’

এলেঙ্গার সতীর্থ আলেক্সান্ডার ইসাক বলেন, ‘আমি ওকে একটু বকেছি। ম্যাচ শেষে ও একটু হতাশ হয়ে পড়েছিল, আর এখন বুঝতে পারছেন কেন এমনটা হয়েছিল।’

শেষ ৩২-এ সুইডেনের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্রান্স, নরওয়ে, জার্মানি বা সুইজারল্যান্ডের কেউ। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছেন না পটার। তিনি শিষ্যদের প্রস্তুত করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। পটার বলেন, ‘আমরা শেষ ৩২-এ উঠতে পেরে আনন্দিত। এখন প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, আমরা জানি আমাদের সামনে একটি শক্তিশালী দল থাকবে। তাই সেই অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে বাড়ছে ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


বিশ্বকাপে বাড়ছে ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত

বিশ্বকাপের শুরুতে প্রশ্ন উঠেছিল, এবারের আসরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কি আগের তুলনায় ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে? এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর দর্শক, খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করা হবে এবং কোনটিতে করা হবে না।

ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে পেনাল্টির দাবি, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের বাতিল হওয়া গোল কিংবা ইকুয়েডরের বিপক্ষে জার্মানির প্রথম গোল। সব মিলিয়ে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এবারের বিশ্বকাপে ভিএআরের ব্যবহারের হার ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের সঙ্গে প্রায় একই। ইংল্যান্ডে গত মৌসুমে প্রতি ম্যাচে গড়ে ভিএআর ব্যবহার হয়েছিল ০.২৯ বার, আর বিশ্বকাপে তা ০.২৮। মাঠের রেফারিকে পর্দায় গিয়ে সিদ্ধান্ত দেখতে হয়েছে ইংল্যান্ডে গড়ে ০.১৫ বার, বিশ্বকাপে সেই সংখ্যা ০.১৭।

আসর যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে ভিএআরের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড ধরে রাখা সহজ নয়।

রেফারিদের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ফুটবল যেন গতি এবং শারীরিক লড়াইয়ের সৌন্দর্য ধরে রাখে। তার মতে, সব ধরনের শারীরিক সংস্পর্শ ফাউল নয়। ফলে মাঠে যদি আরও বেশি কঠিন ট্যাকল খেলার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে ভিএআরকে সেই মানদণ্ডে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর তখন কোন ভুলকে ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ বলা হবে, সেটি নির্ধারণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

এই সমস্যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা গেছে চলতি সপ্তাহে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ঘানার প্রিন্স কওয়াবেনা আদুকে বেপরোয়া ট্যাকল করেছিলেন এজরি কনসা। অনেকের মতে সেটি স্পষ্ট পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ভিএআরের ব্যবহার হয়নি। ম্যাচ শেষে ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ তা নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, “মনে হয় ভিএআর তখন কফি খেতে গিয়েছিল।”

পরদিন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের একটি গোল বাতিল হয়। কারণ, গোল হওয়ার পূর্বে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের বিরুদ্ধে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। অথচ রিপ্লেতে দেখা যায়, বরং স্কটল্যান্ডের জ্যাক হেনড্রিই আগে ভিনিসিয়াসকে আঘাত করেছিলেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ভিএআর ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট পরিষ্কার পরিস্থিতি ছিল না।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচে। জার্মানির প্রথম গোলের আগে আলেক্সান্দার পাভলোভিচের উঁচু পা সরাসরি পেদ্রো ভিতের মাথায় লাগে। অনেকের মতে, এটি স্পষ্ট ফাউল হওয়া উচিত ছিল এবং গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি।

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, “বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলোয়াড়ই এই দৃশ্য দেখে বলবে, এটি প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক ছিল, এটি ফাউল। সিদ্ধান্তটি ভুল হয়েছে।”

সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড এলেন হোয়াইটও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি অবাক হয়েছি, ঘটনাটি অন্তত পুনরায় দেখা হলো না।”

তবে একই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানিকে দেওয়া একটি পেনাল্টি ভিএআরের পরামর্শে বাতিল করা হয়। কারণ, আক্রমণ শুরুর আগে মাঝমাঠে লেরয় সানের ফাউল ধরা হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে যে যদি সেই ফাউল ধরা যায়, তাহলে পাভলোভিচের বিপজ্জনক ট্যাকল কেন উপেক্ষিত হলো। এমন সিদ্ধান্তগুলো থেকেই অসামঞ্জস্যের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত খুব কমই গিয়েছে। ব্রাজিলের বাতিল হওয়া গোল এবং জার্মানির বাতিল হওয়া পেনাল্টিই একমাত্র উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। অন্যদিকে, সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্স পেনাল্টি না পেলে ভিএআরের পুনরায় দেখতে বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাঠের রেফারিই নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

ভিএআর ব্যবহারের মূল নীতি ছিল ‘সর্বনিম্ন হস্তক্ষেপে সর্বোচ্চ সুফল’। কিন্তু সেটি কার্যকর করার জন্য মাঠের রেফারিদের সিদ্ধান্তও হতে হবে নির্ভুল। বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অন্তত বলছে, সেই লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%