১১:৫১ এম
পাকিস্তানের লাহোর শহরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের সাথে যুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির আত্মীয় হিসাবে পরিচিত।
শুক্রবার পুলিশের দেয়া তথ্য অনুসারে, গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন মুহাম্মদ রাজা দার, হাসান রাজা, সিকান্দার খান এবং সাজিদ আলী। তাদেরকে লাহোরের এক আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদেরকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার, লাহোর পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৬৫এ ধারা (অপহরণ) এবং ৩৭৫এ ধারা (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ) অনুযায়ী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের
মামলার আরো একজন সন্দেহভাজন এখনো পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত মুহাম্মদ রাজা দার, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আত্মীয় বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনায় উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদের পরিবারের সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং তাই এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর একজন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক এবং অন্যজন ভেনেজুয়েলার নাগরিক। অপরদিকে ঘটনার পর একজন ভুক্তভোগীর বাবা স্পেন থেকে ফোন করে পাকিস্তান পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে, বৃহস্পতিবার লাহোর পুলিশ অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে। সে অনুযায়ী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ একই সাথে পঞ্চম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
এছাড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই নারী ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রাজা দারের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে পরিচিত হন। ব্যবসায়িক যোগাযোগের কারণে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা তিনজনই একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্রেই রাজা দার তাদের পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং পরে তাদের জন্য ব্যবসায়িক ভিসার ব্যবস্থা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, লাহোরে পৌঁছানোর পর তাদেরকে একটি স্থানে বন্দি রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার করা হয় এবং পরে মুক্তিপণের জন্য দাবি করা হয়। আদালতের একজন কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তদের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করার সময় দুই ভুক্তভোগী নারী প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মুহাম্মদ রাজা দারকে শনাক্ত করেন। পুলিশ পুরো ঘটনার সকল দিক তদন্ত করার চেষ্টা করছে এবং প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি আরব রুটে ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল, ২০ হাজার যাত্রী আটকে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন