প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের শুরুতে প্রশ্ন উঠেছিল, এবারের আসরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কি আগের তুলনায় ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে? এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রশ্নটি আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর দর্শক, খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করা হবে এবং কোনটিতে করা হবে না।
ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে পেনাল্টির দাবি, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের বাতিল হওয়া গোল কিংবা ইকুয়েডরের বিপক্ষে জার্মানির প্রথম গোল। সব মিলিয়ে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের বিশ্বকাপে ভিএআরের ব্যবহারের হার ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের সঙ্গে প্রায় একই। ইংল্যান্ডে গত মৌসুমে প্রতি ম্যাচে গড়ে ভিএআর ব্যবহার হয়েছিল ০.২৯ বার, আর বিশ্বকাপে তা ০.২৮। মাঠের রেফারিকে পর্দায় গিয়ে সিদ্ধান্ত দেখতে হয়েছে ইংল্যান্ডে গড়ে ০.১৫ বার, বিশ্বকাপে সেই সংখ্যা ০.১৭।
আসর যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে ভিএআরের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড ধরে রাখা সহজ নয়।
রেফারিদের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ফুটবল যেন গতি এবং শারীরিক লড়াইয়ের সৌন্দর্য ধরে রাখে। তার মতে, সব ধরনের শারীরিক সংস্পর্শ ফাউল নয়। ফলে মাঠে যদি আরও বেশি কঠিন ট্যাকল খেলার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে ভিএআরকে সেই মানদণ্ডে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর তখন কোন ভুলকে ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ বলা হবে, সেটি নির্ধারণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সমস্যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখা গেছে চলতি সপ্তাহে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ঘানার প্রিন্স কওয়াবেনা আদুকে বেপরোয়া ট্যাকল করেছিলেন এজরি কনসা। অনেকের মতে সেটি স্পষ্ট পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ভিএআরের ব্যবহার হয়নি। ম্যাচ শেষে ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ তা নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, “মনে হয় ভিএআর তখন কফি খেতে গিয়েছিল।”
পরদিন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের একটি গোল বাতিল হয়। কারণ, গোল হওয়ার পূর্বে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের বিরুদ্ধে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। অথচ রিপ্লেতে দেখা যায়, বরং স্কটল্যান্ডের জ্যাক হেনড্রিই আগে ভিনিসিয়াসকে আঘাত করেছিলেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ভিএআর ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট পরিষ্কার পরিস্থিতি ছিল না।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচে। জার্মানির প্রথম গোলের আগে আলেক্সান্দার পাভলোভিচের উঁচু পা সরাসরি পেদ্রো ভিতের মাথায় লাগে। অনেকের মতে, এটি স্পষ্ট ফাউল হওয়া উচিত ছিল এবং গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি।
ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, “বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলোয়াড়ই এই দৃশ্য দেখে বলবে, এটি প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক ছিল, এটি ফাউল। সিদ্ধান্তটি ভুল হয়েছে।”
সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড এলেন হোয়াইটও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি অবাক হয়েছি, ঘটনাটি অন্তত পুনরায় দেখা হলো না।”
তবে একই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানিকে দেওয়া একটি পেনাল্টি ভিএআরের পরামর্শে বাতিল করা হয়। কারণ, আক্রমণ শুরুর আগে মাঝমাঠে লেরয় সানের ফাউল ধরা হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে যে যদি সেই ফাউল ধরা যায়, তাহলে পাভলোভিচের বিপজ্জনক ট্যাকল কেন উপেক্ষিত হলো। এমন সিদ্ধান্তগুলো থেকেই অসামঞ্জস্যের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত খুব কমই গিয়েছে। ব্রাজিলের বাতিল হওয়া গোল এবং জার্মানির বাতিল হওয়া পেনাল্টিই একমাত্র উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। অন্যদিকে, সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্স পেনাল্টি না পেলে ভিএআরের পুনরায় দেখতে বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাঠের রেফারিই নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
ভিএআর ব্যবহারের মূল নীতি ছিল ‘সর্বনিম্ন হস্তক্ষেপে সর্বোচ্চ সুফল’। কিন্তু সেটি কার্যকর করার জন্য মাঠের রেফারিদের সিদ্ধান্তও হতে হবে নির্ভুল। বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অন্তত বলছে, সেই লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন